বুধবার (২ এপ্রিল) হাসপাতাল ঘুরে জানা যায়, ১৯ জন চিকিৎসকের মধ্যে ১৪ জনই রয়েছেন ঈদের ছুটিতে। উপস্থিত নেই হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক এবং আরএমও। কর্মস্থলে থাকা ৫ জন ডাক্তার ২৮ মার্চ থেকে পালা করে (রোস্টার করে) জরুরি বিভাগ ও ইনডোরের রোগীদের নামমাত্র চিকিৎসাসেবা দিচ্ছেন। এতে হাসপাতালের স্বাস্থ্যসেবা ভেঙে পড়েছে। চিকিৎসাবঞ্চিত হয়ে চরম ভোগান্তিতে রয়েছেন রোগীরা।
এদিকে ডাক্তারের অভাবে চিকিৎসা না পেয়ে স্ক্যানুতে থাকা চার শিশু মারা যাওয়ার অভিযোগ করেছেন অভিভাবকরা।
এদিন দুপুরে দেখা যায়, জরুরি বিভাগের মেডিকেল অফিসারের কক্ষের সামনে শতাধিক রোগীর লাইন। ভেতরে আবদুল মজিদ শাকিল নামে এক চিকিৎসক রোগীদের সেবা দিচ্ছেন, আবার ছুটে যাচ্ছেন পাশের কক্ষে অপেক্ষারত গুরুতর আহত রোগীদের দেখতে। তার কোনো চেষ্টাই সামনের লাইনের আয়তন কমছে না।
এদিকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও ডাক্তারের দেখা পাচ্ছেন না অনেকে। নিরুপায় হয়ে অনেকেই মেঝেতে শুয়ে পড়েছেন। কেউবা অসহ্য যন্ত্রণা নিয়ে কাতরাচ্ছেন। উপজেলা হাসপাতাল থেকে রেফার করা মুমূর্ষু রোগী কোনো পরামর্শ না পেয়ে জরুরি বিভাগের সামনেই অপেক্ষা করছেন হতাশা নিয়ে। এমনকি সেবা নিতে আসা রোগীদের রেজিস্টারে তালিকাভুক্ত করারও লোক নেই। ডাক্তারের সেবা তো মিলছেই না, উল্টো ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে তাদের।
এক রোগীর স্বজন সুমন দে জানান, তজুমদ্দিন হাসপাতাল থেকে তার চাচিকে ভোলায় রেফার করা হয়। বুধবার বেলা ১১টায় ভোলা হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে এনে রোগীকে মেঝেতে শুয়ে রেখেছেন। জরুরি বিভাগের মেডিকেল অফিসারের রুমের সামনে অনেক রোগী থাকায় সুমন তার চাচিকে দেখাতে পারছেন না। এতে একদিকে রোগীর ঝুঁকি বাড়ছে, অন্যদিকে রোগী নিয়ে তাদেরও ভোগান্তি বেড়েছে।
আরও পড়ুন: চিকিৎসা অবহেলায় শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ, ৩ নার্স বরখাস্ত
অভিভাবকরা জানান, মঙ্গলবার শিশু ওয়ার্ডে ঠান্ডাজনিত রোগে ১০ শিশুকে ভর্তি করা। এর মধ্যে আছিয়া বিবির ২০ দিনের শিশু, আমেনা বেগমের ১ দিনের শিশু, রানু বিবির ৪ দিনের ও কুলসুম আক্তারের ১ দিনের শিশু মারা যায়।
এ বিষয়ে হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক ডা. শুভ প্রসাদ জানান, মঙ্গলবার শিশু ওয়ার্ডের চারজন রোগী মারা যায়। ঝুঁকিতে থাকা ছয়জনকে বরিশাল রেফার করা হয়েছে, কিন্তু অভিভাবকরা তাদের নিচ্ছেন না।
ঈদের ছুটিতে থাকা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. শেখ সুফিয়ান রুস্তম মোবাইল ফোনে জানান, প্রতিদিন একজন করে ডাক্তার পুরো হাসপাতালের রোগী দেখছেন, যা তার পক্ষে প্রায় অসম্ভব। ৬১ জন চিকিৎসকের বিপরীতে বর্তমানে হাসপাতালে কর্মরত আছেন মাত্র ১৯ জন। ঈদের লম্বা ছুটিতে অনেকে পরিবারের সঙ্গে ঈদ করতে গেছেন। ডাক্তার সংকটের বিষয়ে তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে কোনো ফল পাচ্ছেন না।
তিনি আরও বলেন, বুধবার মধুসূদন নামে একজন ডাক্তার যোগদানের কথা ছিল, কিন্তু তিনি যোগদান করেননি। চার শিশু রোগীর মৃত্যুর বিষয়ে তিনি বলেন, এক শিশু হাসপাতালে মারা গেছেন। বাকি তিনজনের মৃত্যুর বিষয় তিনি অস্বীকার করেন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ঈদুল ফিতরের পর থেকে জরুরি বিভাগে সড়ক দুর্ঘটনা ও মারামারিসহ বিভিন্ন ঘটনায় গড়ে প্রতিদিন আড়াইশ রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন। আর ইনডোরে চিকিৎসাধীন প্রায় ৩০০ রোগী।