রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরও বলেছেন, রমজান মাসের প্রথম দশক রহমতের, দ্বিতীয় দশক মাগফিরাতের, এবং শেষ দশক জাহান্নাম থেকে মুক্তির।” (সুনান আল-বায়হাকি, হাদিস: ৩৪৫৭)
প্রথম দশক: রহমতের দ্বার উন্মোচন
রমজানের প্রথম দশক আল্লাহর অফুরন্ত রহমতের সময়। এই সময় মুমিনদের জন্য রহমতের দুয়ার উন্মুক্ত করা হয়। আল্লাহ তাআলা বলেন,
আমার রহমত সবকিছুকে পরিবেষ্টন করেছে। (সুরা আল-আ’রাফ: ১৫৬)
আরও পড়ুন: রোজাদারকে ইফতার করানোর ফজিলত
রমজানে মুসলিমদের উচিত নিজেদের আত্মশুদ্ধি করা, বেশি বেশি ইবাদত করা ও আল্লাহর রহমতের আশায় দোয়া করা। কুরআন তিলাওয়াত, নফল নামাজ ও দান-সদকা এই সময়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আমল। নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজেও রমজানে অধিক ইবাদতে মনোনিবেশ করতেন এবং সাহাবীদেরও বেশি বেশি নেক আমলের প্রতি উৎসাহিত করতেন।
দ্বিতীয় দশক: মাগফিরাতের সন্ধান
রমজানের দ্বিতীয় দশক মাগফিরাত বা গুনাহ মাফের সময়। এই সময় আল্লাহ তার বান্দাদের জন্য ক্ষমার দরজা খুলে দেন। মহানবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, রমজান মাসে যে ব্যক্তি আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করবে, সে অবশ্যই ক্ষমা লাভ করবে।
তাই আমাদের উচিত রমজানে বেশি বেশি ইস্তেগফার করা, তাহাজ্জুদ নামাজ পড়া এবং অতীতের গুনাহগুলোর জন্য আল্লাহর দরবারে কান্নাকাটি করা। এই সময় দান-সদকা বৃদ্ধি করলে গুনাহ মাফের সম্ভাবনা আরও বেড়ে যায়। রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
যে ব্যক্তি ক্ষমা প্রার্থনা করবে, আল্লাহ তাকে ক্ষমা করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর দরবারে খাঁটি অন্তরে তওবা করবে, আল্লাহ তাকে জান্নাতের সুসংবাদ দেবেন। (তিরমিজি: ৩৫৩৭)
শেষ দশক: নাজাতের উপহার ও কদরের রাত
রমজানের শেষ দশক হলো নাজাতের বা জাহান্নাম থেকে মুক্তির দশক। এই সময় সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয় ইবাদত-বন্দেগির ওপর। কারণ এই সময়েই রয়েছে লাইলাতুল কদর, যা হাজার মাসের চেয়েও উত্তম।
আল্লাহ তাআলা বলেন, লাইলাতুল কদর হাজার মাসের চেয়ে উত্তম। (সুরা আল-কদর: ৩)
এই সময় অনেক মুসলিম ইতিকাফে বসেন এবং পূর্ণরূপে ইবাদতে মশগুল থাকেন। রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রতি বছর এই দশকে ইতিকাফ করতেন এবং তার পরিবার ও সাহাবীদেরও ইতিকাফে উৎসাহিত করতেন। তিনি বলেছেন, তোমরা রমজানের শেষ দশকে লাইলাতুল কদর অন্বেষণ করো। (সহিহ বুখারি: ২০১৭)
রমজানের শেষ দশকের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই সময় আল্লাহ তাআলা অসংখ্য মানুষকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেন। তাই এই সময়ে বেশি বেশি তওবা, দোয়া ও কুরআন তিলাওয়াতে মনোযোগ দেওয়া উচিত।
আরও পড়ুন: ইফতার কোন সময় করা উত্তম?
রমজান মাস আমাদের জন্য এক মহাসুযোগ। রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের এই মাসে আমাদের উচিত আত্মশুদ্ধির মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা করা। এই মাসের প্রতিটি মুহূর্তকে কাজে লাগিয়ে আল্লাহর নৈকট্য লাভ করা আমাদের কর্তব্য। আল্লাহ আমাদের সবাইকে রমজানের পূর্ণ ফজিলত লাভের তাওফিক দান করুন। আমিন।
লেখক: ফাযেলে দারুল উলুম দেওবন্দ ও নদওয়াতুল উলামা লাখনৌ, মুহাদ্দিস, জামিয়া ইসলামিয়া আহলিয়া নশাসন, শরীয়তপুর
]]>