আজ শনিবার (১৮ এপ্রিল) ইউকেএমটিও-এর এক বার্তায় বলা হয়েছে, তারা সরাসরি জাহাজের ক্যাপ্টেনের কাছ থেকে তথ্য পেয়েছে। জাহাজের ক্যাপ্টেন জানিয়েছেন, ওমান উপকূল থেকে প্রায় ২০ নটিক্যাল মাইল (৩০ কিলোমিটার) দূরে দুটি আইআরজিসি গানবোট জাহাজটির কাছে আসে।
ক্যাপ্টেন আরও জানান, কোনো ধরনের রেডিও সতর্কতা ছাড়াই জাহাজটিতে গুলি চালানো হয়। তবে এ ঘটনায় ‘জাহাজ ও এর নাবিকরা নিরাপদে আছেন’ বলে জানিয়েছে ইউকেএমটিও।
ইরান আবারও হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোর ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপের ঘোষণার পরই এই ঘটনা ঘটে বলেও দাবি করা হয়েছে। ইরানের পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে এখনও কোনো মন্তব্য আসেনি।
যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ অব্যাহত থাকায় আজ শনিবার দুপুরে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথটি ফের বন্ধ ঘোষণা করেছে ইরান। আইআরজিসির নৌবাহিনী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ পোস্ট করে জানায়, ‘ইরান থেকে আসা বা ইরানে যাওয়ার জাহাজ চলাচল যতদিন হুমকির মুখে থাকবে, ততদিন হরমুজ প্রণালীর অবস্থা আগের মতোই কঠোর নিয়ন্ত্রণে থাকবে।’
আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল ও যুক্তরাজ্যের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গুপ্তচর ‘সেল’ নস্যাতের দাবি ইরানের
আইআরজিসির যৌথ সামরিক কমান্ড এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলো অবরোধ করে যাওয়ায় হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ ‘আবার আগের অবস্থায় ফিরে গেছে’। আইআরজিসির বরাত দিয়ে ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবির খবরে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ‘অবরোধের নামে জলদস্যুতা ও সামুদ্রিক চুরি চালিয়ে যাচ্ছে’।
এর কয়েক ঘণ্টা আগেই ইরান হুঁশিয়ারি দিয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোতে নৌ অবরোধ অব্যাহত রাখলে হরমুজ প্রণালী আবারও বন্ধ করে দেয়া হবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেয়া পোস্টে ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেন, ‘অবরোধ অব্যাহত থাকলে হরমুজ প্রণালি খোলা থাকবে না। এই জলপথ দিয়ে জাহাজ চলাচল ইরানের অনুমোদনের ওপর নির্ভর করবে।’
বিশ্বব্যাপী নৌপরিবহণের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বের এক-পঞ্চমাংশ তেল ও এলএনজি পরিবহন করা হয়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক আগ্রাসনের প্রেক্ষিতে পারস্য উপসাগরের গুরুত্বপূর্ণ জলপথটি বন্ধ করে দেয় ইরান।
আরও পড়ুন: ৪৭ দিন পর হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করল যাত্রীবাহী প্রমোদতরী
এর ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট দেখা দেয়। যার প্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্র এই নৌপথের নিয়ন্ত্রণ নিতে মরিয়া হয়ে ওঠে। কিন্তু শত চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়। তেহরান নৌপথটি নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি পুরো অঞ্চলজুড়ে অত্যাবশ্যকীয় অবকাঠামোতে আঘাত হানার সক্ষমতা ও ইচ্ছা উভয়ই প্রদর্শন করেছে, যা উপসাগরীয় দেশগুলোর তেল ও গ্যাসভিত্তিক অর্থনীতিকে বিপন্ন করেছে।
লেবানন ও ইসরাইলের মধ্যে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলে দীর্ঘ প্রায় ছয় সপ্তাহ পর শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) হরমুজ প্রণালী খুলে দেয় ইরান। এদিন বিকেলে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এক ঘোষণায় জানান, যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকাকালে প্রণালী দিয়ে সব বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল উন্মুক্ত থাকবে।
]]>
২ সপ্তাহ আগে
৩








Bengali (BD) ·
English (US) ·