ইসলামে উগ্রতা কতটা ভয়াবহ ও জঘন্য বিষয়, তা অনুধাবন করার জন্য আমরা যদি পবিত্র কুরআনের দিকে দৃষ্টি দেই তাহলে আমরা দেখতে পাবো কুরআন কতটা কঠোরতার সাথে উগ্রতাকে নিষেধ করেছে। মহান আল্লাহ বলেন, যে কেউ একটি প্রাণকে হত্যা করল; সে যেন সমগ্র মানবজাতিকে হত্যা করল; আর যে কেউ একটি প্রাণকে রক্ষা করল; সে যেন সমগ্র মানবজাতিকে রক্ষা করল। (সুরা মায়িদা, আয়াত : ৩২)
এই আয়াত থেকে স্পষ্ট বুঝা যায় ইসলামে নিরপরাধ মানুষকে হত্যা করা কতটা ভয়াবহ অপরাধ। চাই সে মানুষ মুসলিম হোক বা অমুসলিম, হিন্দু হোক বা খ্রিষ্টান। মানুষ হিসেবে এই পৃথিবীতে প্রতিটা মানুষের শান্তি ও নিরাপত্তার সাথে বসবাসের অধিকার রয়েছে। মহান আল্লাহর দেয়া এই অধিকার চাইলেই যে কেউ খর্ব করতে পারে না।
তা ছাড়া ইসলাম আমাদেরকে শিক্ষা দেয়, নিজ ধর্ম গ্রহণে ভিন্ন ধর্মাবলম্বী কাউকে কোনো জোর-জবরদস্তি করা যাবে না। তার ধর্ম সে পালন করবে, তাতে কোনো বাঁধাও দেয়া যাবে না। বরং সে যেন নির্বিঘ্নে তাঁর ধর্মকর্ম পালন করতে পারে, আমার দ্বারা যেন তাঁর ধর্মকর্ম পালনে কোনো অসুবিধা না হয়, সেদিকে লক্ষ্য রাখাও আমার দায়িত্ব। সেই সাথে ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের ধর্মকর্ম সুষ্ঠুভাবে পালনের নিশ্চয়তা প্রদান করা একটি গণতান্ত্রিক সরকারের অবশ্য পালনীয় দায়িত্ব।
আরও পড়ুন: ইসলামে শ্রমিকের অনন্য মর্যাদা
পৃথিবীতে বহুমাত্রিক ধর্ম থাকবে এটা কুরআন থেকেও বুঝা যায়। বহুমাত্রিক ধর্ম থাকবে বলে আমি যে কাউকেই আমার ধর্ম গ্রহণে বাধ্য করতে পারবো না। পবিত্র কুরআনে ঘোষিত হচ্ছে: ধর্মের ব্যাপারে কোনো জবরদস্তি নেই। (সুরা বাকারা, আয়াত : ২৫৬)
এটি প্রমাণ করে একজন মুসলিম, যে ইসলাম প্র্যাকটিস করে সে কখনো কাউকে তার ধর্ম ছেড়ে ইসলাম গ্রহণে জোড় করতে পারেনা, জোড় করে কাউকে ধর্ম গ্রহণ করতে বাধ্য করতে পারবে না। এটি একজন প্রকৃত মুসলিমের কাজ নয়।
তা ছাড়া ইসলাম আমাদেরকে ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের সাথে উত্তম আচরণের শিক্ষাও দেয়। ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের প্রতি সহনশীল হতে ইসলাম আমাদেরকে উৎসাহিত করে। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ আমাদেরকে লক্ষ্য করে বাণী শোনাচ্ছেন: আল্লাহ তোমাদেরকে নিষেধ করেন না তাদের সাথে সদাচরণ ও ন্যায়বিচার করতে, যারা তোমাদের সাথে ধর্মের কারণে যুদ্ধ করে না। (সুরা মুমতাহিনা, আয়াত : ৮)
এখানে মুসলমানদেরকে অন্য ধর্মের মানুষের সাথে সুন্দর আচরণ করতে উৎসাহিত করা হয়েছে।
আমাদের প্রিয় নবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামও উগ্রতা ও কঠোরতার বিরুদ্ধে আমাদেরকে, তার উম্মতদেরকে সতর্ক করেছেন। হাদিসে রসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তোমরা দ্বীনে বাড়াবাড়ি (উগ্রতা) থেকে বেঁচে থাকো; কারণ তোমাদের পূর্ববর্তী জাতিরা উগ্রতার কারণেই ধ্বংস হয়েছে। (ইবনে মাজাহ)
সুতরাং আমি যদি আমার ধর্ম নিয়ে উগ্রতা করি, বাড়াবাড়ি করি তাহলে আমরা নিজেরাই আমাদের ধ্বংস ডেকে আনবো। তাই আমাদেরকে আমাদের প্রতিটা কাজেকর্মে শান্তির বাণী আর শান্তির বার্তা পৃথিবীময় ছড়িয়ে দিতে হবে।
একজন আদর্শ মুসলিম হিসেবে এটি আমার অপরিহার্য কাজ এবং এটিই একজন আদর্শ মুসলিমের পরিচয়। হাদিসে রসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: “সেই ব্যক্তি প্রকৃত মুসলিম, যার জিহ্বা ও হাত থেকে অন্য মুসলিম নিরাপদ থাকে।” আরেক বর্ণনায় এসেছে, সব মানুষই যেন তার ক্ষতি থেকে নিরাপদ থাকে। (বুখারি ও মুসলিম)
ইসলাম আমাদেরকে সব ধর্মের মানুষের সাথে সহাবস্থানের শিক্ষা দেয়। মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদিনায় এসে মুসলিম, ইহুদি ও অন্যান্য সম্প্রদায়ের মধ্যে একটি চুক্তি (মদিনা সনদ) প্রণয়ন করেছিলেন, যেখানে সবার ধর্মীয় স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছিল।
তাই আজও পৃথিবীময় শান্তি বিস্তারে মহানবীর এই থিয়োরি বাস্তবায়নের বিকল্প কিছু নেই।
]]>
১ ঘন্টা আগে
১








Bengali (BD) ·
English (US) ·