বুধবার (১৯ মার্চ) বিকেল ৪ টা থেকে ৬ টা পর্যন্ত জেলা নিরাপদ খাদ্য অফিসের উদ্যোগে শহরের বিভিন্ন হোটেল রেস্তোরাঁয় অভিযান চালানো হয়। জেলার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আসিফ এলাহি ও শাওন হাসানের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় র্যাব ও পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
অভিযানকালে ঝিলটুলী এলাকায় অবস্থিত ফরিদপুরের ঐতিহ্যবাহী খ্যাত টেরাকোটা রেস্টুরেন্টে ফ্রিজে পাওয়া যায় পচা ও বাসি টিকা, বেনামি কোম্পানীর বিভিন্ন খাদ্য সামগ্রী। প্রতিষ্ঠানটিতে অপরিচ্ছন্ন রান্নাঘরে নিম্নমানের তেল ও ঘি দিয়ে খাদ্য প্রস্তুত করতে দেখা যায়। পরে পচা ও বাসি খাদ্য সামগ্রী জব্দ করে নর্দমায় ফেলে দেয়া হয়।
আরও পড়ুন: চুয়াডাঙ্গায় ভোক্তার অভিযানে তিন প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা
চরকমলাপুর এলাকায় অবস্থিত রেইন ফরেস্ট রেস্টুরেন্টে দেখা যায় প্রায় একই চিত্র। সেখানে ফ্রিজ থেকে পচা সিদ্ধ আলু, টিকা কাবাব, মাংস, বিভিন্ন মসলা জব্দ করা হয়। যা দীর্ঘদিন ধরে ফ্রিজে রেখে পরিবেশন করা হতো বলে আদালত জানান।
এছাড়া ফরিদপুরের আলোচিত শিরিন গার্ডেনে অভিযান পরিচালনা করেন বিশুদ্ধ খাদ্য আদালত। যেটি ফরিদপুরের এলিট শ্রেণির মানুষের রেস্তোঁরা নামে পরিচিত। অভিযানকালে প্রতিষ্ঠানটিতে একই ফ্রিজে রাখা কাঁচা মাছ, গন্ধযুক্ত সবজি, বিভিন্ন পচা-বাসি খাদ্য সামগ্রী মিলে।
এ সময় তেলাপোকাসহ ফ্রিজ থেকে একটি খাদ্য সামগ্রী বের করেন অভিযানের সদস্যরা। এছাড়া মেয়াদ উল্লেখ ছাড়া পাউরুটি জব্দ করা হয়। তাছাড়া অপরিচ্ছন্ন ফ্রিজ ও রান্নাঘরে খাদ্য তৈরি করতে দেখা যায়।
এসব কারণে প্রতিষ্ঠান তিনটির বিরুদ্ধে খাদ্য নিরাপদ আইনে পৃথক তিনটি মামলা করেন এবং পরবর্তীতে এসব মিললে জরিমানাসহ সিলগালা করার হুঁশিয়ারি দেয়া হয়।
আরও পড়ুন: ভেজাল খাদ্যপণ্যের কারখানায় র্যাবের অভিযান, দেড় লাখ টাকা জরিমানা
এসব বিষয়ে জেলা নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা মো. আজমুল ফুয়াদ রিয়াদ বলেন, ‘রমজান মাস উপলক্ষে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তার ধারাবাহিকতায় আজও অভিযান করা হয়। এ সময় বিভিন্ন হোটেল রেস্তোঁরায় খাবারের মান পরীক্ষা করা হয়। এতে তিনটি প্রতিষ্ঠানে পচাবাসি ও মেয়াদবিহীন খাদ্য সামগ্রী পাওয়া যায়। এছাড়া শিরিন গার্ডেনে খাদ্য সামগ্রীর সঙ্গে তেলাপোকা পাওয়া যায়। আমরা শিরিন গার্ডেনসহ তিনটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা নিয়েছি। আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।’