সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের স্বপ্নপূরণ, তবে উচ্চশিক্ষার ‘মানোন্নয়ন’ নিয়ে সংশয়

১ ঘন্টা আগে
কলা, সামাজিক বিজ্ঞান ও বিজ্ঞান; এই তিনটি স্কুল নিয়ে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে সাত কলেজ নিয়ে গঠিত ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি। দীর্ঘদিনের আন্দোলন ও দাবির পর এটি আইনি স্বীকৃতি পাওয়ায় উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা। তবে এই আনন্দের মধ্যেও রয়েছে কিছু প্রশ্ন ও সংশয়। বিশেষ করে সেশনজট নিরসন এবং উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়নে নতুন এই বিশ্ববিদ্যালয় কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে; তা নিয়ে সন্দিহান শিক্ষাবিদরা।

রাজপথের স্লোগান আর শিক্ষার্থীদের রক্তের বিনিময়ে দীর্ঘ আন্দোলনের সার্থকতা যেন অবশেষে ধরা দিয়েছে। বহু প্রতীক্ষার পর সংসদে আইনি কাঠামো পাওয়ায় উচ্ছ্বাসে ভাসছে রাজধানীর সাতটি বড় ক্যাম্পাস। ঢাকা কলেজ, ইডেন, তিতুমীর, বদরুন্নেসা, বাংলা কলেজ, কবি নজরুল ও সোহরাওয়ার্দী কলেজের সমন্বয়ে গঠিত ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি এখন দেশের ৫৭তম পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে।

 

এই স্বীকৃতিতে আনন্দিত শিক্ষার্থীরা বলছেন, দীর্ঘদিনের আন্দোলনের পর এটি নিঃসন্দেহে একটি বড় অর্জন। চাকরির বাজারে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচয় গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় এখন নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলবে। নতুন শিক্ষার্থীরাও এর সুফল পাবেন।

 

আরও পড়ুন: ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি বিল সংসদে পাস

 

তবে এই অর্জনের পাশাপাশি সামনে বড় চ্যালেঞ্জও দেখছেন শিক্ষার্থীরা। বিশেষ করে বর্তমান শিক্ষার্থীদের মধ্যে রয়েছে অনিশ্চয়তা। তাদের মতে, আইন পাস হওয়া শুধু প্রথম ধাপ; একটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের মান ধরে রাখতে প্রয়োজন আধুনিক ল্যাব, সমৃদ্ধ লাইব্রেরি এবং দক্ষ শিক্ষক নিয়োগ। এ বিষয়গুলোতে সংশ্লিষ্টদের নজর দিতে হবে। একই সঙ্গে চলমান শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে স্পষ্ট দিকনির্দেশনা না থাকায় উদ্বেগও রয়েছে।

 

প্রাথমিকভাবে কলা, সামাজিক বিজ্ঞান ও বিজ্ঞান-এই তিনটি স্কুল নিয়ে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হবে। পরবর্তীতে আইন ও ব্যবসা শিক্ষাসহ অন্যান্য স্কুল চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাঠামোয় প্রধানকে ‘হেড অব স্কুল’ বলা হবে এবং ২৯ সদস্যের একটি একাডেমিক কাউন্সিল গঠনের কথা রয়েছে।

 

ঢাকা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মো. নুরুল ইসলাম বলেন, বিশ্বের নামকরা বিশ্ববিদ্যালয় যেমন ইউনিভার্সিটি অব ক্যামব্রিজ, ইউনিভার্সিটি অব অক্সফোর্ড কিংবা হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটি-এসব প্রতিষ্ঠানেও একাধিক সংযুক্ত কলেজের মাধ্যমে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হয়। একই মডেলে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ কলেজে পড়াশোনা করলেও তাদের পরিচয় হবে ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী’ হিসেবে। উন্নত বিশ্বের শিক্ষাব্যবস্থার আদলে রাজধানীর মধ্যে একটি মানসম্পন্ন বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে এটিকে গড়ে তোলার লক্ষ্য রয়েছে সরকারের।

 

তবে সাত কলেজকে একীভূত করে বিশ্ববিদ্যালয় গঠনের এই উদ্যোগের সামনে রয়েছে নানা বাস্তব চ্যালেঞ্জ। শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের অন্যতম অভিযোগ ছিল পরীক্ষা গ্রহণ ও ফল প্রকাশে দীর্ঘসূত্রিতা। বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের পর এখন নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে-এই কলেজগুলোর শিক্ষকরা কি বিশ্ববিদ্যালয়ের কাঠামোর অধীনে থাকবেন, নাকি তাদের ক্যাডার পদমর্যাদা বহাল থাকবে।

 

একই বিভাগে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী, তাদের ক্লাস-পরীক্ষা ব্যবস্থাপনা এবং এর সঙ্গে যুক্ত ইন্টারমিডিয়েট পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের চাপ-সব মিলিয়ে নতুন এই বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম কীভাবে পরিচালিত হবে, তা নিয়েও রয়েছে অনিশ্চয়তা।

 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের অধ্যাপক ড. মো. আব্দুস সালাম বলেন, আগে এসব কলেজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে থাকলেও ব্যবস্থাপনার জটিলতার কারণেই তারা সেখান থেকে বেরিয়ে আসে। ফলে নতুন কাঠামোতেও একই ধরনের জটিলতায় পড়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেয়া যায় না।

 

আরও পড়ুন: ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির প্রথম ভিসি নিয়োগ

 

যদিও উপাচার্য ড. মো. নুরুল ইসলাম আশ্বস্ত করেছেন, ক্লাস ও পরীক্ষা কেন্দ্রীয়ভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে। তার মতে, প্রশ্ন প্রণয়ন থেকে মূল্যায়ন-সব কিছুই কেন্দ্রীয়ভাবে পরিচালিত হবে। পাশাপাশি অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো প্রথম ও দ্বিতীয় পরীক্ষক নিয়োগ এবং বাইরের বিশেষজ্ঞদের যুক্ত করে একটি ভারসাম্যপূর্ণ মূল্যায়ন পদ্ধতি গড়ে তোলা হবে।

 

তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বতন্ত্র সত্তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন শিক্ষাবিদরা। ড. মো. আব্দুস সালামের মতে, ঢাকা কলেজ বা তিতুমীর কলেজের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের আলাদা পরিচয় ধরে রাখতে চাইবে। ফলে কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও পৃথক কলেজ কর্তৃপক্ষের মধ্যে স্বার্থের দ্বন্দ্ব তৈরি হতে পারে, যা শিক্ষার মানের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

 

রাজধানীর সাত কলেজকে এক ছাতার নিচে আনার এই উদ্যোগে নতুন সম্ভাবনার পাশাপাশি রয়েছে নানামুখী চ্যালেঞ্জ। এরই মধ্যে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন রয়ে গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়টির মূল ক্যাম্পাস ঢাকার কোথায় হবে, তা এখনও চূড়ান্ত করা যায়নি।

]]>
সম্পূর্ণ পড়ুন