মুকুলে স্বপ্ন বুনছেন রংপুরের আম চাষিরা

৩ সপ্তাহ আগে
বসন্তে প্রকৃতি সেজেছে নতুন রঙে। আর গাছে গাছে সোনালী রঙের মুকুল যেন প্রকৃতির গোপন কবিতা। এবার বাগান গুলোতে আমের মুকুলের আধিক্য দেখে বাম্পার ফলন আশা করছে বাগানমালিক ও চাষিরা। ধানের পরেই হাঁড়িভাঙা আমের ওপর বেশি ভরসা রংপুরের কৃষকদের।

রংপুর সদরের পালিচড়া, বদরগঞ্জের শ্যামপুর, মিঠাপুকুরের খোড়াগাছসহ বিভিন্ন এলাকা হাঁড়িভাঙা আমের জন্য খ্যাতি পেয়েছে। এসব এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, আমবাগানগুলো হলুদ হয়ে আছে। বসন্ত বাতাসে আমগাছে দোল খাচ্ছে মুকুল। বর্তমানে বাগানগুলোতে চলছে নিবিড় পরিচর্যায় ব্যস্ত আমচাষিরা।


কথা হয় রংপুরের পদাগঞ্জ এলাকার আম বাগানি ইদ্রিস আলীর সঙ্গে। তিন বছরের জন্য প্রায় চার হাজার হাঁড়িভাঙা আম গাছের বেশ কয়েকটি বাগান ২৫ লাখ টাকায় ইজারা নিয়েছেন তিনি। এবার আমের মুকুল দেখে বেশ আশাবাদী। বর্তমানে প্রতিটি গাছে নিবিড় পরিচর্যায় ব্যস্ত এই বাগানি।


সময় সংবাদকে ইদ্রিস আলী বলেন, ‘২৫ লাখ টাকায় কয়েকটি আমবাগন তিন বছরের জন্য লিজ নিয়েছিলাম। গত দুই বছর আশানুরূপ ব্যবসা না হলেও এবার ভালো ব্যবসার আশা করছি। বর্তমানে বাগান গুলোতে পরিচর্যা চলছে। বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে বাম্পার ফলন হবে। দাম ভালো পেলে গত বছরের থেকে দ্বিগুণ লাভের সম্ভাবনা আছে।’


ইদ্রিস আলীর মতো রংপুর অঞ্চলের প্রায় ১২ হাজার বাগান মালিকের ব্যস্ততা এখন বাগান পরিচর্যায়। যাদের মধ্যে বেশিরভাগই লিজ নিয়ে হাড়িভাঙ্গার ব্যবসা করছেন বছরের পর বছর ধরে।


পদাগঞ্জ এলাকার আরেক আম চাষি আব্দুর রহমান বলেন, এবার আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় আমের মুকুলে রোগের আক্রমণ হয়নি খুব একটা। বর্তমানে গাছগুলোতে ছত্রাক নাশক স্প্রে করছি যাতে করে আমের গুটিতে পচন না ধরে।


আরও পড়ুন: রংপুরে আট শতাধিক পরিচ্ছন্নতাকর্মী পেলেন প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার

খোড়াগাছ ইউনিয়নের বাগানমালিক  আবু তাহের বলেন, চলতি মৌসুমে যে মুকুল এসেছে তার ১০ ভাগের এক ভাগ আম উৎপাদন হলেও গতবারের চেয়ে দ্বিগুণ লাভের আশা করা যায়। তবে দাম নিয়ে যথেষ্ট শঙ্কার কথা জানান এই বাগানমালিক।


মিঠাপুকুর উপজেলার হামিদপুর ইউনিয়নের আমচাষি ফাহিম হাসান ফিরোজ বলেন, একটু লাভের আশায় হাড়িভাঙ্গার বাগান কিনে শুরু থেকে পরিচর্যা করছি। এবার বেশি ফলন হবে। তবে বাজারে যদি দাম পাওয়া না যায় তাহলে আমার মত যারা লিজ নিয়ে আম উৎপাদন করছে তারা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।


কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর রংপুর অঞ্চল অতিরিক্ত পরিচালক মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, হাড়িভাঙার উৎপাদন বাড়াতে আমচাষি ও বাগানিদের সব ধরনের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। একইসঙ্গে আম নির্ভর শিল্প কলকারখানা গড়ে তুলতে চেষ্টা চলছে৷ যাতে করে আমের বহুমুখী ব্যবহার বাড়ানো যায়।


চলতি মৌসুমে রংপুর কৃষি অঞ্চলে ২ হাজার ৫শ ৫৬ হেক্টর জমিতে হাঁড়িভাঙা আমের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে প্রায় ৩৮ হাজার মেট্রিক টন। যার বাজার মূল্য ৩শ' কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা কৃষি বিভাগের।

]]>
সম্পূর্ণ পড়ুন