মোহাম্মদপুরে চাপাতি নিয়ে দুর্ধর্ষ ছিনতাই, আতঙ্কে এলাকাবাসী

৬ দিন আগে
মোহাম্মদপুরে আবারও দুর্ধর্ষ ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। শের শাহ সুরি রোডে নিজ বাসার নিচেই চাপাতি আঘাতে দুই ব্যক্তির কাছ থেকে সব কিছু লুট করে নেয়া হয়। মাত্র ২৭ সেকেন্ডেই সর্বস্ব লুট করে পালিয়ে যায় ছিনতাইকারীরা। এতে ওই এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। পুলিশ বলছে, ফুটেজ দেখে জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেফতারে অভিযান চলছে।

রোববার (৫ এপ্রিল) রাত ১২টা ১৬ মিনিটে মোহাম্মদপুরের শের শাহ সুরি রোডে দাঁড়িয়েছিলেন এক ব্যক্তি। ব্যাটারি চালিত অটোরিকশায় তিনজন এসে ওই ব্যক্তির সামনে দাঁড়ায়। দুজন ধারালো অস্ত্রসহ নেমে জিম্মি করেন তাকে। সঙ্গে থাকা সবকিছু ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে ছিনতাইকারীরা। এ সময় বাধা দিলে চাপাতি দিয়ে তাকে আঘাত করা হয়। মাত্র সাতাশ সেকেন্ডেই ওই ব্যক্তির সর্বস্ব লুট করে অটোরিকশায় চলে যায় ছিনতাইকারীরা।


এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, দুজনের হাতেই চাপাতি ছিল। ভুক্তভোগীকে একদিকে নিয়ে চাপাতি দিয়ে পায়ের রানের ওপর দুটি বাড়ি দেয়। এরপর কাঁধের ব্যাগ, মোবাইল, মানিব্যগ নিয়ে নেয়। মানিব্যাগে নাকি ১০ হাজার টাকা ছিল।


তিনি আরও বলেন, এ সময় আমি তালা খুলতে যাই তখন তারা চাপাতি গ্রিল দিয়ে ঢুকিয়ে দিয়ে বলে পেট ফোটা করে দেব।  


এরপর ছিনতাইকারীরা কিছুদূর গিয়ে আরও একজনকেও অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে। সঙ্গে থাকা সবকিছু দিতে না চাওয়ায় চাপাতি দিয়ে আঘাত করে তারা। চাপাতির আঘাত সহ্য করতে না পেরে ছিনতাইকারীদের সব কিছু দিয়ে দেন ভুক্তভোগী।


এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, ওদের ‍দুজনের হাতেই চাপাতি ছিল। ওরা রিকশা থেকে নেমেই প্রথমে চাপাতির পিছন দিক দিয়ে বাড়ি দেয়। তখন উনি কিছু দিতে চাননি। পরে যখন চাপাতির কোপ দেয় তখন উনি সব দিয়ে দেন।


আরও পড়ুন: স্বর্ণালঙ্কার ছিনতাইয়ের আগে ছিনতাইকারীকে খেতে দেন গৃহবধূ!


মোহাম্মদপুরে এমন দৃশ্য যেন নিত্যদিনের সঙ্গী। এ কারণে রাস্তায় বের হতে অনেকেই ভয় পাচ্ছেন।


স্থানীয় এক ব্যবসায়ী বলেন, ১২টা এমন কোনো রাত না। দোকান বন্ধ করতে করতে আমাদের ১০টা বেজে যায়। এখন যদি ৭টায় দোকান বন্ধ করে দেয়া হয়। এ ধরনের ঘটনা বেশি ঘটার আশঙ্কা রয়েছে। এ ব্যাপারে আতঙ্ক বেড়ে যাচ্ছে।


এলাকার এক বাসিন্দা বলেন, আমাদের স্ত্রী-কন্যারা চলাফেরা করে। এ ধরনের ঘটনা ঘটলে আতঙ্কে কেউ চলা-ফেরা করতে পারবে না।


এক প্রবীণ ব্যক্তি বলেন, অস্ত্র নিয়ে আসে। আমাদের মতো মানুষ ভয় পাবে এটাই স্বাভাবিক। পুলিশ টহল বাড়লে হয়তো আমরা কিছুটা নিরাপত্তা পেতে পারি।


পুলিশ বলছে, সিসিটিভির ফুটেজ সংগ্রহ করে ছিনতাইয়ের অংশ নেয়া তিনজনের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে।


ডিএমপির মোহাম্মদপুর জোনের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার মো. জুয়েল রানা বলেন, রাতেই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছি আমরা। আমাদের অভিযানিক টিমের সঙ্গে কথা হয়েছে। এলাকাবাসী তিন ছিনতাইকারীকে চিহ্নিত করতে পেরেছে। তাদের ধরতে অভিযান চলছে।


সিসিটিভির ফুটেজে দেখা যাওয়া তিনজনের বাইরে ছিনতাইয়ে অন্য কেউ জড়িত আছে কিনা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

]]>
সম্পূর্ণ পড়ুন