প্রচণ্ড উত্তাপে গলানো বিভিন্ন ধাতু ও রাসায়নিকের তীব্র গন্ধে যেখানে নিঃশ্বাস নেয়াই কঠিন, সেখানে ১৬ বছরের সবুজ প্রতিদিন কাজ করে ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা। বিনিময়ে প্রতিদিন পায় ৫০০ টাকা। মাতুয়াইলের এই ঢালাই কারখানায় জীবনের ঝুঁকি থাকলেও ছোট ভাইয়ের পড়াশোনা ও সংসার খরচের জোগান দিতে বাধ্য হয়েই এখানে কাজ করতে হয় তাকে।
সবুজ জানায়, কাজ করতে কষ্ট হয়। তবে কিছু করার নেই। সংসারের খরচ জোগাতে কাজ করতেই হয়। পাশাপাশি ছোট ভাইকে পড়াশোনা করাচ্ছি। তার জন্যও অর্থ জোগাড় করতে হয়।
আরও পড়ুন: লেগুনার হাতলে ঝুলছে রাব্বীদের শৈশব
লেগুনা চালকের সহকারী হিসেবে কাজ করা ১৩ বছর বয়সী সাগরের গল্পটাও একই রকম। তার ছোট্ট কাঁধে উঠেছে সংসারের বোঝা। তার মতো অনেক শিশুরই দুরন্ত শৈশব হারিয়েছে কঠিন বাস্তবতায়।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) পর্যবেক্ষণ, নজরদারি না থাকাতেই ঝুঁকিপূর্ণ কাজে বাড়ছে ৭ থেকে ১৬ বছর বয়সী শিশুর সংখ্যা। যাদের মাসিক আয় আড়াই থেকে সর্বোচ্চ সাড়ে সাত হাজার টাকা।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর সবশেষ হওয়া জরিপ ২০২২ অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে কর্মজীবী শিশু ৩৫ লাখের বেশি। এরমধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ কাজে যুক্ত ১১ লাখ শিশু। বিগত সরকারের আমলে শিশুশ্রম রোধে নানা প্রকল্প হাতে নেয়া হলেও নেই তার কোনো বাস্তবায়ন।
আরও পড়ুন: দিবস পালনে কি আদৌ বন্ধ হবে শিশুশ্রম?
গণঅভ্যুত্থানের পরে গঠন হওয়া শ্রম সংস্কার কমিশন বলছে, শুধু দরিদ্রতা নয়, লোক দেখানো নীতিমালা ও আইনের কঠোর প্রয়োগের অভাবেই বাড়ছে শিশুশ্রম।
শ্রম সংস্কার কমিশনের সদস্য আফজাল কবির খান বলেন, বাংলাদেশের সমাজ শিশুশ্রমকে গ্রহণ করে। এতে শিশুরা শারীরিক ও মানসিকভাবে চাপে আছে। এদের মধ্যে থেকেই অনেকে নেশায় জড়িয়ে পড়ছে, কেউবা আবার কিশোর গ্যাংয়ে।
এমন বাস্তবতায় শিশুশ্রম কমাতে অন্তর্বর্তী সরকারের ভাবনা তুলে ধরেন শ্রম সংস্কার কমিশন সদস্য তাসলিমা আখতার।
তিনি বলেন, আমাদের প্রধান আকাঙ্ক্ষা, আমরা শিশুশ্রম চাই না। ঝুঁকিপূর্ণ কাজগুলো তালিকা করে সেখানে শিশুরা যুক্ত হচ্ছে কিনা, সেটা তদারকি করতে হবে।
শিশু অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলো বলছে, অনিশ্চিত ভবিষ্যতের হাতছানিতে স্বপ্নহীন জীবনে শ্রমজীবী শিশুদের শৈশব আটকে গেছে নানা সংকটে। তাই এবার শুধু প্রকল্প নয়, প্রয়োজন শ্রম আইনের সংস্কার।
]]>