শুক্রবার (৪ এপ্রিল) এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে।
বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যখন দুই দিনের সফরে থাইল্যান্ড রয়েছেন, তার মধ্যেই এই অঞ্চলের কৌশলগত উন্নয়নের ওপর নিবিড় নজর রাখছে নয়াদিল্লি।
এদিকে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে ইন্ডিয়া টুডে বলছে, থাইল্যান্ডে বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদির মধ্যে ব্যক্তিগতভাবে সাক্ষাৎ হয়েছে কি না, তা এখনও জানা যায়নি। তবে থাই প্রধানমন্ত্রীর আয়োজিত একটি রাষ্ট্রীয় নৈশভোজে তাদের দু’জনকে পাশাপাশি বসে থাকতে দেখা গেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যদি দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হয়, তাহলে গত বছরের আগস্টে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণের পর এটি হবে নরেন্দ্র মোদি এবং ড. ইউনূসের মধ্যে প্রথম সরাসরি সাক্ষাৎ।
আরও পড়ুন: প্রথমবারের মতো দেখা হলো ইউনূস-মোদির, নৈশভোজে বসলেন পাশাপাশি
তবে এটি এমন সময়ে হচ্ছে যখন, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ শিলিগুড়ি করিডরের নিরাপত্তা নিয়ে ভারতে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গের এই সংকীর্ণ ভূমি উত্তর-পূর্ব রাজ্যগুলোকে ভারতের বাকি অংশের সাথে সংযুক্ত করে এবং নেপাল, বাংলাদেশ, ভুটান এবং চীনের সাথে এর সীমানা রয়েছে। বলা হচ্ছে, সাম্প্রতিক ভূ-রাজনৈতিক পরিবর্তনের পরিপ্রেক্ষিতে ভারত এই গুরুত্বপূর্ণ করিডরটিকে রক্ষা করার জন্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে।
ভারতীয় সেনাবাহিনী শিলিগুড়ি করিডরকে তাদের সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতিরক্ষা লাইন হিসেবে বর্ণনা করেছে, যা উন্নত সামরিক প্রস্তুতির মাধ্যমে যেকোনো সম্ভাব্য হুমকি মোকাবিলা করতে পারে। এই করিডরের কাছে সুকনায় ত্রিশক্তি কর্পসের সদর দফতর অবস্থিত, যা এই অঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
এই কর্পসটি রাফায়েল যুদ্ধবিমান, ব্রহ্মোস ক্ষেপণাস্ত্র এবং উন্নত বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাসহ অত্যাধুনিক অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত। ভারতীয় সেনাপ্রধানের সাম্প্রতিক বক্তব্য শিলিগুড়ি করিডরের নিরাপত্তার বিষয়ে ভারতের অবস্থানকে আরও জোরদার করেছে।
আরও পড়ুন: আমরাও আক্রমণাত্মক হতে পারি: ভারতের সেনাপ্রধান
তিনি জোর দিয়ে বলেন, চিকেন’স নেক ভারতের সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক অঞ্চল, যেখানে যেকোনো হুমকির ক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গ, সিকিম এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বাহিনীকে দ্রুত মোতায়েন করা যেতে পারে।
বহু-স্তরযুক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা
ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনী এই অঞ্চলে নিরাপত্তা বৃদ্ধির জন্য ব্যাপক পদক্ষেপ নিয়েছে। ভারতীয় বিমান বাহিনী হাশিমারা বিমানঘাঁটিতে মিগ বিমানের পাশাপাশি রাফায়েল যুদ্ধবিমানের একটি স্কোয়াড্রন মোতায়েন করেছে। এছাড়াও, সম্ভাব্য হুমকি মোকবিলায় করিডরে ব্রহ্মোস সুপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের একটি রেজিমেন্ট মোতায়েন করেছে ভারত।
আকাশপথে যেকোনো অনুপ্রবেশ রোধ করার জন্য এই অঞ্চলে মোতায়েন করা হয়েছে এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থাও। ‘এমআরএসএএম’ এবং ‘আকাশ’ বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও রয়েছে।
আরও পড়ুন: ভারতে যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত, পাইলটের মৃত্যু
এছাড়া ত্রিশক্তি কর্পস প্রায়শই যুদ্ধ মহড়া পরিচালনা করে আসছে, যার মধ্যে রয়েছে টি-৯০ ট্যাঙ্কের সাথে লাইভ-ফায়ার ড্রিল, যাতে অপারেশনাল প্রস্তুতি বৃদ্ধি পায়।
সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে
]]>