বিস্তৃত হচ্ছে এনসিপি, চারটি সংগঠন হয়েছে, আরও দুটি আসছে

৪ ঘন্টা আগে

জাতীয় রাজনীতিতে অবস্থান মজবুতের লক্ষ্যে পেশাভিত্তিক অঙ্গনগুলোতে ছড়াতে চাইছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। জুলাই অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া তরুণদের গড়া দলটি এরই মধ্যে দুটি সহযোগী ও দুটি অঙ্গসংগঠন গড়ে তুলেছে। অচিরেই আরও দুটি সহযোগী সংগঠনের আত্মপ্রকাশ হচ্ছে।

এনসিপির সহযোগী সংগঠন হিসেবে জাতীয় ছাত্রশক্তি ও জাতীয় শ্রমিক শক্তি এবং অঙ্গসংগঠন হিসেবে জাতীয় যুবশক্তি ও জাতীয় নারীশক্তির আত্মপ্রকাশ এরই মধ্যে হয়েছে। অপেক্ষায় আছে জাতীয় কৃষক শক্তি ও জাতীয় স্বেচ্ছাসেবক শক্তি।

ভোটের মাঠে এনসিপির তেমন সফল হতে না পারা নিয়ে আলোচনার মধ্যে নির্বাচনের পর দলটির পেশাভিত্তিক সহযোগী সংগঠন গড়ে তোলার তৎপরতা বাড়তে দেখা যাচ্ছে। বাংলাদেশে মূলধারার রাজনৈতিক দলগুলোর যেমন ছাত্র, যুব, শ্রমিক, কৃষক ও স্বেচ্ছাসেবক সংগঠন থাকে, সেই ধারাতেই এখন হাঁটছে দলটি।

জুলাই অভ্যুত্থানের সাত মাস পর ২০২৫ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি রাজনৈতিক দল হিসেবে এনসিপি আত্মপ্রকাশ করে। এরপর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে ছয়টি আসনে জেতে দলটি। শুরুতে এককভাবে ভোটের লক্ষ্য থাকলেও পরে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে একটি নির্বাচনী ঐক্যে যোগ দিয়ে ৩০টির মতো আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে।

ভোটের মাঠে এনসিপির তেমন সফল হতে না পারা নিয়ে আলোচনার মধ্যে নির্বাচনের পর দলটির পেশাভিত্তিক সহযোগী সংগঠন গড়ে তোলার তৎপরতা বাড়তে দেখা যাচ্ছে। বাংলাদেশে মূলধারার রাজনৈতিক দলগুলোর যেমন ছাত্র, যুব, শ্রমিক, কৃষক ও স্বেচ্ছাসেবক সংগঠন থাকে, সেই ধারাতেই এখন হাঁটছে দলটি।

নেপালে আরএসপি পারল, বাংলাদেশে এনসিপি কেন পারল না

ছাত্র দিয়ে শুরু; পরে যুব, শ্রমিক, নারী

জুলাই আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া প্ল্যাটফর্ম বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সম্মুখসারির সমন্বয়কদের অনেকেই গণতান্ত্রিক ছাত্রশক্তি নামের একটি ছাত্রসংগঠনে যুক্ত ছিলেন। অভ্যুত্থানে জয়ের কিছুদিন পর তাঁরাই এই সংগঠনের কার্যক্রম স্থগিত করে দিয়েছিলেন। এরপর গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে সমন্বয়কদের (ছাত্রশক্তির সাবেক) একটি অংশের উদ্যোগে ছাত্র সংগঠন হিসেবে বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদের যাত্রা শুরু হয়। এটি কার্যত এনসিপির ছাত্রসংগঠন হলেও এই পরিচয় দিতে তারা অস্বস্তি বোধ করত।

গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদ ছাত্রসংগঠন হিসেবে সেভাবে সাড়া ফেলতে পারেনি। গত বছরের ৯ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে তাদের ভরাডুবির পর সংগঠনটিকে পুনর্গঠনের আলোচনা শুরু হয়। সম্মেলন করে তাদের নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব দেওয়া হয় এনসিপির পক্ষ থেকে। পাশাপাশি সংগঠনটিকে সরাসরি এনসিপির ছাত্রসংগঠন হিসেবে পরিচিত করানোর পরামর্শও দেওয়া হয়।

রাজধানীর শাহবাগে আবু সাঈদ কনভেনশন সেন্টারে বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদের জাতীয় সম্মেলনে জাতীয় ছাত্রশক্তির আত্মপ্রকাশ ঘটে। ২৩ অক্টোকর, ২০২৫
এনসিপির নারী সংগঠন জাতীয় নারীশক্তির আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে মনিরা-মাহমুদা-নুসরাত

