শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে মহম্মদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স মিলনায়তনে বিএমএ’র পক্ষ থেকে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন: বিএমএ’র জেলা সভাপতি ডা. আলিমুজ্জামান।
সংবাদ সম্মেলনে চিকিৎসক, সাংবাদিক ও স্থানীয় সুধীজনরা উপস্থিত ছিলেন।
বিএমএ নেতারা এ ন্যাক্কারজনক হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, চিকিৎসকদের কর্মস্থলে নিরাপত্তা না থাকলে সেবা দেয়া অসম্ভব হয়ে পড়বে। সিসিটিভি ফুটেজে হামলাকারীদের স্পষ্ট দেখা গেলেও এখনো কেন তারা ধরা-ছোঁয়ার বাইরে, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন বক্তারা। তারা স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দেন যে, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আসামিদের আইনের আওতায় না আনা হলে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
হাসপাতাল ও সিসিটিভি ফুটেজ সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত মিলন ও নূর নামে দুই রোগীর চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে যান। মিলনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজে স্থানান্তর করেন এবং নূরকে হাসপাতালে ভর্তি রাখেন।
আরও পড়ুন: হামবোমা বিস্ফোরণে ছিন্ন-ভিন্ন দুই মরদেহ উদ্ধার হলো ১১ ঘণ্টা পর, মামলা করবে পুলিশ
পরবর্তীতে রোগীর স্বজন ইউসুফসহ বেশ কয়েকজন যুবক জরুরি বিভাগে এসে রোগীর বিষয়ে জানতে চান। ওই সময় চিকিৎসক মো. আসাদুর রহমান তাদের কিছুটা অপেক্ষা করতে বললে বাগ্বিতণ্ডার সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ যুবকরা চিকিৎসকের ওপর চড়াও হন এবং তাকে লাঠিসোঁটা ও চেয়ার দিয়ে উপর্যুপরি আঘাত করেন। বাধা দিতে গেলে দায়িত্বরত ডিএসবি সদস্য মাইনুল ইসলামকেও লাঞ্ছিত করা হয় এবং তার মোবাইল ফোনটি কেড়ে নেয়া হয়।
ভুক্তভোগী চিকিৎসক আসাদুর রহমান বলেন, ‘আমি গুরুতর রোগীকে সেবা দিচ্ছিলাম। ওই সময় ৪-৫ জন যুবক এসে কথা বলতে চান। আমি একটু পরে কথা বলতে বলায় তারা অতর্কিত হামলা চালান।’
আরও পড়ুন: ফরিদপুরে সাবেক যুবলীগ নেতার স্ত্রীর নামে দুদকের মামলা
অন্যদিকে, অভিযুক্ত পক্ষের স্বজনদের দাবি, চিকিৎসকের কাছে রোগীর অবস্থা জানতে চাইলে তিনি অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন, যা পরবর্তীতে হাতাহাতিতে রূপ নেয়।
এ ঘটনায় মহম্মদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কাজী আবু আহসান বাদী হয়ে ৬ জনের নাম উল্লেখ করে থানায় মামলা দায়ের করেছেন।
মহম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশরাফুজ্জামান জানান, চিকিৎসককে মারধরের ঘটনায় মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে। শিগগিরই তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।

১ মাস আগে
৫







Bengali (BD) ·
English (US) ·