ভুক্তভোগী দুই সাংবাদিক হলেন দৈনিক মানবজমিন পত্রিকার দেবিদ্বার উপজেলা প্রতিনিধি রাসেল সরকার এবং ফেস দ্য পিপল অনলাইন নিউজ পোর্টালের দেবিদ্বার প্রতিনিধি আব্দুল আলীম।
ভুক্তভোগী সাংবাদিক আব্দুল আলিম বলেন, ‘আমার আপন খালাতো বোনের নামজারি নিয়ে গত ১ বছর ধরে ঘুরাচ্ছেন এসিল্যান্ড ফয়সাল আল নূর। আজ (বুধবার) ওই নামজারির শুনানির দিন ছিল। আমাকে তিনদিন আগে আমার খালাতো বোন ফোন করে উপস্থিত থাকার জন্য বলেন। আমি আমার সহকর্মী মানবজমিনের প্রতিনিধি রাসেলকে নিয়ে চান্দিনায় যাই। এর আগে চান্দিনায় কর্মরত আমার পরিচিত সাংবাদিকদের ফোন করি। কিন্তু তারা বিভিন্ন কাজে চান্দিনার বাইরে অবস্থান করায় কাউকে পাইনি। বুধবার ১১টার দিকে আমরা ভূমি অফিসে যাই। দুপুর দুইটা বাজার ২০ মিনিট আগে আমরা এসিল্যান্ডকে জিজ্ঞেস করি শুনানিটা আজ হবে কি না।
এসময় এসিল্যান্ড উত্তেজিত হয়ে আমাদের সঙ্গে খারাপ আচরণ শুরু করেন। আমি পকেট থেকে মোবাইল ফোন বের করে তার খারাপ আচরণের ভিডিও ধারণের সময় তিনি টের পান। এসময় আমার কাছ থেকে জোর করে মোবাইল ফোন কেড়ে নিতে চাইলে আমি বাধা দিই। তাতে ক্ষিপ্ত হয়ে তিনি পুলিশ ফোন করে এনে আমাকে এবং সাংবাদিক রাসেল সরকারকে হাতকড়া পরিয়ে থানায় নিয়ে যেতে পুলিশকে আদেশ দিলে পুলিশ আমাদের হাতকড়া পরিয়ে থানায় নিয়ে যায়।’
আরও পড়ুন: এসিল্যান্ডের জরিমানা করা দোকান থেকে ইফতার মাহফিলের মিষ্টি কিনলেন ইউএনও
তিনি আরও বলেন, থানায় নেয়ার পর আমার কাছ থেকে জোর করে মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে হাতকড়া পরিহিত অবস্থায় মোবাইলের লক খুলে গ্যালারির সব ছবি এবং ভিডিও ডিলিট করে দেন। পরে আমরা এ নিয়ে বাড়াবাড়ি করব না মর্মে জোর করে আমাদের কাছ থেকে মুচলেকা নিয়ে আমাদের মুক্ত করে দিলে আমরা দেবিদ্বার চলে আসি।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফয়সাল আল নূর বলেন, আমার দফতরে মোবাইল ফোন নিয়ে ভিডিও করার কারণে ও সরকারি কর্তব্যকাজে বাধা দেয়ায় তাকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
চান্দিনা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান বলেন, আমরা এ ঘটনায় কোনোভাবে জড়িত নই। একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট যে আদেশ দিয়েছেন আমরা পুলিশ সেটাই পালন করেছি।
অপরদিকে দুই সাংবাদিকের হাতে হাতকড়া পরিহিত একটি ছবি ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। তাতে নিন্দা ও সমালোচনা চলছে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেছে কুমিল্লায় কর্মরত সাংবাদিকরা।
আরও পড়ুন: মাদারীপুর ভূমি অফিসে নেই এসিল্যান্ড, নামজারি ও মিসকেসে জট
এ বিষয়ে কুমিল্লা প্রেসক্লাবের সভাপতি কাজী এনামুল হক ফারুক বলেন, সাংবাদিকেরা সমাজের বিবেক। সাংবাদিকদের স্বাধীনভাবে কাজ করতে দিতে হবে। কাজ করতে গিয়ে সাংবাদিকরা ভুল করলে প্রেস ইন্সটিটিউটের মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারে। কিন্তু দুজন সাংবাদিকের হাতে হাতকড়া পরিয়ে আমাদের হৃদয়ে আঘাত করা হয়েছে। আমরা এর উপযুক্ত বিচার প্রার্থনা করছি।
কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি আমাদের নজরেও এসেছে, আমরা খুবই বিব্রত। আমরা এখনও পুরো ডিটেইলস জানতে পারিনি। তাই মন্তব্য করতে পারছি না। খোঁজ নিয়ে বিস্তারিত জেনে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে।
]]>

১ সপ্তাহে আগে
২








Bengali (BD) ·
English (US) ·