আলনসো বার্নাব্যু ছেড়েছিলেন ৭৪% জয়ের হার নিয়ে, যেখানে আরবেলোয়ার জয়ের হার এখন ৬৪%। লিগে আলনসোর চেয়ে পাঁচটি ম্যাচ কম পরিচালনা করেও তিনি ইতোমধ্যে বেশি ম্যাচ হেরেছেন।
এছাড়া কোপা দেল রেতে দ্বিতীয় স্তরের দল আলবাসেতের কাছে বিস্ময় জাগানিয়া হার আরবেলোয়ার অবস্থানকে আরও দুর্বল করেছে, যদিও তিনি দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র দুই দিন পরই সেই ম্যাচটি খেলেছিল দল।
আরবেলোয়াকে সরানো হলে সম্ভাব্য বিকল্প হিসেবে যাদের নাম আলোচনায় আসছে, তাদের মধ্যে রয়েছেন রিয়ালেরই সাবেক কোচ জোসে মরিনিয়ো, যিনি বর্তমানে বেনফিকার কোচ।
মরিনহো ২০১০ থেকে ২০১৩ পর্যন্ত রিয়াল মাদ্রিদের দায়িত্বে ছিলেন এবং তার সময়ে দল লা লিগা, কোপা দেল রে ও স্প্যানিশ সুপার কাপ জিতেছিল।
স্প্যানিশ ফুটবল বিশ্লেষক গিয়েম বালাগে বিবিসি স্পোর্টকে জানিয়েছেন, রিয়াল প্রেসিডেন্ট ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ মরিনিয়োকে পছন্দ করেন, তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে তাকে আবার কোচ হিসেবে আনার সম্ভাবনা কম বলেই মনে করছেন তিনি।
আরও পড়ুন: বস্টনে বিশ্বকাপ ম্যাচ ঘিরে ‘টেইলগেটিং’ অনুমোদন, সিদ্ধান্ত বদলালো ফিফা
হোসে মরিনিয়ো কি সত্যিই আবার রিয়াল মাদ্রিদে ফিরতে পারেন?
আগামী মৌসুমের জন্য রিয়াল মাদ্রিদের এখনও নিশ্চিত কোনো কোচ নেই। আলভারো আরবেলোয়ার চুক্তির আর এক বছর বাকি থাকলেও ক্লাব প্রেসিডেন্ট ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ যে নতুন কোচ খুঁজছেন, তা পরিষ্কার। আরবেলোয়ার কিছু ইতিবাচক দিক পেরেজ স্বীকার করলেও বার্নাব্যুতে শেষ কথা বলে ফলাফল।
রিয়ালে মরিনিয়োর অধীনে খেলেছেন বর্তমান কোচ আলভারো আরবেলোয়া। ছবি: এপি
কাকে কোচ হিসেবে আনা হবে, তা বোঝার জন্য আগে পেরেজের চিন্তাধারা বোঝা জরুরি। তিনি খেলার স্টাইল নিয়ে খুব একটা ভাবেন না, দল হাই প্রেস করবে নাকি ডিপ ব্লকে খেলবে, এসব তার মাথাব্যথা নয়। তার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো জয়, এবং তার চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো ‘ম্যানেজমেন্ট’ তথা ড্রেসিংরুম, বড় তারকা আর ইগো সামলানো।
পেরেজের কাছে আদর্শ কোচ একজন অর্কেস্ট্রার কন্ডাক্টরের মতো।
বার্নাব্যুতে দীর্ঘদিন ধরেই দুই ধরনের মতাদর্শের টানাপোড়েন আছে। একদিকে আছেন ক্লাবের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ কর্মকর্তা হোসে অ্যাঞ্জেল সানচেজ, যিনি মনে করেন দলকে গুছিয়ে রাখতে কৌশলগতভাবে কঠোর ও সংগঠিত কোচ দরকার। এই ভাবনা থেকে রাফায়েল বেনিতেজ, হুলেন লোপেতেগি এবং সর্বশেষ জাবি আলোনসোকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু কেউই বেশি দিন টিকতে পারেননি।
অন্যদিকে, পেরেজ নিজে পছন্দ করেন বড় মাপের ব্যক্তিত্বসম্পন্ন কোচ, যাদের উপস্থিতিই ড্রেসিংরুমে প্রভাব ফেলে। যেমন জিনেদিন জিদান বা কার্লো আনচেলত্তি। ধৈর্য শেষ হলে পেরেজ বারবার এই ধরনের কোচের দিকেই ফিরে যান।
আলোনসো চলে যাওয়ার পর আবারও পেরেজের পছন্দই প্রাধান্য পাচ্ছে, এবং সম্ভাব্য কোচদের তালিকাতেও সেটির প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে।
এখন আসা যাক আলোচিত নাম মরিনিয়োর সম্ভাবনা নিয়ে। ক্লাবের ভেতরের সূত্র বলছে, তিনি একমাত্র বিকল্প নন। এই সম্ভাবনাটি মূলত পেরেজ নিজে এবং মরিনিয়োর আগ্রহ থেকেই উঠে এসেছে।
পেরেজ প্রায়ই বিভিন্ন নাম সামনে ছুড়ে দেন, তারপর প্রতিক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করেন।
বর্তমানে মরিনিয়ো বেনফিকার সঙ্গে ২০২৭ পর্যন্ত চুক্তিবদ্ধ। তবে প্রয়োজনে সেই চুক্তি থেকে বের হওয়া সম্ভব এবং প্রকাশ্যে যা-ই বলুন না কেন, ধারণা করা হচ্ছে তিনি আবার বার্নাব্যুতে ফিরতে আগ্রহী।
পরবর্তী কোচ হিসেবে রিয়ালের রাডারে আছেন মাউরিসিও পচেত্তিনো ও মাসিমিলিয়ানো আলেগ্রির নামও। ছবি: সংগৃহীত
বেনফিকা-রিয়াল মাদ্রিদ চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ম্যাচে জিয়ানলুকা প্রেস্টিয়ান্নি ঘটনায় মরিনিয়োর আচরণ ক্লাবের অনেকের, এমনকি পেরেজের কাছেও তার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করেনি। সব মিলিয়ে এটি একটি ‘ওয়াইল্ডকার্ড’ অপশন; পরিচিত একজন কোচ, যিনি ড্রেসিংরুম নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন এবং যার ফিরে আসা নিজেই একটি বড় বার্তা হবে।
তবে ক্লাবের ভেতরের সূত্র বলছে, অন্য সব বিকল্প ব্যর্থ হলে তবেই এই সম্ভাবনা বাস্তব হতে পারে।
আরও পড়ুন: কেমন হতে পারে ব্রাজিলের বিশ্বকাপ স্কোয়াড, নেইমার থাকবেন তো?
