এদিকে ইলিশা ঘাটে নেমে প্রয়োজনীয় পরিবহন না পেয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা। ছিলনা আইন শৃঙ্খলারক্ষা বাহিনীর কোনো তদারকি। যাত্রীদের জিম্মি করে আদায় করা হচ্ছে দ্বিগুন ভাড়া। এমন ভোগান্তি লাগবে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন যাত্রীরা।
ভোট গ্রহণের আরও একদিনের বাকী থাকলেও মঙ্গলবার দুপুরে ভোলার ইলিশা ঘাটে দেখা মিলে ভোট উৎসবের। ঢাকা সদর ঘাট থেকে ছেড়ে আসা লঞ্চগুলো একে একে পন্টুনে ভিড়ছে। লঞ্চ পন্টুনে ভিড়ার সাথে যাত্রীরা মিলে মিশে পছন্দের প্রার্থীর প্রতীকের স্লোগান দিয়ে আনন্দ উপভোগ করেন।
রাজধানীর সদর ঘাট থেকে ছেড়ে আসা প্রত্যেকটি লঞ্চেই কানায় কানায় ভরা যাত্রী। ঢাকা মিরপুরের ব্যবসায়ী মিরাজ হোসেন জানান, ১২ ফেব্রুয়ারির বহুল কাঙ্ক্ষিত সংসদ নির্বাচনে ভোট দিতে সপরিবারের বাড়িতে এসেছেন। তার সাথে আসা দোয়েল পাখি-১ লঞ্চের সব যাত্রী ভোট উৎসবে অংশ নিতে এসেছেন। পুরো লঞ্চেই ছিল ভোটের উৎসব।
তরুণ ভোটার বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র মহিবুল্যাহ রিয়াদারে ভাষ্য, প্রথমবারের মতো ভোট দিবেন। এ কারণে তিনি ঢাকা থেকে এসেছেন। তিনি চান জীবনের প্রথম ভোট যেন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে দিতে পারেন। পথে পথে নানা ভোগান্তিও ভোট উৎসবে অংশ নেয়া থেকে বিরত রাখতে পারেননি গাজীপুরের গার্মেন্ট শ্রমিক মো. আনোয়ারকে।
আনোয়ার জানান, ছুটি কাজে লাগিয়ে নিজের ভোট দিতে এসেছেন। এতে বাড়তি খরচ হবে তাতেই খুশি তিনি।
আরও পড়ুন: ভোলায় কাফনের কাপড় পরে দাঁড়িপাল্লার মিছিল
ঘাটসূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সকালে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা ৬টি লঞ্চ দুপুরে ভোলার ইলিশা ঘাটে পৌঁছায়। এতে প্রায় ১৫ হাজার যাত্রী ছিল। সোমবার রাতে সদর ঘাট থেকে ছেড়ে আসা ৪টি লঞ্চ ভোররাতে ইলিশা ঘাটে যাত্রী নামিয়ে ঢাকায় ফেরত গেছে। এছাড়া গতরাত থেকে (সোমবার) লক্ষ্মীপুরের মজু চৌধুরীর ঘাট হয়ে কয়েক হাজার যাত্রী ভোলায় এসেছে। বরিশাল থেকে যাত্রী বোঝাই করে ভোলায় এসেছে প্রতিটি লঞ্চ।
তবে ঢাকা- চট্টগ্রাম থেকে উৎসাহ নিয়ে আসা যাত্রীরা ইলিশা লঞ্চঘাটে এসে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। যাত্রীর চেয়ে পরিবহন (অটোরিকশা/সিএনজি) কম থাকায় গন্তব্যে পৌছাঁতে দুর্ভোগে পরেছে। অটোরিকশা চালকরা যাত্রীদের জিম্মি করে নিধারিত ভাড়ার চেয়ে দুই থেকে তিনগুন বেশি ভাড়া আদায় করেছেন।
চরফ্যাশনগামী যাত্রী, রিয়াজ সোলায়মান হোনেন জানান, পরিবার পরিজন নিয়ে এসে ঘাটে বিপাকে পড়েছেন। ঢাকা থেকে ইলিশা ঘাটে এসেছেন ৩০০ টাকা করে ভাড়া দিয়ে। আর ইলিশা থেকে চরফ্যাশন যেতে তাদের কাছ থেকে ৫শ’ টাকা করে ভাড়া আদায় করছেন সিএনজি অটো চালকরা।
অপর যাত্রী মনির উদ্দিন জানান, ঘাটে প্রশাসন বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোনো তদারকি নাই। এ সুযোগে যাত্রীদের জিম্মি করে বেশি ভাড়া আদায় করছে। এমন জুলুম বন্ধের দাবি জানান তিনি।
আরও পড়ুন: নির্বাচনী তরী পার হতে শেষ মুহূর্তে ভোলায় নারী ভোটারদের দ্বারে প্রার্থীরা
তবে ঘাটে এমন বিশৃঙ্খলা বন্ধের বিষয়ে আশ্বাস দিয়েছেন জেলা প্রশাসক ডা. শামীম রহমান।
ঘাট সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার ঢাকা ভোলা রুটে ১৬ টি, ভোলা- বরিশাল ও ভোলা - লক্ষ্মীপুর রুটে ২০ লঞ্চে আর্ধলক্ষাধিক যাত্রী ভোলায় এসেছে।

৪ সপ্তাহ আগে
৪







Bengali (BD) ·
English (US) ·