বুধবার (১৯ মার্চ) রাতে জামালপুর সদর উপজেলার শাহবাজপুর পূর্ব পাড়া এলাকার হাসমত তালুকদারের বাড়িতে তাকে বেদম পেটানো হয়।
ভুক্তভোগী মামুন সদর উপজেলার শাহবাজপুর ইউনিয়নের গণেশপুর এলাকার আবদুল হাকিমের ছেলে।
বৃহস্পতিবার (২০ মার্চ) রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মামুনকে মারধরের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে পুরো এলাকার মানুষ ক্ষোভ ঝাড়তে থাকেন।
এ ঘটনায় শুক্রবার (২১ মার্চ) সকাল ১১টায় জামালপুর সদর উপজেলার নারায়ণপুর পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের সামনে জামালপুর-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান স্থানীয়রা। পরে পুলিশের আশ্বাসে অবরোধ তুলে নেয়া হয়।
আরও পড়ুন: জামালপুরে ডিসি পরিচয়ে চাঁদাবাজি, প্রতারক আটক
পুলিশ অভিযান চালিয়ে ঘটনার সঙ্গে জড়িত মো. ইলিয়াস (২৫) ও মো. মিজানুর রহমান নামে ২ জনকে আটক করেছে।
মামুনের মা বলেন, ‘সন্ধ্যার আগে আমার ছেলে বাজার নিয়ে বাড়িতে আসার পথে হাসমত তালুকদার তাকে ফোন করে বলে তার পাওনা টাকা দেবে। টাকা নেয়ার জন্য গেলে তার সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে বাড়িতে ডাকাত, গরু চোর এসেছে বলে চিৎকার করে লোকজনকে ডাকে। পরে আমার ছেলেকে ৫ থেকে ৭ জন মিলে বাঁশের লাঠি, রড় দিয়ে মারধর করে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমার একটাই ছেলে সংসারে উপার্জনক্ষম। আমার ছেলেকে যারা মেরেছে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করছি।’
এলাকাবাসীরা জানান, ‘মামুন পেশায় রাজমিস্ত্রী। চোর ডাকাত বলে চিৎকার করে লোক জড়ো করে তাকে সংঘবদ্ধভাবে লাঠি রড় দিয়ে পিটিয়ে মারাত্মক আহত করেছে। তার অবস্থা ভালো না। আমরা দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করছি।’
আরও পড়ুন: জামালপুরে সেজদারত অবস্থায় মুয়াজ্জিনের মৃত্যু
নারায়ণপুর পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের উপপুলিশ পরিদর্শক মঞ্জুরুল হক বলেন, ‘চোর আটকের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। সেখানে গিয়ে ঘটনা জানতে পেরে তাকে উদ্ধার করে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসকরা তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল হাসপাতালে পাঠিয়েছেন। আমরা ২ জনকে আটক করেছি। বাকিদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।’
এ ঘটনায় মামুনের বাবা আব্দুল হাকিম বাদী হয়ে ২১ জনকে আসামি করে জামালপুর সদর থানায় মামলা একটি মামলা দায়ের করেছেন বলেও জানান তিনি।