রিয়াল মাদ্রিদের কোচ পদে আর কারা আলোচনায় আছেন?
প্রথমেই আসছে মাউরিসিও পোচেত্তিনোর নাম। তিনি এই দৌড়ে বেশ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় আছেন, তবে এখানে বড় বাধা তিনি বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র জাতীয় ফুটবল দল-এর কোচ এবং বিশ্বকাপ পর্যন্ত দায়বদ্ধ।
প্রশ্ন হচ্ছে, যদি টুর্নামেন্টে ভালো না করেন? অথবা যদি অনেক দূর এগিয়ে যান, তাহলে তো জুলাইয়ের আগে যোগ দেওয়া সম্ভব নয়, ততদিনে রিয়ালের প্রি-সিজন শুরু হয়ে যাবে।
তবে ক্লাবের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গে তার সম্পর্ক ভালো এবং অতীতেও তিনি এই পদের জন্য বিবেচিত হয়েছেন। টটেনহ্যাম হটস্পার, প্যারিস সেন্ট-জার্মেই এবং চেলসিতে ভিন্ন ধরনের দল ও পরিস্থিতিতে কাজ করার অভিজ্ঞতা তাকে শক্ত অবস্থানে রেখেছে। জানা যায়, রিয়াল কোচ হওয়া তার দীর্ঘদিনের স্বপ্ন।
আরেকটি শক্তিশালী নাম দিদিয়ের দেশম। তিনি বর্তমানে ফ্রান্স জাতীয় ফুটবল দল-এর কোচ এবং বিশ্বকাপ পর্যন্ত চুক্তিবদ্ধ। এরপর তিনি ফ্রি হয়ে যাবেন।
দেশম বড় তারকায় ভরা দল শান্তভাবে সামলাতে পারেন এবং কোনো জটিল ফুটবল দর্শন চাপিয়ে দিতে চান না, যা পেরেজের পছন্দের সঙ্গে মেলে। উপরন্তু কিলিয়ান এমবাপ্পেসহ ফরাসি খেলোয়াড়দের উপস্থিতি রিয়ালের সঙ্গে তার একটি স্বাভাবিক সংযোগ তৈরি করে।
এসি মিলানের কোচ মাসিমিলিয়ানো আলেগ্রিও তালিকায় আছেন। তাকে অনেকটা কার্লো আনচেলত্তির ধাঁচের কোচ হিসেবে দেখা হয়; অভিজ্ঞ, তারকা খেলোয়াড় সামলাতে পারদর্শী এবং অতিরিক্ত কৌশলগত দর্শন চাপিয়ে দেন না।
আরও পড়ুন: এসএসসির ইংরেজি প্রশ্নে ফুটবলার হামজা চৌধুরী
রিয়াল আগেও তাকে চেয়েছিল এবং এখনও তার নাম অভ্যন্তরীণ আলোচনায় ঘুরছে। এমন কথাও শোনা যাচ্ছে, লুকা মদ্রিচ (যিনি গত গ্রীষ্মে মিলানে যোগ দিয়েছেন) তার সঙ্গে আবার বার্নাব্যুতে ফিরতে পারেন, যদিও দু’জনেই এ বিষয়ে আগ্রহ অস্বীকার করেছেন।
সবশেষে আলোচনায় আছেন ইয়ুর্গেন ক্লপ। তার নাম বড় এবং আকর্ষণীয় হলেও কিছু সংশয় রয়েছে। ক্লপ সাধারণত নিজের নির্দিষ্ট খেলার ধরন চাপিয়ে দেন এবং ক্লাবকে নিজের দর্শনে গড়ে তোলেন, যা ফ্লোরেন্তিনো পেরেজের রিয়ালের দর্শনের সঙ্গে পুরোপুরি মেলে না।
এই কারণে, আপাতত ক্লপ এমন একটি নাম, যা ক্লাবের ভেতরের চেয়ে বাইরের মানুষদের কাছেই বেশি উত্তেজনা তৈরি করছে।

৩ ঘন্টা আগে
২







Bengali (BD) ·
English (US) ·