শুক্রবার (২১ মার্চ) দুপুরে দিনাজপুর জিআরপি থানা থেকে তাকে ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এর আগে বৃহস্পতিবার (২০ মার্চ) রাতে তাকে ঠাকুরগাঁও থেকে দিনাজপুর জিআরপি থানায় নিয়ে আসা হয়েছিল।
এ সময় তার কাছ থেকে বিভিন্ন রুটের ট্রেনের ১৩০টি টিকিট ছাড়াও তার কাছ থেকে তিনটি মোবাইল ও বিভিন্ন কোম্পানির ১৪টি সিম কার্ডও পাওয়া গেছে। যেগুলো জব্দ করা হয়েছে। আটক সাজেদুর রহমান ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার রাধানাথপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি ৯ বছর ধরে নৌবাহিনীতে কর্মরত রয়েছেন এবং বর্তমানে খুলনার বিএনএস পদ্মা ইউনিটে ল্যান্স করপোরাল পদে কর্মরত আছেন বলে জানিয়েছেন এই কর্মকর্তা।
আরও পড়ুন: ফেসবুকে বিজ্ঞাপন দিয়ে ট্রেনের টিকিট কালোবাজারি, যুবক গ্রেফতার
দিনাজপুর জিআরপি থানা সূত্রে জানা যায়, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা দ্রুতযান এক্সপ্রেস ট্রেনটি বৃহস্পতিবার সকাল ১০ টায় ঠাকুরগাঁও পৌঁছালে প্ল্যাটফর্মে টিকিট চেক শুরু করে রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা। এসময় সাজেদুরের টিকিট চেক করার সময় এক টিকিটে ২২ জনের আসন দেখতে পান। ওই টিকিটে সরকারি বাহিনীর টিকিট, বিক্রয় নিষেধ লেখা ছিল। এসময় দায়িত্বরত টিটি তার পরিচয় জানতে চাইলে নিজেকে নৌবাহিনীর সদস্য পরিচয় দেয়। সবকিছু বিবেচনায় সন্দেহ হলে রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা তাকে ঠাকুরগাঁও জিআরপি থানায় নিয়ে যায়। সেখানে তাকে জিজ্ঞাসা করলে টিকিট কালোবাজারির কথা স্বীকার করে। পরে তার কাছে ট্রেনের বিভিন্ন রুটের আরও ১০৮টি আসনের টিকিট পাওয়া যায়। এসব টিকিট ২১ থেকে ২৫ মার্চের এবং যাত্রাপথ ঢাকা থেকে পার্বতীপুর ও পঞ্চগড়। রাতেই তাকে ঠাকুরগাঁও থেকে দিনাজপুর জিআরপি থানায় নিয়ে আসা হয়। আটক সাজেদুরের সাথে কথা বলে তার পরিচয় নিশ্চিত হয়ে নৌবাহিনীর সাথে যোগাযোগ করে জিআরপি থানা কর্তৃপক্ষ। পরে শুক্রবার দুপুরে নৌবাহিনী সদস্যরা এসে বিভাগীয় তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানিয়ে সাজেদুরকে নিয়ে যায়।
অভিযুক্ত সাজেদুর রহমান বলেন, ‘খুলনাতে থাকা অবস্থায় ১০ দিন আগে থেকে এসব টিকিট সংগ্রহ করি। আজকে বাড়ি যাচ্ছিলাম। এগুলো আমি অফিসের মাধ্যমে সংগ্রহ করেছি। আমরা কোথায় যেতে হলে আবেদন দিলে তখন আমাদেরকে ওয়ারেন্ট দেয়। তিনটি ওয়ারেন্ট ব্যবহার করে এই টিকিটগুলো কিনেছি।’
আরও পড়ুন: কর্তৃপক্ষের চোখ ফাঁকি দিয়েই চলছে ট্রেনের টিকিটে কালোবাজারি
রেলওয়ে নিরাপত্তা বিভাগের পার্বতীপুর সার্কেলের পরিদর্শক হাসান শিহাবুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা রেলওয়ের ১৩০টি টিকিটসহ নৌবাহিনীতে কর্মরত সদস্যকে ঠাকুরগাঁও থেকে আটক করি। আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাকে দিনাজপুরে নিয়ে আসি। পরবর্তীতে ঢাকা হেডকোয়ার্টার থেকে তাদের একটি প্রতিনিধি দল আজকে সকালে এখানে আসে। তাদের সাথে আমাদের আলাপ আলোচনা হয়। উভয় ডিপার্টমেন্টের উর্ধ্বতনের নির্দেশনা মোতাবেক তারা তাদের আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে মর্মে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে তাদের জিম্মায় নিয়ে গেছে। আমরা ১৩০টি টিকেট, ১৪ টা সিমকার্ড, তিনটি মোবাইল ফোনসহ আইডি কার্ড জব্দ করেছি।’