পারস্য উপসাগরের উপকূলের কাছে অবস্থিত গুরুত্বপূর্ণ জাহাজ চলাচলের পথ হরমুজ প্রণালী—যা ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক আগ্রাসন শুরু হওয়ার পর থেকে বন্ধ রয়েছে। অনেক চেষ্টা করেও এর নিয়ন্ত্রণ নিতে পারেনি যুক্তরাষ্ট্র। ফলে আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে।
ট্রাম্প বলেন, ‘ইরান প্রায় পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে—কঠিন কাজ শেষ, তাই এখন সহজ হওয়া উচিত। আর যাই হোক, এই সংঘাত শেষ হলে প্রণালীটি স্বাভাবিকভাবেই খুলে যাবে, নিজে থেকেই খুলে যাবে। তারা তেল বিক্রি করতে চাইবে, কারণ পুনর্গঠনের জন্য এটিই তাদের একমাত্র উপায়।’
চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম ২০২২ সালের পর প্রথমবারের মতো প্রতি গ্যালন ৪ ডলারে পৌঁছেছে। কিন্তু ট্রাম্প ব্যয় বৃদ্ধির বিষয়টি কম গুরুত্ব দিয়ে বলেন, প্রণালী খুলে গেলে ‘তেল প্রবাহ আবার শুরু হবে এবং জ্বালানির দাম দ্রুত কমে আসবে।’
তবে জ্বালানি বাজারের বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালী পুনরায় না খুলে শুধু যুদ্ধ শেষ করলেই জ্বালানি সংকটের সমাধান হবে—এমনটা মনে করা ঠিক নয়।
‘যুক্তরাষ্ট্রের হরমুজ প্রণালী দরকার নেই, অন্যদের দরকার’
ভাষণে ট্রাম্প দাবি করেন, হরমুজ প্রণালীর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নির্ভরতা কম। যুক্তরাষ্ট্রের এই প্রণালী দরকার নেই। অন্যান্য দেশের দরকার।তিনি বলেন, বিশ্বের অন্য দেশগুলো জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ও দাম বৃদ্ধির চাপ বেশি বহন করছে। টেলিভিশনে দেয়া ভাষণে ট্রাম্প বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালী দিয়ে প্রায় কোনো তেল আমদানি করে না এবং ভবিষ্যতেও করবে না। আমাদের এর প্রয়োজন নেই।’
আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের মোট তেল ব্যবহারের প্রায় ২০ শতাংশ হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়, যার বেশিরভাগই এশিয়ায় যায়। এই অঞ্চলটি উপসাগরীয় দেশগুলোর তেল ও গ্যাস আমদানির ওপর অনেকটাই নির্ভরশীল।
ট্রাম্প বলেন, ‘যেসব দেশ হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল পায়, তাদেরই এই পথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা উচিত… আমরা সহায়তা করব, কিন্তু যেসব দেশ এই তেলের ওপর সবচেয়ে বেশি নির্ভরশীল, তাদেরই নেতৃত্ব দিতে হবে।’ একই সঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দেন, ঘাটতির মুখে পড়া দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্র থেকে তেল কিনতে পারে।
]]>
১ সপ্তাহে আগে
২








Bengali (BD) ·
English (US) ·