জনশ্রুতি ও ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী, ইলিয়াস শাহী বংশের সুলতান রুকনুদ্দীন বারবক শাহের শাসনামলে ১৪৬৫ সালে এই মসজিদটি নির্মিত হয়। সুলতান রুকনুদ্দীন শাহ বাকলা (তৎকালীন চন্দ্রদ্বীপ) দখল করার পর মির্জাগঞ্জের এই নিভৃত গ্রামে এক গম্বুজবিশিষ্ট এই মসজিদটি নির্মাণ করেন। এই মসজিদের নামানুসারেই পরবর্তীকালে এলাকাটির নাম হয় 'মসজিদবাড়িয়া'।
মসজিদটি তৎকালীন সময়ের প্রকৌশলবিদ্যার এক বিস্ময়। রড ও সিমেন্টের ব্যবহার ছাড়াই এটি নির্মিত হয়েছে চুন, সুরকি ও পোড়ামাটির ইট দিয়ে। এর বিশেষ বৈশিষ্ট্যগু হলো- পুরো মসজিদটি একটি মাত্র বিশাল গম্বুজ দিয়ে আচ্ছাদিত। মসজিদে তিনটি দৃষ্টিনন্দন মেহরাব এবং পূর্বদিকে তিনটি খিলান পথ রয়েছে এবং স্থাপত্যটিতে ৮ কোণার ৬টি মিনার এবং সুদৃশ্য পিলার রয়েছে। এছাড়াও সংলগ্ন একটি বিশাল দীঘি রয়েছে এবং পাশেই চিরনিদ্রায় শায়িত আছেন ওই পরগনার ইয়াকিন শাহ ও কালাশাহ।
স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, 'মসজিদটি প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের অধীনে থাকলেও কোনো দৃশ্যমান সংস্কার নেই। এটি দ্রুত সংস্কার করা না হলে আমরা আমাদের পূর্বপুরুষদের এই গৌরবোজ্জ্বল স্মৃতি হারিয়ে ফেলব।'
আরও পড়ুন: ঐতিহ্য ও আধ্যাত্মিকতার আলোকবর্তিকা ময়মনসিংহের ‘বড় মসজিদ’
সরেজমিনে দেখা যায়, দীর্ঘদিনের অবহেলায় দরজা-জানালার কপাট নষ্ট হয়ে গেছে এবং পিলারগুলোর অস্তিত্ব বিলীনের পথে। প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের কাগজে-কলমে এই পুরাকীর্তিটি সংরক্ষিত থাকলেও বাস্তবে রক্ষণাবেক্ষণের কোনো ছাপ নেই। প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে শত শত পর্যটক ও গবেষক মসজিদটি দেখতে আসলেও এর জরাজীর্ণ অবস্থা তাদের হতাশ করছে।
স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের দাবি, অবিলম্বে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে মসজিদটি সংস্কার করে এর আদি রূপ ফিরিয়ে আনা হোক। তারা মনে করেন, এই মসজিদটি কেবল একটি উপাসনালয় নয়, বরং এ অঞ্চলে মুসলিম শাসনের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের এক জীবন্ত দলিল।

১ দিন আগে
১







Bengali (BD) ·
English (US) ·