‘হাসপাতালে নেয়ার পথেই অর্ধেকের বেশি বন্দির মৃত্যু’, ‘স্বাস্থ্য খাতের ৮৭৯ গাড়ি গ্যারেজবন্দি’

১ সপ্তাহে আগে
প্রতিদিন পাঠকের কাছে দেশের আলোচিত ঘটনা, রাজনৈতিক উত্তাপ, অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, সমাজের পরিবর্তন এবং বিশ্বমঞ্চের নতুন বার্তা তুলে ধরে সংবাদপত্রগুলো। তথ্যপিপাসুদের তথ্যের চাহিদা মেটাতে সময় সংবাদ দেশের প্রধান প্রধান সংবাদপত্রের গুরুত্বপূর্ণ শিরোনাম পাঠকের সামনে তুলে ধরছে। এক নজরে জেনে নিন দেশের প্রধান সংবাদপত্রগুলোর প্রতিবেদন।

দেশের শীর্ষস্থানীয় জাতীয় পত্রিকায় মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) প্রকাশিত কিছু খবর নিচে তুলে ধরা হলো।

 

হাসপাতালে নেয়ার পথেই অর্ধেকের বেশি বন্দির মৃত্যু - দৈনিক কালের কণ্ঠে প্রকাশিত সংবাদ এটি।


প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘রাখিব নিরাপদ, দেখাব আলোর পথ’- কারা বিভাগের এই স্লোগান বন্দিদের মানবিক অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অঙ্গীকারের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। কিন্তু বাস্তবতা বলছে ভিন্ন কথা। দেশের বিভিন্ন কারাগারে অসুস্থ বন্দিদের চিকিৎসাসেবায় মারাত্মক সংকট দেখা দিয়েছে। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সুবিধা ও পর্যাপ্ত অ্যাম্বুলেন্স না থাকায় অনেক বন্দিই হাসপাতালে পৌঁছার আগেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছেন।


 

 


কারা অধিদফতরের তথ্য, ২০২১ সাল থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত গত পাঁচ বছরে ৯০৭ জন বন্দি মারা গেছেন। এর মধ্যে ২০২১ সালে ২১১ জন, ২০২২ সালে ১৩৯ জন, ২০২৩ সালে ২৩২ জন, ২০২৪ সালে ১৮৯ জন এবং ২০২৫ সালে ১৩৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এসব মৃত্যুর মধ্যে হাসপাতালে নেয়ার পথেই মৃত্যু হয়েছে ৪৯০ জনের। এ সংখ্যাটা মোট মৃত্যুর অর্ধেকের বেশি।


স্বাস্থ্য খাতের ৮৭৯ গাড়ি দুই বছর ধরে গ্যারেজবন্দি - দৈনিক সমকালের প্রধান খবর এটি। 


প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, স্বাস্থ্য বিভাগের একটি প্রকল্পের আওতায় কেনা হয়েছিল ৮৭৯টি গাড়ি। সেই প্রকল্প শেষ হয়েছে প্রায় দুই বছর হলো। সেই থেকে গাড়িগুলো বসে আছে। কোনোটা এখন গ্যারেজবন্দি, কোনোটা খোলা জায়গায় পড়ে আছে। অযত্ন-অবহেলায় নষ্ট হতে থাকা সরকারি এসব গাড়ি সচল করার কার্যকর উদ্যোগ নেই।


 

 


এই গাড়িগুলো স্বাস্থ্য, পরিবার পরিকল্পনা ও ঔষধ প্রশাসন অধিদফতরের। এগুলো ফেলে রাখায় শিশুদের টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই), যক্ষ্মা ও ম্যালেরিয়া নিয়ন্ত্রণের মতো জনগুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমে মাঠ পর্যায়ের তদারকিতে ধাক্কা লেগেছে। রোগ নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি ব্যাহত হওয়ায় বাড়ছে সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকিও।

 

পাম্পে পাম্পে দীর্ঘ লাইন, সংকট ব্যবস্থাপনারও - দৈনিক মানবজমিনের প্রধান খবর এটি।


প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় শুরু থেকেই একের পর এক উদ্যোগ নেয় সরকার। ভোগান্তি কমাতে রেশনিং পদ্ধতিতে তেল বিক্রি, ফুয়েল কার্ড তৈরি, কর্মঘণ্টা কমানো, ট্যাগ অফিসার নিয়োগ, সরবরাহ বাড়ানো হয়। জ্বালানিতে কোটি কোটি টাকা দেয়া হয় ভর্তুকি। কিন্তু তাতেও আসেনি সমাধান। সবশেষে বাধ্য হয়েই জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় সরকার। এতে উল্টো অস্থিরতা আরও বেড়ে যায়। জ্বালানির দাম বৃদ্ধির রেশ পড়ে জনজীবনে। ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করছেন সংকট রয়েছে ব্যবস্থাপনায়ও।


 

 

 

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের জেরে মার্চের প্রথম সপ্তাহে তেলের সংকট শুরু হয়। গত ৫ই মার্চ প্রথমবার রাজধানীর একাধিক পাম্প তেলের সংকট দেখিয়ে বন্ধ করে রাখা হয়। দীর্ঘমেয়াদে যাতে দেশে জ্বালানির সংকট না হয়, সেজন্য গত ৮ই মার্চ থেকে রেশনিং পদ্ধতিতে জ্বালানি তেল বিক্রি শুরু হয়। রমজান ও ঈদযাত্রায় রেশনিং পদ্ধতির নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। ঈদযাত্রায় মানুষের ভোগান্তি ঠেকাতে ও সেচের ডিজেলের চাহিদা পূরণে জ্বালানি তেল বিক্রির সীমা তুলে নেয় সরকার। ১১ই মার্চ থেকে বিভাগীয় শহরের ফিলিং স্টেশনে ১০ শতাংশ সরবরাহ বাড়ানো হয়।

 

ঝুঁকিতে গুম কমিশনের স্পর্শকাতর তথ্যপ্রমাণ - দৈনিক যুগান্তরের প্রধান শিরোনাম এটি। 


প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, সদ্যবিলুপ্ত গুম কমিশনের অতি গোপনীয় নথিপত্র এবং বেশকিছু স্পর্শকাতর তথ্যপ্রমাণ একধরনের সংরক্ষণ ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। আইনগতভাবে কোন দপ্তরে এসব গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্ট সংরক্ষণ করা হবে, এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনাও নেই। এ কারণে এসব আলামত অনেকটা অভিভাবকহীনভাবে মানবাধিকার কমিশনে পড়ে আছে।


 

 

 

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যদি কোনো কারণে এসব তথ্যপ্রমাণ আংশিক বা সম্পূর্ণভাবে খোয়া যায়, তাহলে গুম সংক্রান্ত মামলার তদন্ত ও বিচার বাধাগ্রস্ত হতে পারে। বিশেষ করে সত্যিকারার্থে যারা গুমের সঙ্গে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে প্রাপ্ত অনেক গুরুত্বপূর্ণ ডিজিটাল ডকুমেন্ট নতুন করে সংগ্রহ করা কঠিন হবে।

]]>
সম্পূর্ণ পড়ুন