আধুনিক নির্মাণশৈলীতে গড়ে তোলা এই মসজিদটি নির্মাণে ব্যবহার করা হয়েছে ভারত, ইতালি ও তুরস্ক থেকে আনা মার্বেল ও গ্রানাইট পাথর, এবং চীন থেকে আনা নজরকাড়া ঝাড়বাতি। এক একর জমির ওপর নির্মিত তিন তলা বিশিষ্ট এই মসজিদটির নির্মাণকাজ সম্পন্ন করতে লেগেছে প্রায় ৯ বছর।
নির্মাণ ও স্থাপত্যশৈলী
২০১২ সালে ব্যবসায়ী মরহুম মোহাম্মদ আলি সরকার তার ছেলে আল-আমান ও মা বাহেলা খাতুনের নামে মসজিদটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। তবে ২০২০ সালের ২ আগস্ট তিনি মৃত্যুবরণ করেন। পরবর্তীতে তার ছেলেরা মসজিদটির নির্মাণকাজ শেষ করে ২০২১ সালের ২ এপ্রিল জুমার নামাজের মাধ্যমে উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনের পর থেকেই এটি মুসল্লি ও দর্শনার্থীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
আরও পড়ুন: জলদস্যু তাড়াতে এসে এই মসজিদ তৈরি করেছিলেন শাহ সুজা!
মসজিদটির কেন্দ্রে রয়েছে একটি বিশাল আকৃতির গম্বুজ এবং দুপাশে রয়েছে ১১০ ফুট উচ্চতার দুটি বড় মিনার। পাশাপাশি ছোট ছোট আরও আটটি গম্বুজ স্থাপন করা হয়েছে, যা মসজিদের সৌন্দর্য আরও বৃদ্ধি করেছে। ভেতরের অংশে মার্বেল পাথরের পিলার ও বিভিন্ন কারুকার্য করা টাইলস ব্যবহার করা হয়েছে, যা অত্যন্ত নান্দনিক।
প্রাকৃতিক শীতলতা ও সুবিধাসমূহ
আধুনিক স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত মসজিদটিতে এসি না থাকলেও প্রচণ্ড গরমেও ভেতরে ঠান্ডা অনুভূত হয়। মসজিদটিতে মুসল্লিদের ওজুর জন্য রয়েছে দুটি আধুনিক ওজুখানা।
ধর্মীয় ও সামাজিক কার্যক্রম
প্রতিদিন বিভিন্ন স্থান থেকে নানা বয়সের মানুষ মসজিদটি দেখতে ও এখানে নামাজ আদায় করতে আসেন। পবিত্র রমজান উপলক্ষে মুসল্লিদের জন্য ইফতার ও সেহরির বিশেষ ব্যবস্থা করা হয়। আল-আমান বাহেলা খাতুন জামে মসজিদের খতিব মাওলানা গোলাম কিবরিয়া জানান, রমজানের জুমার দিনে মুসল্লির সংখ্যা কয়েকগুণ বেড়ে যায়।
আরও পড়ুন: দক্ষিণ এশিয়ার একমাত্র কাঠের মুসলিম স্থাপত্য মমিন মসজিদ
মসজিদের ধারণক্ষমতা ও পরিচালনা ব্যবস্থা
এই মসজিদে একসঙ্গে প্রায় ৭ হাজার মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারেন। মসজিদটি পরিচালনার জন্য রয়েছেন দুইজন খতিব, ছয় জন খাদেম এবং একটি পরিচালনা পর্ষদ।
আল-আমান বাহেলা খাতুন জামে মসজিদ শুধু নামাজ আদায়ের স্থান নয়, এটি এক অনন্য স্থাপত্যশৈলীর নিদর্শন, যা ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের পাশাপাশি সৌন্দর্যপিপাসু দর্শনার্থীদেরও আকৃষ্ট করছে।
]]>