বৃহস্পতিবার (২০ মার্চ) বার্তা সংস্থা এপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৩ মাস আগে হামাস ও ইসরাইলের যুদ্ধের সময় প্রথম সন্তানের জন্ম দিয়েছিলেন গাজার আফনান আল-ঘানাম। ইসরাইলি হামলায় রাফায় তাদের বাড়িটি ধ্বংস হয়ে গেছে। ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির মধ্যেও একটি নোংরা তাঁবুতে তারা তুলনামূলক ভালো ছিলেন।
মঙ্গলবার সেহরির সময় খান ইউনিসের মুওয়াসি শিবিরে ইসরাইলি যুদ্ধবিমান ওই পরিবারের তাঁবুতে আঘাত হানে। হামলায় সাত মাসের গর্ভবতী আল-ঘানাম এবং তার ছোট ছেলে মোহাম্মদ উভয়ই নিহত হন।
আরও পড়ুন: অধিকৃত গোলান মালভূমিতে সামরিক মহড়ার ঘোষণা ইসরাইলের
গাজার হামাস নিয়ন্ত্রিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মঙ্গলবারের গাজা উপত্যকায় ইসরাইলের আকস্মিক বোমাবর্ষণে ৪০০ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু।
তবে ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর দাবি, হামাসের কাছ থেকে জিম্মিদের মুক্ত করতে এবং গাজার নিয়ন্ত্রণ ত্যাগ করতে বাধ্য করার জন্য তারা গোষ্ঠটির লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে।
গাজার দক্ষিণাঞ্চলীয় খান ইউনিস শহরের নাসের হাসপাতালের মর্গে কাপড়ে মোড়ানো শিশু মোহাম্মদের ছোট্ট দেহটি হাতে নিয়ে আল-ঘানামের স্বামী আলা আবু হেলাল বলেন, ‘তারা (ইসরাইলের) আমাদের লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে। যুদ্ধের সময় কঠিন পরিস্থিতিতে মোহাম্মদ জন্মগ্রহণ করেছিল এবং এই যুদ্ধে শহীদও হলো।’
কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি আরও বলেন, ‘তাদের (ইসরাইল) লক্ষ্যবস্তু নিষ্পাপেরা। । তারা খুব কমই জীবন দেখেছে।’
যুদ্ধের সময় রাফায় আবু হেলালের ঘরটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এখন সেখান থেকে কোনো কিছু লুট হয়েছে কি না; তা দেখতে যান তিনি। ২০ বছর বয়সি এই তরুণ বলেন, ‘আমাকে একা রেখে তারা সবাই চলে গেছে। অনাগত শিশুটিও নিহত হয়েছে।’
আরও পড়ুন: গাজায় ইসরাইলের হামলায় তিন দিনে নিহত ৭১০ ফিলিস্তিনি
এদিকে মঙ্গলবার থেকে ইসরাইলের চালানো হামলায় তিন দিনে গাজায় কমপক্ষে ৭১০ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন অন্তত ৯০০ জন।
বৃহস্পতিবার গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র খলিল আল-ডাকরানকে উদ্ধৃত করে আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, গত তিন দিনে কমপক্ষে ৭১০ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, তাদের মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি নারী ও শিশু।
ইসরাইলি সেনাবাহিনী জানায়, ‘১৯ জানুয়ারি হওয়া যুদ্ধবিরতি বাড়ানো নিয়ে আলোচনায় হামাস রাজি না হওয়ায় তারা নতুন করে হামলা শুরু করে।’