বরিশালে ‘গোপন বৈঠক’ থেকে গ্রেফতার ৫ শিক্ষার্থী কারাগারে

৩ সপ্তাহ আগে
বরিশাল নগরীর রূপাতলী এলাকায় গোপন বৈঠকের অভিযোগে গ্রেফতার হওয়া ৫ শিক্ষার্থীকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

শুক্রবার (৩ এপ্রিল) রাতে রূপাতলী হাউজিং এলাকার একটি ভাড়া বাসায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।


শনিবার তাদের বরিশাল অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করা হলে বিচারক মোহাম্মদ মিরাজুল ইসলাম রাসেল শুনানি শেষে তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন বলে কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি আল মামুন উল ইসলাম জানান।


কারাগারে পাঠানো ৫ শিক্ষার্থী হলেন- বিশ্ববিদ্যালয়ের মৃত্তিকা ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের (২০১৭-১৮) সেশনের শিক্ষার্থী মাহমুদুল হাসান তমাল, একই বিভাগের আকরাম খান ইমন, সমাজবিজ্ঞান বিভাগের (২০১৪-১৫) সেশনের শিক্ষার্থী মুইদুর রহমান বাকি, একই বিভাগের রাকিবুল ইসলাম রনি ও রুম্মান হাসান।


বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মিজানুর রহমানের করা মামলায় তাদের আসামি করা হয়েছে।


মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, তারা গোপন বৈঠকের মাধ্যমে নিষিদ্ধ সংগঠনের কার্যক্রম সক্রিয় করার চেষ্টা করছিলেন এবং বাদী ও সাক্ষীদের ভয়ভীতি দেখান।


বাদী মিজানুর রহমান দাবি করেন, নগরীর রূপাতলি হাউজিংয়ের ২২ নম্বর রোডে ছায়া নিকেতন বাসভবনে তারা একত্রিত হয়ে সংগঠনের কার্যক্রম চালানো ও বিএনপি সরকার পতন করার পরিকল্পনা করছিলেন। খবর পেয়ে তিনি অন্যদের নিয়ে বাসাটি ঘিরে পুলিশকে জানান। পরে পুলিশ এসে তাদের আটক করে।


তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মাহমুদুল হাসান তমাল। তার দাবি, কিছু শিক্ষার্থী তার বাসায় এসে চাঁদা দাবি করলে তিনি বাধা দেন। এ কারণেই তাকে মামলায় জড়ানো হয়েছে।

 

আরও পড়ুন: চাঁদা না দেয়ায় ছাত্রদল নেতার বাড়িতে অগ্নিসংযোগের অভিযোগ

 

ওই বাসার মালিক শুভ বলেন, ‘বৈষম্যবিরোধী নেতা মাহমুদুল হাসান তমাল এ নিয়ে প্রতিবাদ করতে গেলে তাকে ছাত্রলীগের ট্যাগ দেয় ছাত্রদলের একাংশ। পরে এ নিয়ে বাগবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়ে উভয়পক্ষ। পরে রাতে ছাত্রদলের সভাপতি মোশাররফ হোসেন তাদের দলবল নিয়ে ওই রুমে অবস্থান করা ছাত্রদল নেতা ইমনসহ পাঁচজনকে অবরুদ্ধ করে রাখে। পরে মধ্য রাতে তাদেরকে পুলিশে সোপর্দ করা হয়।’


এদিকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সদস্যসচিব সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘জুলাই আন্দোলনের সময় ছাত্রলীগের ক্যাডাররা তাদের ওপর হামলা চালিয়েছিল। সে সময় তমাল তাদের সঙ্গেই ছিলেন। ১ আগস্ট ছাত্রলীগের ক্যাডাররা আন্দোলনকারীদের অন্তত ১২ জনকে ধরে পুলিশে দেয়। তাদের মধ্যে তমালও ছিলেন। পরে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ যে মামলা করে, তাতেও তমাল সাক্ষী হিসেবে যুক্ত ছিলেন। বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের জুলাই আন্দোলন তমাল ছিলেন প্রথম সারির যোদ্ধা।

 

আরও পড়ুন: গণভোটের পক্ষে ফেসবুকে পোস্ট দেয়ার এক ঘণ্টার মধ্যেই ছাত্রদল নেতা বহিষ্কার

 

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘ইমন যিনি নিজেকে ছাত্রদল নেতা হিসেবে দাবি করছেন তিনি ছাত্রদলের সাথে যুক্ত নন অনেকদিন ধরে। এমনকি তার বাসায় ছাত্রলীগে সম্পৃক্তরা নিয়মিত আড্ডা দিতেন।

 

]]>
সম্পূর্ণ পড়ুন