ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে যে বস্তুটিকে মিসাইল বলা হচ্ছে, পায়েল স্পষ্ট করেছেন যে সেটি আসলে একটি 'আনগাইডেড রকেট'। এটি মূলত পরীক্ষামূলকভাবে তৈরি করা হয়েছে ফ্লাইটের স্ট্যাবিলিটি এবং বায়ুমণ্ডলের তাপমাত্রার মতো বিভিন্ন ডেটা সংগ্রহের জন্য। তবে প্রাযুক্তিক এবং লজিস্টিক সহায়তা পেলে এটাকেই মিসাইলে রূপ দেয়া সম্ভব।
রকেটটি তৈরিতে খরচ হয়েছে মাত্র ছয় থেকে সাত হাজার টাকা এবং এটি দেড় কিলোমিটার বা ১,৫০০ মিটার পর্যন্ত পথ পাড়ি দিতে সক্ষম। পায়েলের মতে, প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম এবং হাই লেভেল প্রফেলেন্ট পেলে এর রেঞ্জ প্রাথমিকভাবে ২০ কিলোমিটারের বেশি করা সম্ভব।
পায়েলের প্রযুক্তির প্রতি আসক্তি ছোটবেলা থেকেই। ষষ্ঠ-সপ্তম শ্রেণিতে পড়ার সময় থেকেই তিনি প্রোগ্রামিং শেখা শুরু করেন এবং ২০২০ সাল থেকে পুরোদমে রোবটিক্সের সাথে যুক্ত হন। গবেষণার খরচ চালানোর জন্য তিনি বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ফাইনাল ইয়ার প্রজেক্ট তৈরি করে দেন এবং সেখান থেকে প্রাপ্ত অর্থ নিজের গবেষণায় ব্যয় করেন। তার এই কাজে পরিবার এবং কলেজ কর্তৃপক্ষ তাকে সব সময় সমর্থন দিয়ে আসছে।
শুধু রকেট নয়, আরও বেশ কিছু বিষয় নিয়ে কাজ করছেন পায়েল। যার মধ্যে রয়েছে রোবটিক হ্যান্ড; যা ইতিমধ্যেই বাজারে লঞ্চ করা হয়েছে।
এছাড়া আছে ড্রোন প্রযুক্তি। তিনি এগ্রিকালচারাল ড্রোন, ইউভি ড্রোন এবং সামরিক ব্যবহারের জন্য কমব্যাট ড্রোন নিয়ে কাজ করছেন। বিশেষ করে দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় নজরদারি এবং অপরাধ দমনে এই ড্রোনগুলো কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করেন তিনি।
আরও পড়ুন: ৫০ বছর পর আবার চাঁদের পথে মানুষ, সময় জানাল নাসা
অনেকেই আশঙ্কা প্রকাশ করছে যে, তার তৈরি রকেট উড়ে গিয়ে কোথাও আঘাত হেনে ক্ষতি করতে পারে। এই প্রশ্নে পয়েল বলছেন, তার রকেটে কোনো ধরণের ওয়ারহেড বা বিস্ফোরক নাই। ফলে এটি পড়ার পর বিস্ফোরিত হবে না।
পায়েলের স্বপ্ন বাংলাদেশে একটি 'টেক ইন্ডাস্ট্রি' বা 'স্কাই রোবটিক ল্যাব' গড়ে তোলা, যেখানে ড্রোন এবং বিভিন্ন উন্নত যন্ত্রপাতি তৈরি হবে। তবে এই যাত্রায় কিছু আইনি জটিলতা এবং কারিগরি সহযোগিতার অভাবকে তিনি বড় বাধা হিসেবে দেখছেন। রকেট উৎক্ষেপণের পারমিশন এবং উন্নত কেমিক্যাল সংগ্রহের ক্ষেত্রে সরকারি সহযোগিতা পেলে দেশীয় প্রযুক্তিতেই শক্তিশালী ডিফেন্স সিস্টেম তৈরি করা সম্ভব বলে মনে করেন তিনি।

২ দিন আগে
২







Bengali (BD) ·
English (US) ·