যুক্তরাষ্ট্রে শিখ নেতা পান্নুন হত্যাচেষ্টায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার ভারতীয় নাগরিকের

১ মাস আগে
যুক্তরাষ্ট্রে শিখ বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা ও শিখস ফর জাস্টিস সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা গুরপতবন্ত সিং পান্নুনকে হত্যার ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন নিখিল গুপ্ত নামে এক ভারতীয় নাগরিক। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) নিউইয়র্কের একটি আদালতে এই স্বীকারোক্তি দেন তিনি।

৫৪ বছর বয়সি নিখিল জানিয়েছেন, ২০২৩ সালে পান্নুনকে হত্যার জন্য একজন ‘হিটম্যান’ তথা পেশাদার খুনি ভাড়া করার প্রক্রিয়ায় যুক্ত ছিলেন তিনি।

 

গুরপতবন্ত সিং পান্নুন একজন শিখ রাজনৈতিক কর্মী ও আইনজীবী। তিনি যুক্তরাষ্ট্রে খালিস্তান আন্দোলনের অন্যতম মুখ হিসেবে পরিচিত। তিনি ২০০৯ সাল থেকে শিখস ফর জাস্টিস সংগঠনের জেনারেল কাউন্সেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সংগঠনটি পাঞ্জাবকে স্বাধীন ‘খালিস্তান’ রাষ্ট্র হিসেবে গঠনের দাবিতে আন্তর্জাতিক প্রচার চালিয়ে আসছে।

 

পান্নুনের কর্মকাণ্ডকে ঘিরে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কূটনৈতিক টানাপোড়েন দেখা গেছে। ভারত সরকার তাকে সন্ত্রাসবাদ-সংক্রান্ত মামলায় অভিযুক্ত করেছে এবং সংগঠনটিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। তবে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করে রাজনৈতিক ও আইনি কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।

 

শুক্রবার আদালতে ম্যাজিস্ট্রেট বিচারক সারাহ নেটবার্নের সামনে নিখিল গুপ্ত জানান, তিনি ২০২৩ সালে ভারত থেকে অনলাইনে এক ব্যক্তিকে ১৫ হাজার ডলার পাঠিয়েছিলেন। যাকে তিনি ‘হিটম্যান’ ভেবেছিলেন। প্রকৃতপক্ষে ওই ব্যক্তি ছিল মার্কিন মাদক নিয়ন্ত্রণ সংস্থা ড্রাগ এনফোর্সমেন্ট অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের একজন গোপন সোর্স।

 

আরও পড়ুন: ভারতের ছয় রাজ্য নিয়ে খ্রিস্টানদের জন্য ‘ট্রাম্পল্যান্ড’ গঠনের ডাক

 

আইনজীবী জে ক্লেটন বলেন, ‘নিখিল গুপ্ত নিউইয়র্ক সিটিতে এক মার্কিন নাগরিককে হত্যার ষড়যন্ত্র করেছিলেন। তিনি ভেবেছিলেন, এই দেশের বাইরে থেকে বসে কেবলমাত্র একজনের মতপ্রকাশের সাংবিধানিক অধিকার প্রয়োগ করার কারণে তাকে হত্যা করলেও তার কিছু হবে না। কিন্তু তিনি ভুল ছিলেন, এবং তাকে আইনের মুখোমুখি হতে হবে।’

 

এফবিআই’র নিউইয়র্ক অফিসের প্রধান জেমস সি বার্নাকল জানান, নিখিল গুপ্ত ভারতের একজন সরকারি কর্মকর্তার নির্দেশে এই হত্যার ছক সাজিয়েছিলেন। মার্কিন অভিযোগপত্রে ওই কর্মকর্তার নাম বিকাশ যাদব হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, যিনি বর্তমানে পলাতক।

 

২০২৩ সালের জুনে চেক প্রজাতন্ত্রের প্রাগ বিমানবন্দর থেকে নিখিল গুপ্তকে আটক করা হয় এবং পরে যুক্তরাষ্ট্রে প্রত্যর্পণ করা হয়। তিনি মূলত ‘ভাড়ায় হত্যা’ এবং ‘অর্থপাচার’ সংক্রান্ত ষড়যন্ত্রের অপরাধ স্বীকার করেছেন। আদালতের আইনি নির্দেশিকা অনুযায়ী তার ২০ থেকে ২৪ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। আগামী ২৯ মে তার সাজা ঘোষণার দিন ধার্য করা হয়েছে।

 

এই চাঞ্চল্যকর মামলার শুনানি দেখতে শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) আদালতের বাইরে বিপুল সংখ্যক শিখ সমর্থক জড়ো হন। তারা সেখানে ‘খালিস্তান’ এর সমর্থনে স্লোগান দেন।

 

আরও পড়ুন: শিখ নেতা পান্নুন হত্যার বিচারকাজে নতুন মোড়

 

গুরপতবন্ত সিং পান্নুন এক সাক্ষাৎকারে বলেন, তিনি তার আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। তিনি নিজেকে একজন মানবাধিকার আইনজীবী হিসেবে দাবি করে বলেন, পাঞ্জাবের স্বাধীনতার জন্য তিনি নিজের জীবন দিতেও প্রস্তুত।

 

তিনি নিখিল গুপ্তকে এই ষড়যন্ত্রের একজন সামান্য ‘সৈনিক’ হিসেবে অভিহিত করে ভারত সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান। মার্কিন প্রসিকিউটরদের দাবি, পান্নুনকে হত্যার ষড়যন্ত্রের সঙ্গে ভারত সরকারের একজন কর্মকর্তার যোগসূত্র রয়েছে। যদিও দিল্লি বরাবরই এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।

]]>
সম্পূর্ণ পড়ুন