মুসলিম ঐতিহ্যের সাক্ষ্য গালুয়ার সেই পাকা মসজিদ

১৫ ঘন্টা আগে
বাংলায় সুলতানি ও মোঘল আমলের প্রাচীন মুসলিম ঐতিহ্যের চিহ্ন নিয়ে আজও দাঁড়িয়ে আছে ঝালকাঠির গালুয়া পাকা মসজিদ। এটি এখন কেবল প্রার্থনার স্থানই নয়, মুসলিম সম্প্রদায়ের সংস্কৃতি ও ইতিহাস এবং গবেষণায় পর্যটনের স্থানেও পরিণত হয়েছে।

গ্রামের নিঝুম পরিবেশে কবে এই মসজিদটি নির্মাণ হয়েছিলো তা সঠিক কারও জানা নেই। তবে মসজিদের গায়ে সুলতানি ও মুঘল আমলের মুসলিম শৈলী দেখে সহজেই বোঝা এটি অনেক প্রাচীন।


এলাকাবাসী জানান, বাংলা ১১২২ সালে স্থানীয় মাহমুদ জান আকন্দ নামে এক ব্যক্তি এটিকে প্রথম আবিষ্কার করেন। এ সময় ঘন জঙ্গলের মধ্যে মসজিদটি আবৃত্ত ছিল। জঙ্গল পরিষ্কারের সময় বড় বড় সাপ দেখা যায়।


জনশ্রুতি রয়েছে, সাপকে মসজিদ ছাড়তে বলে প্রথমে মসজিদের একটি পাশ খুলে দেয়া হয়। তখন সাপগুলো মসজিদ ছেড়ে স্বেচ্ছায় চলে যায়। সেই থেকেই মসজিদটিতে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় হয়ে আসছে আজও। অলৌকিক মসজিদটি অনেকের কাছে জিনের মসজিদ নামেও পরিচিত।


আরও পড়ুন: দৃষ্টিনন্দন এ মডেল মসজিদে একসঙ্গে নামাজ পড়েন ৩ হাজার মুসল্লি!


বর্তমান ঝালকাঠি জেলার রাজাপুর উপজেলার গালুয়া ইউনিয়নের স্থানীয় বাজারের ভান্ডারিয়া-রাজাপুর মহাসড়ক থেকে এক কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। এক গম্বুজ বিশিষ্ট মসজিদটিতে সুলতানি ও মুঘল স্থাপত্যের ছোঁয়া। মসজিদের দেয়ালে খোদাই করা নকশা ও কারুকার্য। পাকা ইট ও চুন-সুরকির মিশ্রণে তৈরি এই স্থাপত্য শৈলী প্রাচীন মুসলিম সংস্কৃতি ও ইতিহাসের সাক্ষ্য বহন করছে। তাই ধর্মপ্রাণ মুসলমানের প্রার্থনার পাশাপাশি এটি এখন পর্যটন ও গবেষণায় বিশেষ স্থানে পরিণত হয়েছে।


তবে সংস্কারের অভাবে অনেকটা জৌলুস হাতে বসেছেন প্রাচীন এই মসজিদটি। মসজিদটির ইতিহাস-ঐতিহ্য এবং ধর্মীয় তাৎপর্য তুলে ধরে সরকারের কাছে সংস্কারের দাবি সবার।


ধর্মীয় ঐতিহাসিক নিদর্শন হিসেবে ১৯৯৯ সালে প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতর মসজিদটিকে সংরক্ষণের আওতায় নেয়।

]]>
সম্পূর্ণ পড়ুন