ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কৃষি জমি ভরাটের দায়ে বালু জব্দ, নিলামে 'নামমাত্র' মূল্যে বিক্রি

১ দিন আগে
ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরতলীর শিমরাইলকান্দি এলাকায় অবৈধভাবে ভরাট করা প্রায় ২ লাখ ৯০ হাজার ঘনফুট বালু উন্মুক্ত নিলামে বিক্রি করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। তবে বাজারমূল্যের চেয়ে অনেক কম দামে বালু বিক্রি করায় স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

মঙ্গলবার (১০ মার্চ) বিকেলে সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাসরিন এই অভিযান পরিচালনা করেন।


দীর্ঘদিন ধরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-সিমনা সড়কের পাশে তিতাস নদীর প্লাবন ভূমি ও প্রায় তিন একর কৃষি জমি অবৈধভাবে ভরাট করছিল স্থানীয় কয়েকটি ভূমিখেকু চক্র। খবর পেয়ে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জমির মালিকদের নোটিশ দেওয়া হলেও তারা কোনো সাড়া দেননি। এরই প্রেক্ষিতে মঙ্গলবার বিকেলে ওই এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়।


অভিযান চলাকালে ভরাটকৃত ২ লাখ ৯০ হাজার ঘনফুট বালু উন্মুক্ত নিলামে তোলা হয়। নিলামে ১০ জন অংশগ্রহণকারীর মধ্যে সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে আবুল কালাম ও মুখলেসুর রহমান মাত্র আড়াই লাখ টাকায় বিশাল পরিমাণের এই বালু কিনে নেন।


এদিকে নামমাত্র মূল্যে কৃষি জমির বালি বিক্রি করায় স্থানীয়দের মধ্যে সমালোচনা ঝড় উঠেছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, নূন্যতম ১২ থেকে ১৫ লাখ টাকা মূল্যের বালু তরীঘড়ি করে প্রকাশ্য নিলাম দেওয়ায় সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়েছে। এভাবে তাৎক্ষণিক না দিয়ে আশেপাশের এলাকায় মাইকিং করে উন্মুক্ত নিলাম দিলে সরকার বিপুল পরিমান রাজস্ব পেত।


আরও পড়ুন: জ্বালানির বাজার নিয়ন্ত্রণে মাঠে নামছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত


তবে অভিযানের নেতৃত্বদানকারী নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনর ভূমি নাসরিন বলেন, কৃষি জমি ভরাটের বিরুদ্ধে সরকারি স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। কোনোভাবেই কৃষিজমি ভরাট করা যাবে না মর্মে সরকারের কঠোর নির্দেশনা রয়েছে। যেকোনো মূল্যে সরকারের সেই নির্দেশনা বাস্তবায়ন করা হবে।


তিনি আরও বলেন, তাৎক্ষণিক উন্মুক্ত নিলামে ১০ জন অংশগ্রহণ করেছে, তাদের থেকে সর্বোচ্চ দরদাতার কাছেই বালুগুলো বিক্রি করা হয়েছে। সরকারের বিধি মেনেই উন্মুক্ত নিলাম করা হয়েছে।


তিনি জানান, কৃষি জমি ভারাটের বিরুদ্ধে তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

]]>
সম্পূর্ণ পড়ুন