ভুক্তভোগী ওই শিশু জমিলাতুন নেছা আদর্শ মহিলা হাফিজিয়া মাদ্রাসার কুরআন হিফজ শাখার আবাসিক ছাত্রী। রোববার (১৫ মার্চ) সকালে ঈদুল ফিতরের ছুটিতে মেয়েকে নিতে মাদ্রাসায় গেলে বিষয়টি টের পান তার মা। পরে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
ভুক্তভোগী ছাত্রীর মা অভিযোগ করে বলেন, ‘বাড়ি থেকে মাদ্রাসা দূরে হওয়ায় প্রায় নয় মাস আগে মেয়েকে আবাসিক শাখায় ভর্তি করি। গত ১১ ফেব্রুয়ারি বিকেলে মেয়েকে মাদ্রাসায় রেখে আসি। রোববার ছুটির দিন মেয়েকে আনতে গিয়ে দেখি তার গায়ে প্রচণ্ড জ্বর এবং পায়ে ব্যথার কারণে হাঁটতে পারছে না। কী হয়েছে জানতে চাইলে ভয়ে কিছু বলছিল না।’
তিনি আরও বলেন, ‘বিষয়টি মাদ্রাসার দায়িত্বে থাকা পরিচালকের স্ত্রীকে জানালে তিনি হাসপাতালে না নিয়ে শুধু জ্বরের ওষুধ খাওয়াতে বলেন। এরপর অসুস্থ অবস্থায় মেয়েকে ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করি। সেখানে মেয়ে তার গোপনাঙ্গে ব্যথার কথা জানায়। মেয়ের শরীরে আঘাতের চিহ্ন দেখে জিজ্ঞাসা করলে সে জানায়, রিশা ম্যাডাম তাকে মারধর করেছেন এবং এ কথা কাউকে বলতে নিষেধ করেছেন। ঘটনার পর তারা ওষুধ খাইয়ে মেয়েকে ঘুম পাড়িয়ে রাখত।’
বর্তমানে রাজশাহী মেডিকেলে চিকিৎসাধীন ওই ছাত্রীর শ্বাসকষ্ট শুরু হওয়ায় তাকে অক্সিজেন দেয়া হচ্ছে বলে জানান তার মা।
আরও পড়ুন: তিন মাসের প্রশিক্ষণে ‘ডাক্তার’, ভুল চিকিৎসায় বিপন্ন ১০ শিশুর জীবন
ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ইমার্জেন্সি মেডিকেল অফিসার ডা. পল্লব সাহা বলেন, ‘জ্বর এবং পায়ে ব্যথা নিয়ে মেয়েটির পরিবার হাসপাতালে এসেছিল। পরে পরিবার অভিযোগ করে যে মেয়েটি যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছে। আমাদের হাসপাতালে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) ভর্তি করার পরামর্শ দেয়া হয়।’
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের এক চিকিৎসক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘মেয়েটির অক্সিজেন স্যাচুরেশন নিচে নেমে যাওয়ায় তাকে অক্সিজেন দেয়া হচ্ছে। মেয়েটি চরম বিষণ্ণতায় (ডিপ্রেশন) ভুগছে। ওসিসির দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক জানিয়েছেন, তার যৌনাঙ্গের বহির্ভাগে কোনো ক্ষত না পেলেও ভেতরে আঘাতের (ইন্টারনাল ইনজুরি) চিহ্ন রয়েছে। এর কারণে শরীরে ইনফেকশন ছড়িয়ে পড়েছে। এতে যৌন নির্যাতনের মতো ঘটনা ঘটেছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।’
এসব অভিযোগ অস্বীকার করে মাদ্রাসার পরিচালকের স্ত্রী শামীমা বলেন, ‘নির্যাতন বা যৌন নিপীড়নের অভিযোগ সঠিক নয়। মেয়েটির জ্বর আসার বিষয়টি তার মা আসার পরই জানতে পেরেছি। রিশা ম্যাডামকে জিজ্ঞাসা করেছি, তিনি মারধরের কোনো ঘটনা ঘটেনি বলে জানিয়েছেন।’
ভেড়ামারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ জাহেদুর রহমান বলেন, ‘এক ছাত্রীকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে মাদ্রাসা সুপারকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ ঘটনায় ছাত্রীর মা বাদী হয়ে থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।’
]]>
৩ সপ্তাহ আগে
৪








Bengali (BD) ·
English (US) ·