স্বাস্থ্যসেবা মানুষের মৌলিক অধিকার, কোনো সুবিধা নয়: প্রধানমন্ত্রী

৬ দিন আগে
আগামী প্রজন্মের জন্য একটি স্বাস্থ্যকর ও নিরাপদ পৃথিবী গড়ে তোলার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

‘বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে দেয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারের কাছে স্বাস্থ্যসেবা কোনো বিশেষ ‘সুবিধা’ নয়, বরং এটি প্রতিটি নাগরিকের ‘মৌলিক অধিকার’।
 

সোমবার (৬ এপ্রিল) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেয়া এক পোস্টে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি সরকারের স্বাস্থ্য খাতের রূপরেখা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন। এবারের দিবসের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে– ‘স্বাস্থ্যসেবায় বিজ্ঞান, সুরক্ষিত সকল প্রাণ’।
 

প্রধানমন্ত্রী তার বার্তায় মানুষ, পশুপাখি ও পরিবেশের পারস্পরিক সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে ‘One Health’ বা ‘এক স্বাস্থ্য’ ধারণার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘মানুষের সুস্থতা তার চারপাশের প্রাণিকুল ও পরিবেশের সুস্বাস্থ্যের ওপর নির্ভরশীল। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে চিকিৎসাবিজ্ঞান, কৃষিবিজ্ঞান, প্রাণিবিজ্ঞান ও পরিবেশবিজ্ঞানকে সমন্বিত করে গবেষণা ও টেকসই প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করা আমাদের সময়ের দাবি।’
 

প্রান্তিক ও দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য বৈষম্যহীন চিকিৎসা নিশ্চিত করতে প্রযুক্তির কোনো বিকল্প নেই উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, দ্রুত ও নির্ভুল রোগ নির্ণয়ে ভার্চুয়াল রিয়েলিটি (ভিআর), অগমেন্টেড রিয়েলিটি (এআর), কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং মেশিন লার্নিংয়ের (এমএল) মতো আধুনিক প্রযুক্তির উদ্ভাবন ও প্রসারকে সরকার উৎসাহিত করবে।
 

আরও পড়ুন: ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারে গুরুত্ব প্রধানমন্ত্রীর


প্রধানমন্ত্রী তার পোস্টে স্বাস্থ্য খাতের আমূল পরিবর্তনে একগুচ্ছ পরিকল্পনার কথা জানান:

* ৮০ হাজার নারী স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ: দেশব্যাপী পর্যায়ক্রমে এক লাখ ‘হেলথ কেয়ারার’ নিয়োগ করা হবে, যার মধ্যে প্রায় ৮০ শতাংশই হবেন নারী।

* ই-হেলথ কার্ড ও স্বাস্থ্যবিমা: প্রতিটি নাগরিকের জন্য ডিজিটাল ‘ই-হেলথ কার্ড’ এবং দীর্ঘমেয়াদি ও জটিল রোগের চিকিৎসায় স্বাস্থ্যবিমা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।

* বাজেট বরাদ্দ বৃদ্ধি: স্বাস্থ্য খাতের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে পর্যায়ক্রমে জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দ দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।

* পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ: সেবার মান উন্নয়ন ও ব্যয় সহনীয় রাখতে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে চিকিৎসা ব্যবস্থা জোরদার করা হবে।
 

‘Prevention is Better than Cure’ বা ‘প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধ উত্তম’–এই নীতিতে বিশ্বাসী হয়ে বর্তমান নির্বাচিত সরকার একটি মানবিক স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে কাজ শুরু করেছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শহর ও গ্রামে মা ও শিশুর পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্যসেবাসহ রোগ প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম ব্যাপকভাবে সম্প্রসারণ করা হবে।


সবশেষে, একটি সুস্থ ও সবল জাতি গঠনে দেশবাসীকে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস ২০২৬-এর সব কর্মসূচির সফলতা কামনা করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

]]>
সম্পূর্ণ পড়ুন