সে অনুযায়ী, গত বছরের ২৩ অক্টোবর সংগঠনটির নাম পাল্টে জাতীয় ছাত্রশক্তি করা হয়। এবার সংগঠনটি এনসিপির সহযোগী সংগঠন হিসেবে নিজেদের পরিচিত করে। ছাত্রশক্তির সভাপতি করা হয় জাহিদ আহসানকে, সাধারণ সম্পাদক করা হয় আবু বাকের মজুমদারকে, যিনি ছাত্র সংসদেও একই পদে ছিলেন। বর্তমানে এই সংগঠনের ১২২ সদস্যের কেন্দ্রীয় কমিটি রয়েছে। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তাদের শাখা কমিটিও আছে।

যুবকদের মধ্যে কাজ করতে গত বছরের ১৬ মে গড়ে তোলা হয় জাতীয় যুবশক্তি। এই সংগঠনের আহ্বায়ক তারিকুল ইসলাম, সদস্যসচিব জাহেদুল ইসলাম। তারিকুল সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী, জাহেদুল পেশায় চিকিৎসক। যুবশক্তির কেন্দ্রীয় কমিটি ১৩৪ সদস্যের।

শ্রমিক শক্তির আত্মপ্রকাশ হয় গত বছরের ১৭ অক্টোবর। বর্তমানে এই সংগঠনের ১০১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি আছে। সংগঠনটির আহ্বায়কের দায়িত্বে থাকা মাজহারুল ইসলাম ফকির রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী। সদস্যসচিব ঋআজ মোর্শেদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী।

জাতীয় নারীশক্তির আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। ৮ মার্চ ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে

সর্বশেষ ৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবসে আনুষ্ঠানিক আত্মপ্রকাশ হয়েছে নারীশক্তির। প্রাথমিকভাবে সংগঠনটির তিন সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি করা হয়েছে। এতে মনিরা শারমিনকে আহ্বায়ক, মাহমুদা আলম মিতুকে সদস্যসচিব ও নুসরাত তাবাসসুমকে মুখ্য সংগঠকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। শিগগিরই পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের পাশাপাশি সংগঠনের গঠনতন্ত্রও প্রণয়ন করবে এই কমিটি।

আত্মপ্রকাশের অপেক্ষায় দুটি

এরপর কৃষক ও স্বেচ্ছাসেবক সংগঠন গড়ে তুলছে এনসিপি। সহযোগী সংগঠনগুলো গোছানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় রয়েছেন দলের মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, জাতীয় কৃষক শক্তির আত্মপ্রকাশ হতে পারে।

এ ছাড়া দলের স্বেচ্ছাসেবক সংগঠন (সম্ভাব্য নাম জাতীয় স্বেচ্ছাসেবক শক্তি) তৈরির কাজ চলছে বলে জানান এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব আলাউদ্দীন মোহাম্মদ। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, এই সংগঠনটি গোছানোর কাজ চলছে।

এনসিপির সহযোগী সংগঠন হিসেবে জাতীয় ছাত্রশক্তি ও জাতীয় শ্রমিক শক্তি এবং অঙ্গসংগঠন হিসেবে জাতীয় যুবশক্তি ও জাতীয় নারীশক্তির আত্মপ্রকাশ এরই মধ্যে হয়েছে। অপেক্ষায় আছে জাতীয় কৃষক শক্তি ও জাতীয় স্বেচ্ছাসেবক শক্তি।

এ ছাড়া নারী, ছাত্র, যুব ও শ্রমিক শক্তির বাইরে বিভিন্ন পর্যায়ের পেশাজীবীদের নিয়ে এনসিপির আরও কিছু সংগঠন রয়েছে। এর মধ্যে গত ডিসেম্বরে আত্মপ্রকাশ হয় ন্যাশনাল প্রফেশনাল অ্যালায়েন্সের। এনসিপি-সমর্থিত চিকিৎসকদের জন্য আছে ন্যাশনাল হেলথ অ্যালায়েন্স, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের জন্য ইউনিভার্সিটি টিচার্স ফোরাম, আইনজীবীদের জন্য ন্যাশনাল ল’ইয়ার্স কাউন্সিল, ট্যাক্স ল’ইয়ার্স অ্যালায়েন্স, ওলামাদের জন্য ন্যাশনাল ওলামা অ্যালায়েন্স, প্রকৌশলীদের জন্য প্রকৌশল উইং ও ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের জন্য আছে ডিপ্লোমা প্রকৌশল উইং।

নাম বদলে গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদ হয়ে গেল ‘জাতীয় ছাত্রশক্তি’
সম্পূর্ণ পড়ুন