বিশ্ববাজারে কমছে জ্বালানি তেলের দাম, নেপথ্যে কী?

২ দিন আগে
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শিগগিরই শেষ হতে পারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এমন মন্তব্যের ফলে দীর্ঘস্থায়ী সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা কমেছে। এতে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমতে শুরু করেছে।

বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার (১০ মার্চ) ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচারের দাম ৬ দশমিক ৫১ ডলার বা ৬ দশমিক ৬ শতাংশ কমে ব্যারেল প্রতি ৯২ দশমিক ৪৫ ডলারে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে মার্কিন ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম ৬ দশমিক ১২ ডলার বা ৬ দশমিক ৫ শতাংশ কমে ৮৮ দশমিক ৬৫ ডলারে নেমেছে।

 

এর আগে সোমবার তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যায়। ব্রেন্ট ফিউচারের সর্বোচ্চ সেশন ছিল ১১৯ দশমিক ৫০ ডলার, আর ডব্লিউটিআই ১১৯ দশমিক ৪৮ ডলারে পৌঁছায়। ইরানের সঙ্গে মার্কিন-ইসরায়েলি সংঘাতের সময় সৌদি আরবসহ অন্যান্য উৎপাদক দেশের সরবরাহ কমানোয় বিশ্ববাজারে তেলের স্থিতিশীলতায় বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল।

 

তবে রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির পুতিন ও ট্রাম্পের ফোনালাপ এবং ইরান যুদ্ধ দ্রুত শেষ করার প্রস্তাব দেয়ার পর দাম কিছুটা কমে আসে। ট্রাম্প সোমবার এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ‘অত্যন্ত সম্পূর্ণ’ এবং ওয়াশিংটন তার পূর্ব নির্ধারিত চার থেকে পাঁচ সপ্তাহের সময়সীমার চেয়ে অনেক এগিয়ে আছে।

 

আরও পড়ুন: লাফিয়ে বাড়ছে জ্বালানি তেলের দাম, ব্যারেল প্রতি ছাড়াল ১০০ ডলার

 

এদিকে, ইরানের বিপ্লবী গার্ড (আইআরজিসি) জানিয়েছে, মার্কিন ও ইসরইলি আক্রমণ অব্যাহত থাকলে তারা ‘এক লিটারও তেল’ রফতানি করবে না। তবে ট্রাম্পের তেল মজুত মুক্ত করার পরিকল্পনা ও রাশিয়ার ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার সম্ভাবনা দাম বৃদ্ধিকে বাধা দিচ্ছে।

 

আইজি বাজার বিশ্লেষক টনি সাইকামোরের মতে, ‘গত ২৪ ঘণ্টার ঘটনা বিবেচনায় অপরিশোধিত তেলের দাম অত্যন্ত অস্থির থাকবে। আগামী সেশনগুলোতে দাম ৭৫ ডলার থেকে ১০৫ ডলারের মধ্যে লেনদেন হতে পারে।’

 

উপসাগরীয় তেল উৎপাদনকারীরা যুদ্ধ ও জাহাজ চলাচলে বাধার কারণে উৎপাদন কমাতে শুরু করেছে। ইরাকের প্রধান দক্ষিণ তেলক্ষেত্রে উৎপাদন ৭০ শতাংশ কমিয়ে প্রতিদিন ১ দশমিক ৩ মিলিয়ন ব্যারেল হয়েছে, কুয়েত পেট্রোলিয়াম করপোরেশনও উৎপাদন কমাচ্ছে এবং ফোর্স ম্যাজেউর ঘোষণা করেছে। এছাড়া সৌদি আরবও উৎপাদন কমানোর পথে গেছে।

 

জি-৭ দেশগুলো জানিয়েছে, তারা বিশ্বজুড়ে তেলের দাম বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে ‘প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা’ নিতে প্রস্তুত, যদিও জরুরি মজুত মুক্ত করার কোনো প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়নি।

]]>
সম্পূর্ণ পড়ুন