যুদ্ধের মধ্যেই আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের মহড়া রাশিয়ার

১ সপ্তাহে আগে
ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে যুদ্ধের তীব্রতা বেড়েই চলেছে। ইউক্রেনের বিভিন্ন শহরে রাশিয়ার ড্রোন হামলায় আবাসিক ভবন ও বন্দর অবকাঠামোতে ভয়াবহ আগুনের ঘটনা ঘটেছে। রাশিয়ার অভ্যন্তরে তেল শোধনাগার লক্ষ্য করে পাল্টা ড্রোন হামলা চালিয়েছে জেলেনস্কি বাহিনী। এমন উত্তপ্ত পরিস্থিতির মাঝেই সাইবেরিয়ায় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের মহড়া চালিয়েছে পুতিনের সেনারা।

ইউক্রেনজুড়ে আকাশপথে ভয়াবহ হামলা চালিয়েছে রুশ বাহিনী। বৃহস্পতিবার ওডেসা এবং খারকিভ অঞ্চলে কয়েক দফায় ড্রোন ও মিসাইল হামলা চালানো হয়। খারকিভের একটি বহুতল আবাসিক ভবনে সরাসরি ড্রোন আঘাত হানলে সেখানে আগুন ধরে যায়।

 

এতে বেশ কয়েকজন আহত হন। অন্যদিকে ওডেসা বন্দরে হামলায় শিপিং কন্টেইনারে আগুন লেগে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া খেরসনে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় বেসামরিক নাগরিক নিহতসহ বেশ কয়েকজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

 

চুপ করে বসে নেই ইউক্রেনীয় বাহিনীও। তারাও রাশিয়ার অভ্যন্তরে পাল্টা ড্রোন হামলা জোরদার করেছে। দেশটির বাশকোর্তোস্তান অঞ্চলের উফা শহরে একটি বড় তেল শোধনাগার লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালায় জেলেনস্কি বাহিনী।

 

স্থানীয় প্রশাসন বেশ কয়েকটি ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করলেও সেগুলোর ধ্বংসাবশেষ পড়ে একটি শিল্প এলাকায় আগুনের ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া একটি আবাসিক ভবনও ড্রোনের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই হামলাকে কেন্দ্র করে রুশ সীমান্ত অঞ্চলে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

 

আরও পড়ুন: মুখ থুবড়ে পড়ল বলপূর্বক হরমুজ প্রণালী খোলার উদ্যোগ

 

যুদ্ধের এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই নিজেদের সামরিক শক্তি প্রদর্শন করছে মস্কো। সাইবেরিয়ার বিস্তৃত অঞ্চলে আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক মিসাইল নিয়ে বড় ধরনের মহড়া চালিয়েছে রাশিয়ার কৌশলগত ক্ষেপণাস্ত্র বাহিনী।

 

পারমাণবিক সক্ষমতা সম্পন্ন এই মিসাইলগুলো গোপন রাখা এবং ছদ্মবেশে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে সরিয়ে নেওয়ার কৌশল ঝালিয়ে নিয়েছেন রুশ সেনারা। মূলত পশ্চিমা বিশ্ব এবং ন্যাটো দেশগুলোকে সতর্কবার্তা দিতেই ক্রেমলিনের এই নিয়মিত মহড়া বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

 

এদিকে সংঘাতের প্রভাবে মধ্য ইউরোপের জ্বালানি নিরাপত্তা এখন চরম হুমকির মুখে। ইউক্রেনে রুশ হামলার কারণে গুরুত্বপূর্ণ ড্রুজবা পাইপলাইনের সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, এতে স্লোভাকিয়া ও হাঙ্গেরিতে তেল সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে।

 

আরও পড়ুন: ইউক্রেনের লুহানস্ক অঞ্চল সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে নিলো রাশিয়া!

 

পাইপলাইন বিভ্রাটের কারণে জ্বালানির বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে চেক প্রজাতন্ত্রের মতো দেশগুলো খুচরা বাজারে তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে ব্যবসায়ীদের মুনাফা সীমিত করা এবং শুল্ক কমানোর মতো জরুরি পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হচ্ছে।

]]>
সম্পূর্ণ পড়ুন