বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম প্রতি আউন্সে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ১৪৮ দশমিক ০৫ ডলারে, যা দিনের শুরুতে পৌঁছেছিল রেকর্ড ৩ হাজার ১৬৭ দশমিক ৫৭ ডলারে। আর ফিউচার মার্কেটে স্বর্ণের দাম প্রতি আউন্সে শূন্য দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে ৩ হাজার ১৭২ দশমিক ৬০ ডলারে বেচাকেনা হচ্ছে।
মূলত ডোনাল্ড ট্রাম্প মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সমস্ত আমদানির উপর ১০ শতাংশ বেসলাইন শুল্ক ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদারসহ কয়েক ডজন দেশের উপর উচ্চতর শুল্ক ঘোষণা করেছেন, যা বাণিজ্য যুদ্ধকে আরও গভীর করে তুলেছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, ট্রাম্পের আগ্রাসী নীতিগত অবস্থান মার্কিন অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে ধীর করে দেবে এবং মূল্যস্ফীতি বাড়িয়ে দেবে।
আরও পড়ুন: আমদানিতে ন্যূনতম ১০ শতাংশ শুল্কারোপ ট্রাম্পের, কবে থেকে কার্যকর?
ক্যাপিটাল ডটকমের আর্থিক বাজার বিশ্লেষক কাইল রোডা বলেন, ‘শুল্ক বাড়ানোর ফলে স্বর্ণের চাহিদা বাড়ছে। এর কয়েকটি কারণ রয়েছে। একটি হলো শুল্ক বাড়ানোর ফলে মার্কিন অর্থনীতিতে মন্দা দেখা দিতে পারে, যা ভবিষ্যতে সুদের হার কমানোর সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘ট্রাম্পের নীতির কারণে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো তাদের রিজার্ভ মার্কিন ডলার-মূল্যায়িত সম্পদের পরিবর্তে স্বর্ণে রাখতে বাধ্য হবে।’
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিশ্ববাজারে যে হারে দাম বাড়ছে, এতে যে কোনো সময় প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম আরও বেড়ে যেতে পারে। আর বিশ্ববাজারে দাম বাড়লে এর প্রভাব পড়ে দেশের বাজারেও। তাই যে কোনো সময় দেশের বাজারেও দাম সমন্বয় করা হতে পারে।
দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করে থাকে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)। সে হিসেবে সবশেষ গত ২৮ মার্চ দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছিল বাজুস। সে সময় ভরিতে ১ হাজার ৭৭৩ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৫৭ হাজার ৮৭২ টাকা নির্ধারণ করেছিল সংগঠনটি, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ দাম।
আরও পড়ুন: ৩ মাসেই ১৭ দফা সমন্বয়, স্বর্ণের দাম ঊর্ধ্বমুখী কেন?
এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৫০ হাজার ৬৯৯ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ২৯ হাজার ১৬৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৬ হাজার ৫৩৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল, যা কার্যকর হয় গত ২৯ মার্চ থেকে।
এ নিয়ে চলতি বছর ১৭ বার দেশের বাজারে সমন্বয় করা হলো স্বর্ণের দাম। যেখানে দাম বাড়ানো হয়েছে ১৩ বার, আর কমেছে মাত্র ৪ বার। আর ২০২৪ সালে দেশের বাজারে মোট ৬২ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৩৫ বার দাম বাড়ানো হয়েছিল, আর কমানো হয়েছিল ২৭ বার।
]]>