যুক্তরাজ্যে বেসরকারি সংস্থা দিয়ে ফিলিস্তিনপন্থি শিক্ষার্থীদের ওপর নজরদারির অভিযোগ

১ সপ্তাহে আগে
বারোটি ব্রিটিশ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র বিক্ষোভকারী এবং শিক্ষাবিদের ওপর ‘গুপ্তচরবৃত্তি’ করার জন্য একটি বেসরকারি সংস্থাকে অর্থ প্রদান করেছিল, বিশেষ করে যারা ফিলিস্তিনের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে বিভিন্ন সময় বিক্ষোভ করেছিলেন। সোমবার (২০ এপ্রিল) আল জাজিরার প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়।

 

এতে বলা হয়, সাবেক সামরিক গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের দ্বারা পরিচালিত হত ওই বেসরকারি সংস্থাটি।


আল জাজিরা ইংলিশ এবং লিবার্টি ইনভেস্টিগেটস-এর একটি যৌথ তদন্তে এমন প্রমাণ উদ্ঘাটিত হয়েছে যে, হরাস সিকিউরিটি কনসালটেন্সি লিমিটেড ব্রিটেনের কয়েকটি অভিজাত প্রতিষ্ঠানের পক্ষে শিক্ষার্থীদের সোশ্যাল মিডিয়া ফিড ঘেঁটে দেখেছে এবং গোপনে সন্ত্রাসবিরোধী হুমকি মূল্যায়ন পরিচালনা করেছে।

 

আরও পড়ুন:ইসরাইলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের আহ্বান ব্রিটিশ আইনপ্রণেতাদের


হরাস, যা নিজেকে একটি ‘শীর্ষস্থানীয় গোয়েন্দা’ সংস্থা হিসেবে বর্ণনা করে, ২০২২ সাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কাছ থেকে কমপক্ষে ৪৪০,০০০ পাউন্ড (৫৯৪,০০০ ডলার) পেয়েছে।

 

অভ্যন্তরীণ নথি অনুসারে, যাদের ওপর নজরদারি করা হয়েছিল তাদের মধ্যে ছিলেন ম্যানচেস্টার মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটিতে অতিথি বক্তৃতা দেয়ার জন্য আমন্ত্রিত একজন ফিলিস্তিনি শিক্ষাবিদ এবং লন্ডন স্কুল অফ ইকোনমিক্সের একজন গাজাপন্থি পিএইচডি শিক্ষার্থী।


২০২৪ সালের অক্টোবরে, ব্রিস্টল বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি অভ্যন্তরীণ ইমেল থেকে জানা যায় যে, তারা যেসব ছাত্র প্রতিবাদী গোষ্ঠীর বিষয়ে সতর্কতা বার্তা পেতে আগ্রহী ছিল, তাদের একটি তালিকা প্রতিষ্ঠানটিকে প্রদান করেছিল। এই তালিকায় ফিলিস্তিনপন্থি এবং প্রাণী অধিকার কর্মীরাও অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।

 

মোট ১২টি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের প্রতিবাদ কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের জন্য প্রতিষ্ঠানটিকে অর্থ প্রদান করেছিল। অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে রয়েছে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়, ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডন, ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডন (ইউসিএল), কিংস কলেজ লন্ডন (কেসিএল), শেফিল্ড বিশ্ববিদ্যালয়, লেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়, নটিংহাম বিশ্ববিদ্যালয় এবং কার্ডিফ মেট্রোপলিটন বিশ্ববিদ্যালয় অন্যতম।

 

এই কার্যকলাপটি যে অবৈধ, এমন কোনো ইঙ্গিত নেই। বলছে প্রতিবেদন। 


আল জাজিরা ইংলিশ এবং লিবার্টি ইনভেস্টিগেটস ১৫০টিরও বেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে তথ্য অধিকার (এফওআই) আবেদন জমা দেয়ার পর এই তথ্যগুলো সামনে এসেছে।

 

এই নিবন্ধে উল্লিখিত সমস্ত প্রতিষ্ঠানের কাছে আল জাজিরা এবং লিবার্টি ইনভেস্টিগেটস মন্তব্যের জন্য যোগাযোগ করেছিল।


অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়, ইউসিএল, কেসিএল, লেস্টার বিশ্ববিদ্যালয় এবং নটিংহাম বিশ্ববিদ্যালয় মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেয়নি।

 

এদিকে, শেফিল্ড বিশ্ববিদ্যালয় বলেছে যে, তারা বিশ্ববিদ্যালয়কে প্রভাবিত করতে পারে এমন বিষয়, যেমন বড় আকারের আসন্ন বিক্ষোভ, সম্পর্কে খোঁজখবর নিতে বাহ্যিক পরিষেবা ব্যবহার করে, তবে তারা আরও বলেছে যে, তারা হরাসের সাথে শিক্ষার্থীদের তথ্য শেয়ার করেনি বা কোনো ব্যক্তিকে নজরদারির জন্য নির্দেশ দেয়নি এবং তাদের অগ্রাধিকার হলো আইনসম্মত বিক্ষোভকে সমর্থন করার পাশাপাশি একটি নিরাপদ পরিবেশ বজায় রাখা।

 

এছাড়া ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডন এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে যে, তারা হরাসকে যে পরিষেবাগুলোর জন্য অর্থ প্রদান করে তা শিক্ষার্থীদের ওপর নজরদারির শামিল। একইভাবে তারা বলেছে যে, তারা বাকস্বাধীনতার প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

 

আরও পড়ুন:ইরান যুদ্ধে যোগ দিতে ট্রাম্পের ‘চাপ’, যা বললেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী


কোম্পানির ওয়েবসাইট অনুসারে, সাবেক লেফটেন্যান্ট-কর্নেল জোনাথন হোয়াইটলি ২০০৬ সালে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা দলের একটি প্রকল্প হিসেবে হরাস প্রতিষ্ঠা করেন। 

 

সূত্র: আল জাজিরা

]]>
সম্পূর্ণ পড়ুন