বইমেলায় মাঙ্গা-ক্রেজ: দীর্ঘ গদ্য ছেড়ে তরুণরা ঝুঁকছে রঙিন কার্টুনে

২ সপ্তাহ আগে
‘হেথা হতে যাও পুরাতন, হেথায় নতুন খেলা আরম্ভ হয়েছে’–কবিগুরুর এই পঙ্‌ক্তির মতোই সময়ের সঙ্গে বদলে যাচ্ছে বাঙালির পাঠাভ্যাস। এবারের অমর একুশে বইমেলায় সেই পরিবর্তনের হাওয়া বেশ জোরালো। প্রথাগত সাহিত্য আর তাত্ত্বিক গবেষণাধর্মী বইয়ের ভিড়ে মেলায় এখন স্বতন্ত্র জায়গা করে নিয়েছে মাঙ্গা ও কার্টুননির্ভর বই। বিশেষ করে তরুণ পাঠকদের মধ্যে এই নতুন ধারা নিয়ে দেখা যাচ্ছে উন্মাদনা।

ঈদের কেনাকাটার ধুম আর উৎসবের আমেজে যেখানে সাধারণ বইয়ের কাটতি নিয়ে কিছুটা শঙ্কা থাকে, সেখানে উল্টো চিত্র দেখা যাচ্ছে মাঙ্গা স্টলগুলোতে। রঙিন ছবি, সংক্ষিপ্ত অথচ ধারালো সংলাপ আর দ্রুতগতির গল্পের কারণে শিশু থেকে তরুণ–সবাইকে টানছে এই জাপানিজ ধাঁচের কমিকস বা মাঙ্গা।
 

প্রথাগত দীর্ঘ গদ্যের বদলে ছবি আর অল্প কথায় গল্প বলা এই ফরম্যাটটি বর্তমান প্রজন্মের কাছে কেবল সহজপাঠ্যই নয়, বরং বিনোদনের এক শক্তিশালী মাধ্যম হয়ে উঠেছে। মেলা ঘুরে দেখা যায়, তরুণরা দলবেঁধে মাঙ্গা সিরিজের নতুন খণ্ডগুলো খুঁজছেন।
 

আরও পড়ুন: সিসিমপুর নেই, বইমেলায় কাকতাড়ুয়া পাপেট শো’তেই মগ্ন শিশুরা


বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী আফিফ হোসেন বলেন, ‘আগে তো শুধু বড় বড় উপন্যাস পড়তাম, কিন্তু এখন মাঙ্গা পড়ার মজাই আলাদা। এখানে চোখের সামনে চরিত্রগুলো জীবন্ত হয়ে ওঠে। ছোট ছোট সংলাপে অনেক বড় গল্প জানা যায়, যা আমাদের এই যান্ত্রিক সময়ে দ্রুত পড়ে শেষ করা সম্ভব।’


কলেজ শিক্ষার্থী লাবিবা হাসান বলেন, ‘কার্টুন বা মাঙ্গা মানেই যে শুধু ছোটদের জন্য, সেই ধারণা এখন বদলেছে। এখানকার আর্টওয়ার্ক আর স্টোরিটেলিং অনেক ম্যাচিউর। এবারের মেলায় আমার প্রধান আকর্ষণই ছিল মাঙ্গা সিরিজের নতুন কালেকশনগুলো।’


প্রকাশকরা বলছেন, পাঠকদের রুচি বদলের এই ছাপ স্পষ্ট। দীর্ঘ বর্ণনার চেয়ে ভিজুয়াল প্রেজেন্টেশন বা দৃশ্যমান উপস্থাপনা এখনকার পাঠকদের বেশি টানছে। মাঙ্গা ও কার্টুন ঘরানার বইয়ের এই বিপুল কাটতি যেন আগামীর নতুন এক পাঠকগোষ্ঠীরই বার্তা দিচ্ছে। প্রথাগত সাহিত্যের পাশাপাশি এই নতুন ধারার সহাবস্থান এবারের বইমেলাকে দিয়েছে এক ভিন্ন মাত্রা।

]]>
সম্পূর্ণ পড়ুন