তথ্যচিত্রটি সম্প্রচার হওয়ার পর থেকে তীব্র মানসিক যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে বলে দাবি করেন আবদুল্লাহ আল-ইয়াজুরি নামের ওই কিশোর। শুধু তাই নয়, তার এই পরিস্থিতির জন্য বিবিসিকেই দায়ী করে আব্দুল্লাহ।
প্রেস টিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, উপকূলীয় অঞ্চলের পরিস্থিতি নিয়ে বিবিসির একটি তথ্যচিত্র বর্ণনা করেন আবদুল্লাহ। এর পর থেকে অনলাইনে হয়রানির শিকার হচ্ছে সে। কিন্তু তার এই হয়রানির কোনো দায় নেয়নি বিবিসি।
বুধবার (৫ মার্চ) মিডল ইস্ট আই (এমইই) সংবাদ ও বিশ্লেষণ ওয়েবসাইট জানিয়েছে, আব্দুল্লাহ বলছে, ওই ঘটনার পর থেকে সে অনলাইনে হয়রানি ও নির্যাতনের মুখোমুখি হয়েছে। তাকে যথেষ্ট মানসিক যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। এর জন্য বিবিসিকে দায়ী করে আব্দুল্লাহ।
আরও পড়ুন:বিশুদ্ধ পানির সংকট / দীর্ঘলাইন দিয়ে পানি সংগ্রহ করছে গাজার শিশুরা
আব্দুল্লাহ বলে, ‘বিবিসিতে তথ্যচিত্রটি সম্প্রচারের আগে আমি কোনোভাবেই লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হওয়ার ঝুঁকি নিতে রাজি ছিলাম না। তাই যদি আমার কিছু হয়, তাহলে বিবিসি তার জন্য দায়ী থাকবে।’
এদিকে প্রযোজনা সংস্থা হোয়ো ফিল্মস জানিয়েছে, ডকুমেন্টারিতে ইয়াজুরির বর্ণনার জন্য তার পরিবারকে সীমিত পরিমাণ অর্থ দেয়া হয়েছে। তবে আবদুল্লাহ স্পষ্ট করে বলেছে, সে তথ্যচিত্র নির্মাণ ব্যয়ের বাইরে কোনো পারিশ্রমিক পায়নি।
অধিকৃত ফিলিস্তিনি অঞ্চলে নিযুক্ত সাবেক ব্রিটিশ কূটনীতিক স্যার ভিনসেন্ট ফিন বলেছেন, ১৩ বছর বয়সি এক নিষ্পাপ বালকের মর্যাদা ও কল্যাণ করা বিবিসির কর্তব্য। কিন্তু এতে তারা ব্যর্থ হয়েছে। অনলাইনে সে ঘৃণামূলক বার্তা পাচ্ছে এবং তার মানসিক স্বাস্থ্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
‘গাজা: হাউ টু সারভাইভ আ ওয়ারজোন’ ডকুমেন্টারিতে যুদ্ধবিধ্বস্ত এবং অবরুদ্ধ উপকূলীয় অঞ্চলের শিশুদের অভিজ্ঞতা চিত্রিত হয়েছিল। পরে ইসরাইলপন্থিদের চাপের মধ্যে বিবিসির আইপ্লেয়ার প্ল্যাটফর্ম থেকে সেটি সরিয়ে দেয়া হয়।
কিশোর আব্দুল্লাহর বাবা ডা. আয়মান আল-ইয়াজুরি গাজা সরকারের একজন উপমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন, এটি প্রকাশ পাওয়ার পর সম্প্রচারক এই ডকুমেন্টারি সরিয়ে নেয়। গাজাকে, ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাস পরিচালিত করে এবং এটি ইসরাইলবিরোধী সংগঠন বলে পরিচিত।
বিবিসির এই সিদ্ধান্তের পর বিশ্বজুড়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। বিবিসির সম্পাদকীয় প্রক্রিয়া নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন অনেকে।
আরও পড়ুন:গাজার শিশুদের জন্য শ্রীলঙ্কার ১০ লাখ ডলার অনুদান
তথ্যচিত্রটি সরানোর ঘটনায় আব্দুল্লাহ হতাশা প্রকাশ করে বলেন, তিনি আশা করেছিলেন যে এটি ‘গাজার শিশুরা যে দুর্ভোগের সাক্ষী, তার বার্তা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়বে।’
তবে তিনি বলেন, তিনি আশাবাদী যে তথ্যচিত্রটি আবার সম্প্রচার করা হবে এবং গাজার শিশুদের কণ্ঠস্বর শোনা যাবে।
সমালোচকরা মনে করছেন, সম্প্রচারক কোনো বহিরাগত চাপের কাছে আত্মসমর্পণ করেছে। যা নিরপেক্ষ গল্প বলার পেশাগত দায়িত্বকে ক্ষুণ্ন করেছে।
এদিকে ইসরাইলি দখলদারিত্ব ও আগ্রাসন থেকে ফিলিস্তিনিদের মুক্তির পক্ষে শিল্পী ও সাংস্কৃতিক কর্মীদের একটি নেটওয়ার্ক, (আর্টিস্টস ফর প্যালেস্টাইন ইউকে) আয়োজিত এক চিঠিতে ১ হাজার জনেরও বেশি মিডিয়া পেশাদার স্বাক্ষর করেছেন। তারা বিবিসির তথ্যচিত্রটি প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তের নিন্দা জানিয়েছেন এবং এটি আবার চালু করার আহ্বান জানিয়েছেন।
]]>