শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকেই মোংলার বিভিন্ন সামাজিক ও পরিবেশবাদী সংগঠনের নেতাকর্মীরা ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে মোংলার রাস্তায় নেমে আসেন। ‘ধরিত্রী রক্ষায় আমরা ধরা’, সুন্দরবন রক্ষায় আমরা ও পশুর রিভার ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ’র আয়োজনে অনুষ্ঠিত জনসমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট পরিবেশ যোদ্ধা শরীফ জামিল।
সমাবেশে তিনি বলেন, সুন্দরবন আমাদের মায়ের মতো আগলে রাখে। কিন্তু আজ জলবায়ু পরিবর্তন আর মানুষের অবিবেচক কর্মকাণ্ডে এই বন বিপন্ন। আমাদের নিজেদের অস্তিত্বের স্বার্থেই সুন্দরবনকে যে কোনো মূল্যে বাঁচাতে হবে।
সমাবেশ পরিবেশবিদ নুর আলম শেখ’র সভাপতিত্বে বিএনপির নেতৃবৃন্দ ছাড়াও স্থানীয় বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দরা এসময় উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা সুন্দরবন রক্ষায় সরকারের প্রতি বিশেষ নজরদারি এবং সুন্দরবন দিবসকে দ্রুত ‘জাতীয় দিবস’ হিসেবে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির দাবি জানান।
দিবসটির বিশেষ আকর্ষণ ছিল সুন্দরবনের বাঘ সহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণী লোকালয় চলে আসলে তাদের বনে তাড়িয়ে দেয়ার কলাকৌশল, র্যালি, চিত্রাংঙ্কন প্রতিযোগীতার উৎসবের আমেজ ছিলো মানুষের মনে গেঁথে রাখার মতো। আয়োজনের বিভিন্ন অনুষ্ঠান দেখতে ভিড় জমান হাজারো উৎসুক জনতা।
আরও পড়ুন: সুন্দরবন ডাকাতমুক্ত করার প্রতিশ্রুতি বিএনপি প্রার্থী সোমনাথ দে’র
স্থানীয়রা জানান, বনের ওপর নির্ভরশীল মানুষের মনোবল বৃদ্ধি এবং দেশিয় সংস্কৃতিকে বাঁচিয়ে রাখতেই প্রতিবছর সুন্দরবন দিবসে এই আয়োজন করা হয়।
এসময় পরিবেশবিদরা তাদের বক্তব্যে সুন্দরবনের ওপর জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব তুলে ধরেন। ক্রমবর্ধমান লবণাক্ততা, নদী ভাঙন এবং অবৈধভাবে বিষ দিয়ে মৎস্য সম্পদ ধ্বংস করছে, এছাড়া অপরিকল্পিত ভাবে বনজ সম্পদ আহরণের ফলে সুন্দরবনের যে ক্ষতি হচ্ছে, তা মোকাবিলায় কঠোর আইন প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের ওপর জোর দেয়া হয়। মোংলার সচেতন নাগরিক সমাজ এই সমাবেশ থেকে বন সংলগ্ন এলাকায় দূষণ সৃষ্টিকারী যেকোনো কর্মকাণ্ড বন্ধের আহ্বান জানায়।
বিশ্ব ভালোবাসা দিবসে সুন্দরবনের প্রতি মানুষের ভালোবাসা অপ্রতুল। আজ ১৪ ফেব্রুয়ারি বিশ্বজুড়ে ভালোবাসা দিবস পালিত হলেও উপকূলীয় মানুষের কাছে এটি সুন্দরবনকে ভালোবাসার দিন। মোংলার আকাশ-বাতাস আজ স্লোগানে মুখরিত— "সুন্দরবন বাঁচাও, উপকূল বাঁচাও"। দিনব্যাপী এই কর্মসূচিতে শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের বার্তা পৌঁছে দেয়া হয় পুরো উপকূলবাসীরদের মাঝে।
আরও পড়ুন: সাগরের ঢেউয়ের তাণ্ডবে হুমকির মুখে সুন্দরবনের পর্যটনকেন্দ্র কটকা
প্রধান অতিথি শরীফ জামিল, সমাবেশে পরিবেশবিদরা উপকূলীয় অঞ্চলে লোনা পানির প্রবেশ, বনের বাঘ ও জীববৈচিত্রের ওপর হুমকি এবং বনের আশপাশে ক্রমবর্ধমান দূষণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন, সুন্দরবন না বাঁচলে দেশের দক্ষিণাঞ্চল মরুভূমিতে পরিণত হবে। তাই আমাদের এবং আমাদের প্রজন্মকে বাঁচিয়ে রাখতে হলে সুন্দরবন রক্ষা করা আমাদের এখনই জরুরি বলে দাবি করেন উপস্থিতজনরা।
তাই বিশ্ব ভালোবাসা দিবসের এই দিনে মোংলার মানুষের অঙ্গীকার ছিল ‘সুন্দরবনকে ভালোবাসুন, সুন্দরবনকে বাঁচান’। দিনব্যাপী নানা আয়োজন র্যালি ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে সুন্দরবনকে রক্ষার এই বার্তা ছড়িয়ে দেয়া হয় প্রতিটি মানুষের হৃদয়ে।

১ মাস আগে
৪







Bengali (BD) ·
English (US) ·