শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৮টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত এ কর্মসূচি পালন করেন তারা।
জানা যায়, বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা রায়পুর উপজেলার রাখালিয়া বাজারে অবস্থিত বেঙ্গল সু ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড কারখানার প্রধান ফটক ও রায়পুর-লক্ষ্মীপুর আঞ্চলিক সড়ক অবরোধ করে রাখেন। খবর পেয়ে পুলিশ মালিক-শ্রমিক উভয় পক্ষের সঙ্গে কথা বলে সড়ক অবরোধ তুলে নিলে দুপুর ১২টার পর যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
আরও পড়ুন: ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করে শ্রমিক বিক্ষোভ, ভোগান্তি
শ্রমিকরা জানান, বুধবার থেকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য ছুটি দেয়া হয়। আজ শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে এসে দেখি গেটে তালা মারা ও বন্ধের নোটিশ ঝুলছে। কিন্তু কোনো পূর্ব ঘোষণা ও এক মাসের বেতন-ভাতা না দিয়েই কর্তৃপক্ষ শুক্রবার থেকে আগামী ৪৫ দিন পর্যন্ত (৩০ মার্চ) কারখানা ছুটির ঘোষণা দিলে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় বলে জানান শ্রমিকরা। শ্রমিক ছাড়াও কারখানার স্থায়ী কর্মকর্তা ও কর্মচারীদেরও ছয়-সাত মাসের বেতন-ভাতা বকেয়া রয়েছে।
আন্দোলনরত ঝর্না বেগম ও আরিফ হোসেনসহ কয়েকজন শ্রমিক জানান, কারখানাটিতে ৮০০ শ্রমিক কর্মরত। তাদের এক মাসের বেতন বাকি রয়েছে। বেতন ও ঈদ বোনাস পরিশোধ না করেই ঈদের ছুটি ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। এই অবস্থায় ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন শ্রমিকরা। পরে রায়পুর-লক্ষ্মীপুর আঞ্চলিক সড়ক অবরোধ করে রাখেন তারা।
আরও পড়ুন: গাজীপুরে শ্রমিক বিক্ষোভ, কারখানা বন্ধ
সহকারী পুলিশ সুপার (রায়পুর ও রামগঞ্জ সার্কেল) মো. জামিলুল হক জানান, ঘটনাস্থলে গিয়ে শ্রমিক ও কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলাপ করে সড়ক থেকে অবরোধ প্রত্যাহার করানো হয়েছে। আগামীকাল ২৫ থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারির মধ্যে শ্রমিকদের প্রাপ্যের একটি অংশ পরিশোধের বিষয়ে মালিকপক্ষ আশ্বাস দিয়েছে। শ্রমিকদের আন্দোলন শান্তিপূর্ণ হওয়ায় সেখানে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
বেঙ্গল সু ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের সহকারী ম্যানেজার সাইফুল করিম বলেন, ‘চাইনিজ নিউ ইয়ার এবং বায়ার কর্তৃক কাঁচামাল সরবরাহ বন্ধ থাকায় কারখানা উৎপাদন সম্ভব না থাকায় তা বন্ধ রাখা হয়েছে। কর্মকর্তাদের ছুটি দেয়া হয়েছে। এ কারণে শ্রমিকদের এক মাসের বেতন ও ঈদ বোনাস পরিশোধ করা সম্ভব হয়নি। আগামীকাল রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলের মধ্যে তাদের পাওনা পরিশোধ করা হবে। ঈদের পর মালিকপক্ষ এলে এবং ব্যাংক চালু হলে সবার দাবি দাওয়া পূরণ করা হবে।’

১ মাস আগে
৫







Bengali (BD) ·
English (US) ·