সরেজমিনে দেখা যায়, মানিকগঞ্জের মাঠের পর মাঠ মরিচ চাষ করা হয়েছে। তবে অতি খরা ও বৃষ্টিতে সনাতন পদ্ধতিতে চাষ করা মরিচ গাছের ফুল-ফল ঝরে যাচ্ছে এবং গাছ ঢলে পড়ে মরে যাচ্ছে। ‘থুবড়া’ বা পাতা কোঁকড়ানোসহ নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন কৃষকরা। তারা বলছেন, রাত-দিন পরিশ্রম করেও লাভের মুখ দেখছেন না।
সনাতন পদ্ধতিতে মরিচ চাষ করা কৃষক আলতাব বলেন, ‘বাপ-দাদা যে নিয়মে মরিচ চাষ করতেন, একইভাবে চাষ করেও, বেশি শ্রম দিয়েও গাছ টেকাতে পারছি না। এমন অবস্থায় খুব কষ্টের মধ্যে আছি।’
রাহুল ইসলাম নামের আরেক কৃষক জানান, গাছে থুবড়া রোগ লাগছে, ফুল-ফল ঝরে পড়ছে। কোনো আশার আলো দেখা যাচ্ছে না। গাছ ঢলে ঢলে মরে যাচ্ছে। অতি খরা ও অতিবৃষ্টিতে মূলত এই সমস্যাগুলো হচ্ছে। কৃষি অফিসের পরামর্শেও কোনো লাভ হচ্ছে না বলে দাবি তার।
আব্দুল সিদ্দিকী নামের এক কৃষক আক্ষেপ করে বলেন, ‘বিঘার পর বিঘা জমির একই অবস্থা। পাতা লাল হয়ে মরে ঝরে পড়ছে। ঋণ করে চাষ করেছি, আমাদের এখন উপায় কী!’
আরও পড়ুন: মানিকগঞ্জ হাসপাতালে দালাল চক্রের ১২ সদস্য গ্রেফতার
অন্যদিকে মানিকগঞ্জে দিন দিন মালচিং পদ্ধতিতে মরিচের চাষাবাদ বাড়ছে। অতি খরা ও বৃষ্টিতে এই পদ্ধতি বেশ টেকসই হওয়ায় লাভবান হচ্ছেন কৃষকরা। একজনের লাভ দেখে অন্যরাও উৎসাহিত হচ্ছেন। গত বছর মানিকগঞ্জে ৭ হেক্টর জমিতে মালচিং পদ্ধতিতে মরিচের চাষ হয়েছিল। এবার তা দ্বিগুণ বেড়ে ১৪ হেক্টরে দাঁড়িয়েছে।
ঘিওর উপজেলার বালিয়াখোরা ইউনিয়নের কাওটা গ্রামের কৃষক আবুল হোসেন বলেন, ‘আমার ভাই গত বছর মালচিং পদ্ধতিতে মরিচের চাষ করেছিল। ভালো লাভ হয়েছে। তাই আমি এ বছর আধা বিঘা জমিতে মালচিং পদ্ধতিতে মরিচ চাষ করেছি। গাছের অবস্থা ভালো। এমন অবস্থা দেখে আশপাশের সকলেই দিন দিন এই পদ্ধতিতে মরিচ চাষে উৎসাহিত হচ্ছেন।’
সিদ্দিকুর রহমান নামের এক কৃষক বলেন, ‘দিন যত গড়াচ্ছে মালচিং পদ্ধতি ততই জনপ্রিয় হচ্ছে। এ বছর সনাতন পদ্ধতিতে মরিচ চাষ করে ধরা খেয়েছি। অনেক ক্ষতি হবে। তাই আগামীতে মালচিং পদ্ধতিতেই চাষ করব।’
এ বিষয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের জেলা প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা মুহাম্মদ মতিউর রহমান জানান, জেলায় এবার মোট ৩ হাজার ৮শ হেক্টর জমিতে মরিচের চাষাবাদ হয়েছে। এর মধ্যে ১৪ হেক্টর জমিতে মালচিং পদ্ধতিতে চাষ করছেন কৃষকরা।
তিনি বলেন, ‘আমরা মূলত কৃষকদের মালচিং পদ্ধতির বিষয়ে পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি এবং তাদের উৎসাহিত করছি। অতি খরা ও অতিবৃষ্টিতে এই পদ্ধতি বেশ কার্যকর। কৃষকরা লাভবান হচ্ছেন। তাই আমরা কৃষকদের বলব, আপনারা মালচিং পদ্ধতিতে চাষাবাদ করতে আসেন।’
যারা সনাতন পদ্ধতিতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন তাদের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘যারা সনাতন পদ্ধতিতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বা পরামর্শ চাচ্ছেন, আমরা তাদের বিভিন্ন কীটনাশক দেয়ার পাশাপাশি মাটি ও পুরো গাছ ভিজিয়ে রাখার পরামর্শ দিচ্ছি। এছাড়া অতিবৃষ্টিতে জমিতে যেন পানি জমে না থাকে, সে বিষয়েও প্রতিনিয়ত পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।’
]]>
৮ ঘন্টা আগে
১







Bengali (BD) ·
English (US) ·