মক্কা প্রবেশের ঐতিহাসিক মিকাত মসজিদে জুহফা

৩ সপ্তাহ আগে
মক্কা অভিমুখে ছুটে চলা প্রতিটি কদমে মিশে থাকে হাজারো আবেগ। কিন্তু সেই পবিত্র ভূমিতে প্রবেশের আগে আল্লাহর মেহমানদের জন্য রয়েছে নির্দিষ্ট কিছু সীমানা, যাকে আমরা বলি ‘মীকাত’। এমনই এক ঐতিহাসিক ও গুরুত্বপূর্ণ মীকাত হলো ‘জুহফা’।

জেদ্দা থেকে প্রায় ১১০ কিলোমিটার উত্তরে এবং রাবেগ শহরের কাছে অবস্থিত এই মসজিদে জুহফা, উত্তর ও পশ্চিম দিক থেকে আসা হাজীদের ইহরাম বাঁধার পবিত্র স্থান এটি।


ইতিহাসের পাতা উল্টালে দেখা যায়, এই স্থানটি ইসলামের শুরুর সময় থেকেই অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। রাসুলুল্লাহ (সা.) সিরিয়া, মিশর ও মরক্কোর দিক থেকে আসা হাজীদের জন্য এই স্থানটিকে মীকাত হিসেবে নির্ধারণ করে দিয়েছিলেন। 

 

এক সময় এখানে একটি সমৃদ্ধ গ্রাম ছিল, কিন্তু কালের বিবর্তনে তা জনশূন্য হয়ে পড়ে। পরবর্তীতে সৌদি সরকার এখানে এই বিশাল ও আধুনিক মসজিদটি নির্মাণ করেন, যাতে হাজীরা স্বাচ্ছন্দ্যে তাদের ইবাদত ও ইহরামের প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে পারেন।

 

মসজিদে জুহফা আধুনিক স্থাপত্যের এক অনন্য নিদর্শন। প্রায় ৯০০ বর্গমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত এই মসজিদে হাজার হাজার মানুষ একসাথে নামাজ আদায় করতে পারেন। হাজীদের সুবিধার্থে এখানে রয়েছে বিশাল অজুখানা, গোসলখানা এবং ইহরামের কাপড় পরিবর্তনের সুব্যবস্থা। মসজিদের সুউচ্চ মিনার আর বিশাল গম্বুজ মরুভূমির ধূসর প্রান্তরে যেন এক প্রশান্তির ছায়া হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।


এখান থেকেই শুরু হয় মূল যাত্রা। সাদা দুই টুকরো কাপড়ে নিজেকে জড়িয়ে হাজীরা যখন কন্ঠ মিলিয়ে বলেন, "লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক", তখন ধুলোবালির এই পৃথিবী যেন তুচ্ছ হয়ে যায়। মসজিদে জুহফা সেই সাক্ষ্য বহন করে, যেখানে একজন মুমিন তার সমস্ত অহংকার বিসর্জন দিয়ে স্রষ্টার সান্নিধ্যে যাওয়ার চূড়ান্ত প্রস্তুতি নেয়। আপনি যদি উত্তর বা পশ্চিম দিক থেকে মক্কার পথে পা বাড়ান, তবে এই পবিত্র মীকাত আপনার হৃদয়ে এক গভীর আধ্যাত্মিক প্রশান্তি এনে দেবে।

]]>
সম্পূর্ণ পড়ুন