এর আগে বাংলাদেশকে টুর্নামেন্ট থেকে বাদ দেওয়ার প্রতিবাদে এবং সংহতি জানিয়ে পাকিস্তান সরকার দলকে ভারতের বিপক্ষে মাঠে নামতে নিষেধ করেছিল। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) বাংলাদেশের নিরাপত্তা উদ্বেগকে প্রত্যাখ্যান করে বিশ্বকাপ থেকে তাদের সরিয়ে নেওয়ার পর থেকেই এই অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়।
তবে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে পাকিস্তান, বাংলাদেশ, আইসিসি এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত ও শ্রীলঙ্কাসহ কয়েকটি দেশের ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে একাধিক আলোচনার পর সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) ইউটার্ন নেয় পিসিবি ও দেশটির সরকার।
অবশ্য আনুষ্ঠানিক ঘোষণার আগে পিএসএল নিয়ে সংবাদ সম্মেলনেই ইউটার্নের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন পিসিবি চেয়ারম্যান নাকভি। সরকারি ঘোষণার ঠিক আগে পিএসএলের নিলাম বিষয়ক এক সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেন। সেখানে তাকে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কট প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে তিনি সরাসরি কিছু না বললেও ইঙ্গিত দেন, সিদ্ধান্ত আসন্ন।
আরও পড়ুন: পাকিস্তানের হয়ে বিশ্বকাপে খেলা ক্রিকেটার এবার খেলতে পারেন তাদেরই বিপক্ষে
সংবাদ সম্মেলন শেষে এক সাংবাদিক তার কাছে ভেতরের খবর জানতে চাইলে নাকভি কার্যত ইউটার্নের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
তিনি বলেন, 'নিজেদের জন্য আমরা কিছুই করিনি।'
এরপর সাংবাদিকের সঙ্গে তার সংক্ষিপ্ত কথোপকথন—
নাকভি: 'আর একটু পরেই সিদ্ধান্ত হয়ে যাবে।'
সাংবাদিক: 'ভালো খবর আসছে?'
নাকভি: 'আমরা সব সময়ই ভালো খবর দিই।'
নাকভি আরও বলেন, 'আপনারা নিশ্চয়ই বাংলাদেশের বিবৃতি দেখেছেন। বাংলাদেশ পাকিস্তানকে অনুরোধ করেছে ম্যাচটি খেলতে। স্পষ্টতই তাদের সব বিষয় সমাধান হয়ে গেছে বলেই তারা এই অনুরোধ করেছে।'
বাংলাদেশের কাছ থেকে কোনো শর্ত আদায় করা হয়েছে কি না—এমন প্রশ্নে নাকভির জবাব ছিল স্পষ্ট। তিনি বলেন, 'আমরা বাংলাদেশর জন্য অবস্থান নিয়েছিলাম। বিষয়টা তাদেরই ছিল। নিজেদের জন্য আমরা কিছুই করিনি।'
আরও পড়ুন: ভারত ম্যাচ বয়কটের 'নাটক' করেছে পাকিস্তান
দীর্ঘ এই টানাপোড়েনের অবসানের পর আইসিসিও একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়। বিশ্ব ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি জানায়, 'এই প্রেক্ষাপটে সব সদস্য দেশ একমত হয়েছে যে, আইসিসি ইভেন্টে অংশগ্রহণের শর্ত অনুযায়ী তারা নিজেদের প্রতিশ্রুতি সম্মান করবে এবং চলমান আইসিসি পুরুষদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ সফল করতে প্রয়োজনীয় সবকিছু করবে।'
এদিকে, আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর বরাত দিয়ে ভারতীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, আলোচনার সময় পিসিবি মোট তিনটি দাবি উত্থাপন করেছিল, যার মধ্যে একটি ছিল ভারতের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সিরিজ পুনরায় শুরু করা। তবে আইসিসি ওই তিনটি দাবিই প্রত্যাখ্যান করেছে। সব মিলিয়ে, বাংলাদেশের অনুরোধ, আইসিসির চাপ এবং কূটনৈতিক সমঝোতার মধ্য দিয়ে পাকিস্তান অবশেষে বয়কট থেকে সরে এসে ভারতের বিপক্ষে মাঠে নামার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা চলতি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সবচেয়ে আলোচিত ম্যাচটিকে অবশেষে বাস্তব রূপ দিল।

৪ সপ্তাহ আগে
৭







Bengali (BD) ·
English (US) ·