লিবিয়া উপকূলে অভিবাসীবাহী নৌকা ডুবে ৫৩ জনের মৃত্যু

৪ সপ্তাহ আগে
লিবিয়ার উপকূলে অভিবাসীবাহী নৌকা ডুবে অন্তত ৫৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। রাবারের তৈরি নৌকাটি ভূমধ্যসাগরে যাত্রার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই উল্টে যায়। বেঁচে ফিরেছেন মাত্র দু’জন নারী।

লিবিয়া থেকে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে যাওয়ার পথটি বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম বিপজ্জনক অভিবাসন রুট হিসেবে পরিচিত। উন্নত জীবনের আশায় হাজার হাজার মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই পথে পা বাড়ালেও তারা প্রতিনিয়ত ভয়াবহ বিপদের সম্মুখীন হচ্ছেন।

 

এরই ধারাবাহিকতায় জাতিসংঘের অভিবাসন সংস্থা আইওএম জানায়, উত্তর-পশ্চিম লিবিয়ার আল-জাওইয়া শহর থেকে যাত্রা শুরু করা রাবারের নৌকাটিতে ৫৫ জন যাত্রী ছিলেন, যাদের মধ্যে দুই শিশু ছিল। যাত্রার প্রায় ছয় ঘণ্টা পর নৌকাটিতে পানি ঢুকে সেটি ডুবে যায়।

 

গত শুক্রবার লিবীয় কর্তৃপক্ষ মাত্র দুই নাইজেরীয় নারীকে জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হয়।

 

আইওএম জানায়, ২০২৬ সালে এখন পর্যন্ত লিবিয়া থেকে ইউরোপে যাওয়ার পথে প্রায় ৫০০ অভিবাসী মৃত বা নিখোঁজ হয়েছেন। শুধু জানুয়ারিতেই বেশ কয়েকটি নৌকাডুবিতে অন্তত ৩৭৫ জনের মৃত্যু বা নিখোঁজের তথ্য পাওয়া গেছে। প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে আশঙ্কা সংস্থাটির। 

 

আরও পড়ুন: লিবিয়া উপকূলে ২৬ বাংলাদেশি নিয়ে নৌকাডুবি, ৪ জনের মরদেহ উদ্ধার

 

বেঁচে যাওয়া দুই নারী জানান, একজন তার স্বামীকে হারিয়েছেন, আর অন্যজন এই দুর্ঘটনায় তার দুই শিশুকে হারিয়েছেন। আইওএমের দল তাদের জরুরি চিকিৎসা সহায়তা দিয়েছে।

 

সংস্থাটি বলছে, শীতকালীন প্রতিকূল আবহাওয়া ও অনিরাপদ নৌযানের কারণে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিতে গিয়ে ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়।

 

গাদ্দাফি সরকারের পতনের পর থেকে লিবিয়া ইউরোপগামী অভিবাসীদের প্রধান ট্রানজিট পয়েন্টে পরিণত হয়েছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলো জানিয়েছে, লিবিয়ায় অভিবাসীরা নির্যাতন, পাচার, জোরপূর্বক শ্রম ও চাঁদাবাজির শিকার হচ্ছেন। আইওএম বলছে, পাচারকারী চক্রগুলো অতিরিক্ত যাত্রী তুলে অনিরাপদ নৌকায় মানুষ পাঠিয়ে মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।

]]>
সম্পূর্ণ পড়ুন