বার্ড ফ্লু নিয়ন্ত্রণে সরকারকে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান খামারিদের

১ সপ্তাহে আগে
বার্ড ফ্লু নিয়ন্ত্রণে অন্তর্বর্তী সরকারকে জরুরি পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ পোল্ট্রি অ্যাসোসিয়েশন (বিপিএ)। বুধবার (২৬ মার্চ) বিপিএর সভাপতি মো. সুমন হাওলাদারের সই করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই আহ্বান জানানো হয়।

এতে বরা হয়েছে, সম্প্রতি বাংলাদেশের পোল্ট্রি খাত বর্তমানে গভীর সংকটের মধ্যে রয়েছে। সম্প্রতি যশোরে একটি খামারে বার্ড ফ্লু (এইচ৫এন১) শনাক্ত হওয়ার পর, দেশের পোল্ট্রি শিল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে। ওই খামারে তিন হাজার ৯৭৮টি মুরগির মধ্যে এক হাজার ৯০০টি মারা গেছে এবং বাকি মুরগি মেরে ফেলা হয়েছে। অতীতে দেখা গেছে, বার্ড ফ্লু প্রাদুর্ভাবের কারণে বহু খামার বন্ধ হয়ে গেছে, লাখ লাখ মুরগি নিধন করতে হয়েছে এবং হাজার হাজার খামারি তাদের জীবিকা হারিয়েছেন।

 

তথ্য তুলে ধরে বিপিএ জানিয়েছে, বাংলাদেশে প্রথমবার ২০০৭ সালের মার্চে বার্ড ফ্লু দেখা দেয় এবং সে বছর ১০ লাখেরও বেশি মুরগি মেরে ফেলা হয়। ওই সময় বাংলাদেশে প্রায় ৩৩৭০টি খামার বন্ধ হয়ে যায়, এবং খামারিরা আর্থিকভাবে বিপর্যস্ত হন। পরবর্তী বছর ২০০৮ সালের মে মাসে বাংলাদেশের মানুষের শরীরে বার্ড ফ্লু সংক্রমণ ধরা পড়ে, যা আরও উদ্বেগ সৃষ্টি করে। ২০০৭ ও ২০০৮ সালে পোল্ট্রি শিল্পের জন্য ব্যাপক ক্ষতির পর, খামারিরা দীর্ঘ সময় ধরে পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করে।

 

২০১৩ সালে বাংলাদেশে আবারও বার্ড ফ্লুর প্রাদুর্ভাব ঘটে, তবে এইবার তেমন বড় আকারে ক্ষতির মুখে পড়েনি পোল্ট্রি শিল্প। তবে ২০১৭ সালের শেষের দিকে বেশ কিছু এলাকায় বার্ড ফ্লু দেখা দেয়, যার ফলে বেশ কিছু খামার ক্ষতির সম্মুখীন হয়। এসব প্রাদুর্ভাবে, প্রায় ৫০ লাখ মুরগি নিধন করতে বাধ্য হয় এবং আরও কিছু খামার বন্ধ হয়ে যায়।

 

আরও পড়ুন: দেশে ফের বার্ড ফ্লু শনাক্ত, ২ হাজার মুরগির মৃত্যু

 

বিপিএ জানিয়েছে, বারবার বার্ড ফ্লু সংক্রমণের আক্রমণ সর্বমোট প্রায় ১৫ থেকে ১৬ হাজার প্রান্তিক খামার বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে এই নতুন প্রাদুর্ভাবের কারণে খামারিদের আর্থিক ক্ষতি আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। অতীতে বার্ড ফ্লু সংক্রমণ রোধে খামারিরা প্রচুর অর্থ ও শ্রম ব্যয় করেছে এবং অনেক খামারি তাদের ব্যবসা বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছেন। বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। সরকার যদি দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নেয়, তবে আরও খামার বন্ধ হয়ে যেতে পারে। সেইসঙ্গে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনীতির ওপর গভীর প্রভাব ফেলবে।

 

সরকার জরুরি পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানিয়ে বিপিএ জানায়, সরকার এবং পোল্ট্রি খাতের সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের একযোগে কাজ করা অত্যন্ত জরুরি। এক্ষেত্রে খামারিরা বায়োসিকিউরিটি ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে নিজেদের ব্যবসার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারেন। খামারের প্রবেশপথ জীবাণুমুক্ত রাখতে হবে, অসুস্থ মুরগি বাজারে বিক্রি করা যাবে না, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন এবং খামারের আশপাশে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে হবে।

 

এদিকে, সরকারকে বাজারে মুরগির বিক্রিতে কঠোর নজরদারি চালানোর আহ্বান জানিয়েছে বিপিএ। এছাড়া বিশেষ টাস্কফোর্স গঠনেরও দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। সেইসঙ্গে ক্ষতিপূরণও দাবি করা হয়।

]]>
সম্পূর্ণ পড়ুন