এ ঘটনায় সাংবাদিক সহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে।
বৃহস্পতিবার (৬ মার্চ) বিকেলে সদর উপজেলার সিদ্ধিরগঞ্জ থানার আদমজী এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ ও সেনাবাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আদমজী ইপিজেডে অবস্থিত ইউনিভার্সেল নামে একটি গার্মেন্টস কারখানার ঝুট ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নারায়ণগঞ্জ মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি রাকিবুর রহমান সাগর ও রুহুল আমিন নামে এক বিএনপি নেতার সহযোগীদের মধ্যে দুপুরে বিবাদ সৃষ্টি হয়। তখন রুহুলের সহযোগীরা ইপিজেডের ভেতরেই সাগরের সহযোগীদের কুপিয়ে জখম করে।
আরও পড়ুন: মাদারীপুরে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দোকানে ঢুকে গেল ট্রাক, আহত ২
এর জের ধরে বিকেলে উভয়পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় ধাওয়া পালটা ধাওয়া গুলিবর্ষণসহ ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের সময় তোফাজ্জল হোসেন নামে স্থানীয় এক গণমাধ্যম কর্মীসহ উভয়পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হন। এছাড়া এক গণমাধ্যম কর্মীর মোটরসাইকেলসহ মোট তিনটি মোটরসাইকেল আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়া হয়।
আহত গণমাধ্যমকর্মী তোফাজ্জল হোসেনের স্বজনরা জানান, তোফাজ্জলের অবস্থা সংকটাপন্ন। ধারণা করা হচ্ছে তার হাত এবং কোমরের হাঁড় ভেঙে গেছে। তিনি নড়াচড়া করতে পারছেন না। তাকে শহিরের খানপুর ৩০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। পরীক্ষা নিরীক্ষার পর তার শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে নিশ্চিত করে বলা যাবে।
সংঘর্ষের বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ মহানগর ছাত্রদলের সাহেব সভাপতি রাকিবুর রহমান সাগর গণমাধ্যম কর্মীদের বলেন, ‘ব্যবসা নিয়ে পূর্ব শত্রুতার জেরে আজ বিকেল চাটার দিকে আওয়ামী লীগ নেতা মতির লোক রুহুল আমিন, সাজ্জাদ, পাকনা বাবু ও রেহান সাহেবের নাতি শাকিলের নেতৃত্বে হামলা করা হয়। এসময় সাবেক ছাত্রদল নেতা মোহন, মানিকসহ ৪-৫ জনকে কুপিয়ে জখম করা হয়। পরে তারা আদমজীর পুরান থানার সামনে ৩-৪টি মোটরসাইকেল পুড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি আমার কয়েকজন লোককে মারধর করে আহত করেন। পাশাপাশি আমার অনুসারীদের লক্ষ্য করে প্রকাশ্যে গুলি ছোড়ে। বর্তমানে আহতরা বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।’
আরও পড়ুন: পুলিশের অভিযানে মাদক কারবারিদের হামলা, হাসপাতালে এএসআই
তবে এ বিষয়ে অপরপক্ষ বিএনপি নেতা রুহুল আমিনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।
সংঘর্ষের বিষয়ে জানতে চাইলে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহিনূর আলম বলেন, ‘আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেছি। প্রচুর ইটপাটকেল ছোড়াছুড়ি হয়েছে। আমাদের ফোর্স ও সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়।’ সংঘর্ষের ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হবে হলেও জানান তিনি।