পরীক্ষার্থীদের বাড়িতে ইউএনও, খেলা থেকে বসালেন পড়ার টেবিলে

২ সপ্তাহ আগে
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় এসএসসি, দাখিল ও সমমান পরীক্ষা উপলক্ষে শিক্ষার্থীদের খোঁজখবর নিতে রাতের আঁধারে শিক্ষার্থীদের বাড়িতে গিয়ে পড়াশোনার খোঁজ -খবর নিয়েছেন কসবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ছামিউল ইসলাম।

বুধবার (১৯ মার্চ) রাত ৯ টা থেকে রাত ১১ টা পর্যন্ত কসবা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় ও চন্ডিদার স্কুলের শিক্ষার্থীদের বাড়িতে গিয়ে খোঁজ-খবর নেন তিনি। বৃহস্পতিবার (২০ মার্চ) রাতেও তিনি কসবা উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে যাওয়ার কথা রয়েছে।

 

কসবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার এমন উদ্যোগকে ইতিবাচক ও দায়িত্বশীলতা এক অনন্য উদাহরণ হিসেবে দেখছেন শিক্ষাবিদরা।

 

ইউএনও মো. ছামিউল ইসলাম পদাধিকার বলে উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সভাপতি তিনি। এতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষার্থীদের পড়ালেখার দায়িত্ববোধের বিষয়টি তার উপর বার্তায়। রমজান মাসে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা বাড়িতে লেখাপড়া হচ্ছে কি না তা দেখতে রাতে শিক্ষার্থীদের বাড়ি-বাড়ি যাওয়ার চিন্তা করেন তিনি।

 

এরই অংশ হিসেবে বুধবার দিনে দাফতরিক কাজ শেষে রাতে এসএসসি, দাখিল ও সমমান পরীক্ষায় অংশ নেবেন এমন শিক্ষার্থীদের খোঁজখবর নিতে তাদের বাড়িতে যান। রাত ৯টার দিকে কসবা শীতলপাড়া এলাকায় গিয়ে দেখেন, কয়েকজন শিক্ষার্থী পড়ালেখা বাদ দিয়ে ক্যারম খেলায় ব্যস্ত। পরে তাদের অভিভাবকদের ডেকে বাড়িতে পাঠিয়ে পড়ার টেবিলে বসানো হয়। পাশাপাশি ক্যারম দোকানিকে রাতে কোনো ছাত্র যাতে ক্যারাম খেলতে না পারে এ ব্যাপারে সতর্ক করা হয়।

 

আরও পড়ুন: ‘পুতুল’ হয়ে নাচলেন ইউএনও

 

পাশাপাশি একজন শিক্ষার্থী পড়ালেখা ফেলে রাতে ঘর নির্মাণের কাজ করছে। পরে তার অভিভাবককে বুঝানো হয় এবং সেই ছাত্রকে পড়ার টেবিলে বসিয়ে দিয়ে আসেন তিনি।

 

এ ব্যাপারে কসবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ছামিউল ইসলাম বলেন, কসবা উপজেলার ইউএনও হিসেবে পদাধিকার বলে উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সভাপতি আমি। এখন রমজান মাস চলছে, তাই সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ। বন্ধের মধ্যে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা করছে কিনা সেই দায়িত্ববোধ থেকে দিনে দাফতরি কাজ শেষে রাতে এসএসসি, দাখিল ও সমমান পরীক্ষা উপলক্ষে শিক্ষার্থীদের খোঁজ-খবর নিচ্ছি।

 

তিনি আরো জানান, রাতে কসবা উপজেলা সদরে পড়ালেখা বাদ দিয়ে বাহিরের একটি দোকানে ক্যারম খেলছিলেন শিক্ষার্থীরা। সেখানে গিয়ে ক্যারম খেলা বন্ধ করে অভিভাবকদের ডেকে পড়ার টেবিলে পাঠান তিনি।

 

আরও পড়ুন: কাজী আসার আগেই বিয়ে বাড়িতে পৌঁছালেন ইউএনও, অতঃপর...


এছাড়া উপজেলার চন্ডিদার স্কুলের সকল শিক্ষার্থীদের পড়ার টেবিলে মনোযোগ সহকারে পড়তে দেখে তাদের অভিভাবক এবং প্রধান শিক্ষকসহ অন্যান্য তদারককারী শিক্ষককে ধন্যবাদ জানান তিনি।


ইউএনও জানান, শিক্ষার আলোতে যেন সবাই উদ্ভাসিত হয়, নিজের দায়িত্ববোধ থেকে তাই পরীক্ষার প্রস্তুতির খোঁজ নেয়ার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেয়া হয়েছে অভিভাবকদের।


এদিকে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের বাড়ি বাড়ি গিয়ে শিক্ষার্থীদের খোঁজ নেয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর এজেডএম আরিফ হোসেন জানান, এটি নিঃসন্দেহে একটি ভাল উদ্যোগ। এতে শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকেরা সচেতন হবে। তবে এর ধারাবাহিকতা রক্ষা করাটা একজন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার পক্ষে অনেকটাই কঠিন কাজ। তারপরও তিনি উদ্যোগটি নিয়েছেন ইতিবাচক। তাই প্রশংসার দাবি রাখেন।
 

]]>
সম্পূর্ণ পড়ুন