রাজধানীর কারওয়ান বাজারে মাছ, মুরগি থেকে শুরু করে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সবই পাওয়া যায়। এর পাশেই রয়েছে রেললাইন। এই অংশটুকু আবার পরিচিত অন্য কারণে। এখানে হাত বাড়ালেই মেলে মাদক!
কারওয়ান বাজারের ফুটপাতে আলু, পেঁয়াজের ব্যবসা করতে করতে পুরো একটি পরিবার জড়িয়ে যায় মাদক ব্যবসার অন্ধকারে। যার মাধ্যমে বিপুল সম্পদের মালিক বনে যাওয়া পরিবারটির বসবাস এখন টঙ্গীর দত্তপাড়া এলাকায়। রয়েছে নিজস্ব ফ্ল্যাট।
অনুসন্ধানে দত্তপাড়ার দীঘিরপাড় এলাকায় সময় সংবাদ। ভরদুপুরে এলাকায় দেখা মেলে কিশোরদের জটলা। তাদের কাছে জানতে চাওয়া হয় কছিমউদ্দিন রোডের ঠিকানা। তাদের দেখানো পথে গিয়ে মেলে না গন্তব্য।
তাদের (মাদক সিন্ডিকেট) নিয়ে বছর তিনেক আগে কাজ করেছেন এমন দুজন পুলিশ সদস্যের সঙ্গে কথা বলে সময় সংবাদ। এবার তাদের দেয়া ঠিকানায় গিয়ে পাওয়া গেলো একটি চারতলা বাড়ি। এই বাড়িটি সাত সদস্যের মাদক সিন্ডিকেটের একজনের। তার নাম রেশমা খাতুন। সিঁড়িতেই কথা হয় রেশমার স্বামী মহিদুলের সঙ্গে।
আরও পড়ুন: মাদক বিক্রির নিরাপত্তায় সড়কজুড়ে সিসি ক্যামেরা!
তিনি বলেন,
পোটলা বিক্রি করত এক হাজার, ৫০০ টাকা থেকে দুই হাজারে। যত সেল হত তত টাকাই তারা পাইত। একসময় সবাই ৮-১০টা মামলা খাইছে। এখন আমরা এখানে ফেরত আসছি।
সিঁড়িতেই কথা হয় আসমা, রেশমা আর লিজার মা নাসিমা বেগমের সঙ্গে। তিনি দিলেন ভিন্ন তথ্য।
তিনি জানান, মেয়ের সঙ্গে তারা আর যোগাযোগ রাখেন না। মেয়ের পরিচয় দেন না তারা।
এই এলাকাতেই আসমার ছয়তলা ভবন আছে। এবার মহিদুলকে নিয়ে আসমার বাড়িতে যায় সময় সংবাদ। মিনিট দশেক চেষ্টা করেও ভেতর থেকে কোনো সাড়া পাওয়া গেলো না।
আরও পড়ুন: মাদক-চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত কাউকেই বিন্দুমাত্র ছাড় নয়: সড়ক প্রতিমন্ত্রী
এসময় হঠাৎ রেশমার ফোন আসে এই প্রতিবেদকের কাছে। তিনি জানান, এক সময় মাদকের ব্যবসা করলেও এখন তারা ভালো হয়ে গেছেন।
তিনি বলেন, আমরা তিনটা বোন, বোন জামাই আমরা পরিস্থিতির শিকার। আমার বয়স এখন চল্লিশ। আজ থেকে ১৫-২০ বছর আগে আমরা ভালো হয়ে গেছি। ৬-৭ বছর হলো আমরা টঙ্গীতে বাড়ি করেছি। আমার বিরুদ্ধে ১০টা মামলা। দেখেন আসলে আছে নাকি।
রেশমার স্বামী মহিদুলের মোবাইল থেকে জাহানারা নামে একজনও ফোন দিয়ে এই প্রতিবেদককে সমাধানের পথ আছে কিনা জানতে চান।
তিনি বলেন,
আগেই ছাইড়েন না (নিউজ)। সরাসরি আর কী কথা কমু। এটার কী কোনো সমাধান নাই?
সিআইডির অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, একই পরিবারের বাবা, তিন মেয়ে, দুই জামাই এবং এক পুত্রবধূসহ মোট ৭ জনের পারিবারিক চক্রটি অবৈধ মাদক কারবারের মাধ্যমে অর্জিত অর্থ ব্যাংকিং চ্যানেলে লেনদেন করেছে। ৫ কোটিরও বেশি টাকা তাদের ব্যাংক হিসাবে লেনদেনের তথ্য পাওয়ার দাবি করেছে সিআইডি।
সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার জসীম উদ্দিন খান জানান, মাদকদ্রব্য পাচার এবং মাদক কারবারের সাথে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে এবং অনেকগুলো মামলাও তাদের বিরুদ্ধে আছে।
আরও পড়ুন: মোহাম্মদপুর যেন ‘অপরাধের রাজধানী’, কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্যে বাড়ছে চুরি-ছিনতাই ও খুন
অভিযুক্ত আসমার বিরুদ্ধে ৩টি, রেশমা খাতুনের বিরুদ্ধে ১০টি, লিজা বেগম ওরফে লিপি আক্তারের বিরুদ্ধে ৭টি, মানিক মিয়ার বিরুদ্ধে ৫টি এবং অন্য অভিযুক্তদের বিরুদ্ধেও এক বা একাধিক মাদকের মামলা রয়েছে।
একটি সূত্র জানিয়েছে, ২০০৯-২০১০ সালে রাজধানীর কারওয়ান বাজার এলাকায় গাঁজার ব্যবসা দিয়ে উত্থান পরিবারটির। ধীরে ধীরে তাদের মাদককারবার বড় হতে থাকে। একসময় যোগ হয় ইয়াবা। কোনো বৈধ উপার্জনের ব্যবস্থা না থাকা সত্ত্বেও বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছে মাদকের এই পারিবারিক সিন্ডিকেট।

১৩ ঘন্টা আগে
২








Bengali (BD) ·
English (US) ·