ফাল্গুনের মৃদু হাওয়ায় আর বসন্তের আবহে শুরু হতে যাচ্ছে বাঙালির প্রাণের উৎসব অমর একুশে বইমেলা। শুরুতে তারিখ নিয়ে অনিশ্চয়তা, পরে স্টল ও প্যাভিলিয়ন বরাদ্দ নিয়ে প্রকাশকদের সঙ্গে বাংলা একাডেমির মতবিরোধ হয়। কয়েক দফা বৈঠকের পর শেষ পর্যন্ত আগামী ২৫ ফেব্রুয়ারি থেকে মেলা শুরুর সিদ্ধান্ত হয়।
প্রকাশকরা জানান, সময়সূচির পরিবর্তন ও অর্থনৈতিক চাপের কারণে তাদের পরিকল্পনায় কিছুটা পরিবর্তন আনতে হয়েছে। তবুও পাঠকের আগ্রহ ধরে রাখতে নতুন বই প্রকাশে তারা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। অন্যন্যা প্রকাশনীর প্রকাশক মনিরুল হক বলেন, যতটুকু প্রস্তুতি রয়েছে, তা নিয়েই এবারের মেলায় অংশ নিতে চাই। পাঠকের চাহিদা মাথায় রেখে কাজ করে যাচ্ছি।
তবে রমজান মাসে মেলা শুরু হওয়ায় অনেক প্রকাশকের মধ্যে সংশয় রয়েছে। তাদের মতে, রোজা, নামাজ ও অন্যান্য ব্যস্ততার কারণে পাঠক সমাগম কম হতে পারে। বাতিঘর প্রকাশনীর প্রকাশক দীপঙ্কর দাস বলেন, রমজানে স্কুল-কলেজ বন্ধ থাকে, অনেক শিক্ষার্থী চাইলেও মেলায় আসতে পারে না। তবে সরকার মেলা আয়োজনের ব্যাপারে আগ্রহী হওয়ায় প্রকাশকরাও তাতে সাড়া দিয়েছেন।
আরও পড়ুন: বইমেলা ২০২৬: চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি, অপেক্ষায় বইপ্রেমীরা
প্রকাশকদের মতে, এবারের মেলায় দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে লেখা বই বেশি থাকবে। পাশাপাশি মতাদর্শ, রাষ্ট্রচিন্তা ও গণতন্ত্রভিত্তিক প্রবন্ধ ও গবেষণাধর্মী বইয়ের সংখ্যাও বেশি হবে। তারা জানান, মতাদর্শের ভিন্নতা থাকলেও এবার লেখকরা কোনো বাধা ছাড়াই বই প্রকাশ করতে পারছেন, যা স্বস্তির বিষয়।
প্রকাশক দীপঙ্কর দাস বলেন, লেখায় বৈচিত্র্য রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। লেখকরা স্বাধীনভাবে লিখছেন এবং প্রকাশকরাও তা প্রকাশ করছেন। তবে রাজনৈতিক বাস্তবতায় অনেক সময় তা কঠিন হয়ে পড়ে। বিশেষ করে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় মবের শঙ্কা ছিল, নির্বাচিত সরকারের সময়ে দেশের পরিবেশ উন্নতি হওয়ায় পরিস্থিতির পরিবর্তন হবে বলে আশা করছি।
এদিকে ছাপাখানাগুলোতে আগের মতো ব্যস্ততা নেই। শ্রমিকরা জানান, সাধারণত এক-দুই মাস আগে থেকেই বইমেলার কাজ শুরু হয়। কিন্তু এবার এখন পর্যন্ত কাজের চাপ তুলনামূলকভাবে কম।
আগামী ২৫ ফেব্রুয়ারি শুরু হবে এবারের অমর একুশে বইমেলা। মেলা চলবে ১৫ মার্চ পর্যন্ত।
]]>
১৭ ঘন্টা আগে
২








Bengali (BD) ·
English (US) ·