গ্রেফতার আসামির নাম ছাব্বির আহম্মেদ (১৯)। তিনি ময়মনসিংহ জেলার ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার তুলন্দর দেওয়ানগঞ্জ বাজার এলাকার আব্দুল বারেকের ছেলে। তিনি গাজীপুরের ভবানীপুর এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন।
শুক্রবার (৬ মার্চ) দুপুরে এ হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করে ছাব্বির আহম্মেদ আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানান পিবিআইয়ের অতিরিক্ত আইজিপি মোস্তফা কামাল।
তিনি আরও জানান, নিহত মাহবুব ইসলাম রনি গাজীপুর সদর উপজেলার ভবানীপুর পূর্বপাড়া এলাকার খুরশিদিয়া মারকাজুল উলুম কওমী মাদ্রাসা ও এতিমখানার নাজেরা বিভাগের শিক্ষার্থী ছিল। গত ২৭ ফেব্রুয়ারি রাত প্রায় ৯টার দিকে সে ভবানীপুর পূর্বপাড়া দারুস সালাম জামে মসজিদে তারাবির নামাজ আদায় করে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। এরপর সে আর বাড়ি ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।
আরও পড়ুন: ১৭ দিনেও খোঁজ মেলেনি গাজীপুরে নিখোঁজ মাদ্রাসাছাত্র আহাদের
পরদিন ২৮ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ১১টার দিকে স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে পরিবার জানতে পারে, ভবানীপুর পূর্বপাড়া এলাকার একটি ফলজ ও বনজ গাছপালায় ঘেরা জঙ্গলের ভেতরে আগুনে পোড়া অবস্থায় এক কিশোরের মরদেহ পড়ে আছে। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে পোশাক দেখে পরিবারের সদস্যরা মরদেহটি মাহবুব ইসলাম রনির বলে শনাক্ত করেন।
এ ঘটনায় রনির দাদা তারা মিয়া বাদী হয়ে জয়দেবপুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরে মামলার ছায়া তদন্ত শুরু করে গাজীপুর জেলার পিবিআই। পরে পিবিআইয়ের একটি চৌকস দল তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় গত ৫ মার্চ রাতে ভবানীপুর এলাকা থেকে সন্দেহভাজন ছাব্বির আহম্মেদকে গ্রেফতার করে।
আরও পড়ুন: খেলতে বেরিয়ে এক মাস ধরে নিখোঁজ মাদ্রাসাছাত্র মোমিন
জিজ্ঞাসাবাদে পর আদালতে দেয়া ১৬৪ ধারার জবানবন্দিতে ছাব্বির জানায়, ঘটনার রাতে তিনি জঙ্গলের ভেতরে গাঁজা সেবন করছিল। ওই সময় রনি তাকে দেখে ফেলে এবং বিষয়টি অন্যদের জানিয়ে দেয়ার কথা বলে। এতে ভয় পেয়ে ছাব্বির রনিকে বিষয়টি কাউকে না বলার জন্য অনুরোধ করে। কিন্তু রনি রাজি না হলে ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে গলায় চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। পরে ঘটনাটি গোপন করতে মরদেহে আগুন দিয়ে সেখান থেকে পালিয়ে যায়।

৬ দিন আগে
২







Bengali (BD) ·
English (US) ·