রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কের একপাশে উত্তরার মতো বেশ পরিকল্পিত আবাসিক এলাকা। আর উল্টো পাশটার বাসিন্দাদের জোটে না প্রয়োজনীয় নাগরিক সুবিধার শিকি-ভাগটাও। কাগজে কলমে সিটি করপোরেশনের বাসিন্দা হলেও প্রতিটি সড়কে নিত্যদিনের ভোগান্তি। পড়ে থাকা কাজের কারণে বাড়ছে মশার উপদ্রব আর সঙ্গে ইউটিলিটি সেবা না পেয়েও বছরের পর বছর বিল দিয়ে যাবার তীব্র আক্ষেপ।
বাসিন্দারা বলছেন, সিটি করপোরেশন ট্যাক্স ঠিকই নিচ্ছে। কিন্তু উত্তরখান ও দক্ষিণখানবাসীর ভোগান্তির শেষ নেই। এ এলাকায় বাসবাড়ি করে বিপদে পড়েছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, পরিকল্পিত আধুনিক নগরের স্বপ্ন দেখিয়ে ২০১৬ সালের মে মাসে সাঁতারকুল, বেরাইদ, ডুমনি, মধ্যবাড্ডা, হরিরামপুর, উত্তরখান এবং দক্ষিণখান ইউনিয়ন ভেঙে নতুন করে উত্তর সিটিতে যুক্ত করা হয় ১৮টি নতুন ওয়ার্ড। প্রায় ৯ বছরেও উন্নয়নের ছোঁয়া যেমন লাগেনি বেশিরভাগ এলাকায় তেমনি কাজের মন্থরতা ও মান নিয়েও ক্ষোভের শেষ নেই বাসিন্দাদের।
তারা বলছেন, কিছু কাজ হয়েছিল আবার এখন বন্ধ। বর্ষা ছাড়াই ময়লা ও দুর্গন্ধ পানিতে এলাকা সয়লাব। এ পরিস্থিতিতে বিশেষ রোগীদেরও যাতায়াতে বিপদ বাড়ে।
আরও পড়ুন: বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহর দিল্লি, সুখবর নেই ঢাকার বাতাসেও
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) বলছে , এসব এলাকার সড়কের ভূমি অধিগ্রহণেই প্রায় ১ হাজার ৮৪৭ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
বর্তমান অবস্থা অকপটে স্বীকার করে উত্তর সিটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাসুদ আলম ছিদ্দিক বলেন, ‘আমরা জানি বাসিন্দারদের পর্যাপ্ত নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করতে পরিনি। সমস্যার স্থায়ী সমাধান করতে হলে চলমান উন্নয়ন প্রকল্প শেষ করতে হবে। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে প্রকল্প বাস্তবায়ন হবে বলে আশা করি।’
এদিকে, পরিকল্পিত ক্রমবর্ধমান শহরায়নের কথা মাথায় রেখে সমন্বয়হীন উন্নয়ন না করার উপর গুরুত্ব দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. শামসুল হক বলেন, দুর্ভাগ্য যে, ঢাকার আশপাশে পেরিফেরিতে যে উন্নয়নগুলো হচ্ছে, সেগুলো একেতো পরিকল্পিত না, অন্যদিকে ক্যানসারের মতো বিকাশ ঘটবে। এভাবেই যদি শহর নগরায়ন বাড়তে থাকে, তাহলে পুরো দেশ একটা জঞ্জালে পরিণত হবে।
]]>