সবশেষ গত ডিসেম্বর বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি নেমে আসে ৬ দশমিক ১ শতাংশে, যা গত ২০ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। ফলে আমানতের বিপরীতে নির্ধারিত ঋণ বিতরণের লক্ষ্য পূরণ করতে পারছে না ব্যাংকগুলো। বাণিজ্যিক ব্যাংকের ক্ষেত্রে আমানতের বিপরীতে ঋণের হার ৮৯ শতাংশ এবং শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকের ক্ষেত্রে ৯২ শতাংশ থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে তা কমে ৭৮ দশমিক ২৮ শতাংশে নেমেছে। ২০২৪ সালের একই সময়ে এই হার ছিল ৮১ দশমিক ৩২ শতাংশ।
এফবিসিসিআইয়ের সাবেক পরিচালক খন্দকার রুহুল আমিন বলেন, এত বেশি সুদে ব্যাংক ঋণ নিয়ে ব্যবসা চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি প্রতিযোগী দেশগুলোর তীব্র প্রতিযোগিতার চাপও রয়েছে।
বৈশ্বিক শুল্ক যুদ্ধ ও উচ্চ সুদের হার বিনিয়োগকারীদের নিরুৎসাহিত করছে। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের মতে, অতীতে এডিআর (অ্যাডভান্স-ডিপোজিট রেশিও) না মেনে অতিরিক্ত ঋণ বিতরণ এবং ঋণের নামে লুটপাটের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এখন ব্যাংকগুলো সতর্ক হয়েছে।
আরও পড়ুন: দেশের রিজার্ভে বড় সুখবর, এখন কত বিলিয়ন ডলার?
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, আগে কিছু ব্যাংকের এডিআর ৯৯ থেকে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত ছিল। যাদের খেলাপি ঋণের হারও ৯০ শতাংশের ওপরে পৌঁছেছিল। এসব অভিজ্ঞতা থেকে ব্যাংকাররা শিক্ষা নিয়েছেন। এখন ভালোভাবে যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো ঋণ অনুমোদন বা বিতরণ করা হচ্ছে না।
এমন পরিস্থিতিকে অর্থনীতির জন্য বিপজ্জনক বলছেন বিশ্লেষকরা। অর্থনীতিবিদ ড. মাহফুজ কবির মনে করেন, বিনিয়োগের চাহিদা না বাড়লে তা অর্থনীতির জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করবে। এতে ব্যাংক খাতও সংকটে পড়তে পারে। বাংলাদেশ বর্তমানে একটি সংকটময় পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, যা ব্যাংকিং খাতের জন্য অশনিসংকেত হতে পারে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, বৈশ্বিক পরিস্থিতির পাশাপাশি দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি এবং নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে বিনিয়োগকারীরা আগ্রহী হবেন। এতে ব্যাংক খাতে অতিরিক্ত তারল্যের ঝুঁকি কমানো সম্ভব হবে।
]]>
১৭ ঘন্টা আগে
২








Bengali (BD) ·
English (US) ·