মালয়েশিয়ায় পাচার হওয়া দুই কিশোর উদ্ধার, আট মানবপাচারকারী গ্রেফতার

৩ সপ্তাহ আগে
চট্টগ্রাম থেকে মালয়েশিয়ায় পাচার হওয়া দুই কিশোরকে উদ্ধার করে দেশে ফিরিয়ে এনেছে পুলিশ। একই ঘটনায় জড়িত মানবপাচারকারী চক্রের আট সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে, যাদের মধ্যে তিনজন রোহিঙ্গা।

উদ্ধার হওয়া কিশোররা হলো নগরের চান্দগাঁও থানার মৌলভীপুকুরপাড় এলাকার বাসিন্দা সোহান (১৭) ও ইসমাইল সাগর (১৬)। তারা বন্ধু এবং পড়াশোনার পাশাপাশি স্থানীয় একটি গ্যারেজে কাজ করত।

 

পুলিশ জানায়, গত ১ ফেব্রুয়ারি কক্সবাজার বেড়াতে যাওয়ার কথা বলে তাদের বাড়ি থেকে বের করে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে টেকনাফে নিয়ে মানবপাচারকারী চক্রের কাছে বিক্রি করা হয়। কয়েকদিন একটি গোপন স্থানে আটকে রেখে তাদের ট্রলারে করে সাগরপথে মালয়েশিয়ার উদ্দেশে পাঠানো হয়। উত্তাল সাগর পাড়ি দিয়ে তাদের প্রথমে থাইল্যান্ডে পৌঁছানো হয়, সেখান থেকে আরেকটি চক্রের কাছে বিক্রি করে মালয়েশিয়ায় নেয়া হয়।

 

এ ঘটনায় নিখোঁজের পর সোহান ও ইসমাইলের পরিবার চান্দগাঁও থানায় সাধারণ ডায়েরি করে। পরে ২৬ ফেব্রুয়ারি মানবপাচার আইনে মামলা দায়ের করা হয়। মামলার তদন্তে নেমে চান্দগাঁও থানার পুলিশ প্রথমে চট্টগ্রাম থেকে আব্দুল কাদের মামুন ও ইয়াছিন আরাফাতকে গ্রেফতার করে। পরে চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ এলাকা থেকে মিলন এবং কক্সবাজারের উখিয়া থেকে মোস্তফাকে আটক করা হয়। মোস্তফা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

 

তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কক্সবাজারের কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অভিযান চালায় পুলিশ। পরে ১৭ মার্চ টেকনাফ থানার বড়ইতলী পাহাড় এলাকা থেকে সাব মিয়া (৩৫), শাহ আলম (৩৫) ও মোহাম্মদ হোসেন (৪১) নামের তিন রোহিঙ্গাকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের কাছ থেকেই সোহান ও ইসমাইলকে উদ্ধার করা হয়।

 

আরও পড়ুন: কমলাপুর থেকে অপহৃত শিশু ২৪ ঘণ্টায় উদ্ধার, মূলহোতাসহ গ্রেফতার তিন

 

চান্দগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নুর হোসেন মামুন বলেন, ‘পাচারকারীরা কয়েক ধাপে শিশুদের বিক্রি করে। প্রথম ধাপে তাদের ৩০ হাজার টাকা করে বিক্রি করা হয়েছিল। মালয়েশিয়ায় নেয়ার পর পরিবারের কাছে মুক্তিপণ দাবি করলে বিষয়টি সামনে আসে।’

 

উদ্ধার হওয়া কিশোররা জানায়, একটি ট্রলারে করে আড়াই থেকে তিনশ মানুষ, যেখানে নারী-পুরুষ ও শিশুসহ একসঙ্গে পাচার করা হয়েছিল। তবে তাদের মধ্যে কেবল এই দুইজনই উদ্ধার হয়েছে। মালয়েশিয়ায় নিয়ে যাওয়ার পর তাদের ওপর অমানবিক নির্যাতন চালানো হয় এবং দিনে একবার খাবার দেওয়া হতো।

 

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার আমিরুল ইসলাম বলেন, ‘মালয়েশিয়ার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে পাচার হওয়া অন্যদের উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় জড়িত অন্যদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।’

 

আরও পড়ুন: কাপ্তাইয়ে নিখোঁজ কিশোরী উদ্ধার

 

পুলিশের কর্মকর্তারা জানান, রোহিঙ্গাদের একটি অংশ মানবপাচার চক্রের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়ছে, যা উদ্বেগজনক। 

]]>
সম্পূর্ণ পড়ুন